Logo
Logo
×
   

Advertisement

সম্পাদকীয়

তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল

অর্থনৈতিক সুরক্ষায় নীতিনির্ধারণ অপরিহার্য

Advertisement

Icon

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল

Advertisement

জাতীয় জীবনে তীব্র গ্যাস সংকট আজ এক অনস্বীকার্য বাস্তবতা। শিল্পকারখানার গতি ধরে রাখা, বিদ্যুৎ উৎপাদন নির্বিঘ্ন করা কিংবা গৃহস্থালি জীবনে স্বস্তি ফেরাতে নিরবচ্ছিন্ন শক্তি সরবরাহ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সংকট মোকাবিলার তাগিদে নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী। তবে জরুরি প্রয়োজনের সুযোগ নিয়ে বিনা টেন্ডারে বা অস্পষ্ট প্রক্রিয়ায় এমন কোনো চুক্তি সম্পাদন করা উচিত নয়, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতি ও সরকারি কোষাগারের ওপর হাজার হাজার কোটি টাকার অনাবশ্যক মাশুল চাপিয়ে দেয়। রোববার যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তৃতীয় এফএসআরইউ বাস্তবায়নে যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা রাষ্ট্রীয় অর্থের সদ্ব্যবহার ও স্বচ্ছতার মানদণ্ডে গভীর উদ্বেগের জন্ম দেয়।

তথ্য বলছে, উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়া সমঝোতার মাধ্যমে একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের উচ্চমূল্যের প্রস্তাবকে সংশ্লিষ্ট মহলে তড়িঘড়ি প্রাধান্য দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে একাধিক মূল্যায়ন কমিটিই অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে। এমনকি সাশ্রয়ী মূল্যে সেবা প্রদান ও নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে টার্মিনালের মালিকানা হস্তান্তরের সুবিধাসংবলিত বিকল্প প্রস্তাব পর্যালোচনা না করেই একপাশে সরিয়ে রাখার অভিযোগও অত্যন্ত দুঃখজনক। কারণ, প্রতিযোগিতাহীন সিদ্ধান্ত ও প্রভাবশালী মহলের চাপে গৃহীত ব্যবস্থা শুধু জাতীয় ক্ষতিরই কারণ হয় না, বরং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির ভিত্তিকেও দুর্বল করে দেয়। অতীতেও নীতিগত অস্পষ্টতার সুযোগে জ্বালানি খাতে অস্বচ্ছ চুক্তির খেসারত জনগণ ও ব্যবসায়ীদের গুনতে হয়েছে, যার পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

এমতাবস্থায় দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সরকারকে অবিলম্বে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। কোনো নির্দিষ্ট সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর স্বার্থে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত না নিয়ে প্রাপ্ত সব প্রস্তাব নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিকমানের কারিগরি কমিটির মাধ্যমে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা জরুরি। এছাড়া, সমঝোতার আড়ালে অপচয় রোধে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ার চর্চা পুনর্বহাল করতে হবে, যাতে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত হয় এবং রাষ্ট্র সর্বনিম্ন ব্যয়ে সর্বোত্তম প্রযুক্তি লাভ করে। বিশেষ করে চুক্তি শেষে অবকাঠামোর মালিকানা পাওয়া যাবে কিনা, তা যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সর্বোপরি, শুধু সাময়িক গ্যাস সংকট মোচনের অজুহাতে হাজার কোটি টাকার মাশুল না গুনে টেকসই, স্বচ্ছ ও জনস্বার্থবান্ধব জ্বালানি নীতির প্রয়োগ নিশ্চিতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম