রাষ্ট্রীয় ব্যাংকে খেলাপির বোঝা
এ ব্যাধির নিরাময় জরুরি
Advertisement
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ এবং আর্থিক খাতের বিশৃঙ্খলা দেশের অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোববার জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত তথ্যে দেখা যায়, মাত্র ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকেই খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকায়। আর্থিক খাতের এই নাজুক পরিস্থিতিতে যখন কঠোর পদক্ষেপ প্রত্যাশিত, তখন অভিযুক্ত ও বিতর্কিত করপোরেট গোষ্ঠীগুলোকে পুনঃতফসিল বা নতুন করে ঋণের সুযোগ দেওয়ার নীতি নিয়ে স্বভাবতই সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন জাগছে।
সংসদে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী করপোরেট সত্তা ও ব্যক্তিসত্তার পৃথক্করণের যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা তাত্ত্বিক বিচারে যৌক্তিক মনে হতে পারে। এটি সত্য, একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বহু মানুষের কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা এবং সামগ্রিক অর্থনীতি যুক্ত থাকে। ঢালাওভাবে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিলে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কর্মী ও ব্যাংকের পাওনা ঝুঁকিতে পড়ে। তবে বাস্তবে যখন দেখা যায় নির্দিষ্ট কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী বছরের পর বছর আইনের ফাঁকফোকর ও রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় ব্যবহার করে ব্যাংক থেকে শত শত কোটি টাকা লোপাট করছে এবং পরবর্তী সময়ে পুনঃতফসিল বা বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে, তখন এই যুক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
খেলাপি ঋণের ব্যাধি নিরাময়ে সুনির্দিষ্টভাবে ঋণ পরিশোধের কঠোর বাধ্যবাধকতা তৈরি করতে হবে। বারবার পুনঃতফসিলের সুবিধা দেওয়া হলে তা সৎ ব্যবসায়ী ও সাধারণ ঋণগ্রহীতাদের একটি ভুল বার্তা দেবে। এতে অপরাধীরা উৎসাহিত হবে এবং খেলাপি ঋণ কমার কোনো বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হবে না। বর্তমানে একদিকে সরকার কৃষিঋণ মওকুফ কিংবা সামাজিক সুরক্ষায় অর্থ ব্যয় করছে, অন্যদিকে বড় খেলাপিদের পেছনে বিশাল আর্থিক তহবিল আটকে থাকছে। ঋণখেলাপি কমাতে হলে ব্যাংক খাতে সুশাসন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীন নজরদারি এখন সময়ের দাবি। কোম্পানি আইনি সত্তা হলেও তা যদি ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের ঢাল হিসাবে ব্যবহৃত হয়, তাহলে সেই আইনের সংস্কার ও কঠোর প্রয়োগ অপরিহার্য। আবেগ দিয়ে যেমন অর্থনীতি চলে না, তেমনই বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও আইনি ফাঁকফোকর দিয়েও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব নয়। খেলাপি ঋণের লাগাম টানতে হলে ছাড় দেওয়ার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।
