Logo
Logo
×
   

Advertisement

সম্পাদকীয়

নিরাপত্তাহীনতায় জনজীবন

রাষ্ট্রের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই

Advertisement

Icon

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

নিরাপত্তাহীনতায় জনজীবন

প্রতীকী ছবি।

Advertisement

দেশে অপরাধের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতার বোধ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন খবরের কাগজ খুললেই খুন, ছিনতাই, সশস্ত্র সংঘর্ষ, প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি কিংবা চাঁদাবাজির খবর চোখে পড়ে। সোমবার যুগান্তরের পাতায় রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে শিক্ষিকার প্রাণ হারানো তথা ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে রাজধানীর বুকে ঘটা একাধিক নৃশংস হত্যার মতো যেসব ঘটনা উঠে এসেছে, তা প্রমাণ করে-অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে ক্রমাগত বেপরোয়া হয়ে উঠছে। শুধু রাজধানীই নয়, প্রকৃত অর্থে সারা দেশেই বর্তমানে কিশোর গ্যাংয়ের নৈরাজ্য, অস্ত্র উঁচিয়ে দোকান কিংবা প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে চাঁদা দাবি এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে অবৈধ দখলদারির ঘটনা ঘটে চলেছে। এমনকি কূটনৈতিক পাড়া ও বিদেশি দূতাবাসগুলোয় চাঁদা চেয়ে হুমকির বার্তা পাঠানোর মতো ঘটনাও ঘটছে, যা কেবল জননিরাপত্তাকেই বিঘ্নিত করছে না, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিসংখ্যানেও অপরাধ বৃদ্ধির ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। বিগত বছরগুলোর তুলনায় সাম্প্রতিক মাসগুলোয় অপরাধের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে ঊর্ধ্বমুখী। পুলিশি তদারকির অভাব এবং অপরাধীদের জামিনে সহজে বেরিয়ে এসে পুনরায় একই অপরাধে জড়ানোর প্রবণতা সামগ্রিক প্রশাসনিক দুর্বলতাকেই উন্মোচিত করে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অপহরণের ঘটনা। জানা যাচ্ছে, দুই হাজারের বেশি শিশু এখনো নিখোঁজ রয়েছে এবং তাদের পরিবারগুলো প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার আশায় প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। বলা বাহুল্য, নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা দেওয়া যেখানে রাষ্ট্রের সংবিধানস্বীকৃত মৌলিক দায়িত্ব, সেখানে সাধারণ মানুষ নিজের বাসস্থান কিংবা রাস্তায় চলাচলেও চরম অস্বস্তি অনুভব করছে।

একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজে নাগরিকরা এভাবে সার্বক্ষণিক আতঙ্কের মধ্যে জীবনযাপন করতে পারে না। এমতাবস্থায় পরিস্থিতির আর যাতে অবনতি না হয়, সেজন্য সরকারকে অবিলম্বে কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে বলে মনে করি আমরা। প্রথমত, দলমত ও রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার অনুকম্পা না দেখিয়ে বিশেষ ও সাঁড়াশি অভিযান জোরদার করা দরকার। অপরাধীরা যেন আইনি ফাঁকফোকর বা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় দ্রুত জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় একই অপরাধ ঘটাতে না পারে, সে বিষয়ে রাষ্ট্রীয় কৌঁসুলিদের অত্যন্ত দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেতরে বিদ্যমান নিষ্ক্রিয়তা বা অপেশাদারি দূর করে সার্বিক নজরদারি আরও বাড়াতে হবে। পাশাপাশি নিখোঁজ শিশুদের খুঁজে বের করতে বিশেষ তদন্ত সেল গঠন এবং ট্রেড-বেজড অপরাধ ও হুন্ডি নেটওয়ার্ক বন্ধে সংশ্লিষ্টদের আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা জরুরি।

মনে রাখতে হবে, কেবল কাগুজে আশ্বাস বা পুলিশি পরিসংখ্যান নয়, বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভেঙে দেশে কঠোর আইনি শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই অপরাধের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা প্রতিরোধ করা এবং জনমনে কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি ফেরানো সম্ভব হবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম