প্রক্রিয়াজাত খাবারের স্বাস্থ্যঝুঁকি, খাদ্যপণ্য ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কঠোর নজরদারি জরুরি
Advertisement
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশি-বিদেশি গবেষকদের একটি দলের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেশের প্রক্রিয়াজাত খাবারের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির চিত্র উঠে এসেছে। দেশের বাজারে প্রচলিত বেকারি পণ্য, স্ন্যাকস, চকলেট, দুগ্ধজাত পণ্য ও কোমল পানীয়ের মতো জনপ্রিয় খাদ্যসামগ্রীতে উদ্বেগজনক মাত্রায় সিসা ও ক্রোমিয়ামের মতো বিষাক্ত ভারী ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান গবেষণা জার্নালে প্রকাশিত এ তথ্য আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গভীর সতর্কবার্তা। কারণ পরীক্ষিত ৩২টি পণ্যের মধ্যে ৩১টিতেই শিশুদের জন্য সম্ভাব্য অ-ক্যানসারজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্ত হয়েছে।
গবেষণায় ক্রিমরোলের মতো শিশুদের প্রিয় খাবারে সিসার মাত্রা নির্ধারিত সীমার চেয়ে ৩৫৭ গুণ বেশি পাওয়া গেছে। কোমল পানীয়ের ক্ষেত্রে এ চিত্র আরও ভয়াবহ; যেখানে সিসার মাত্রা নির্ধারিত সীমার প্রায় ৫৯৪ গুণ বেশি। শিশুদের শারীরিক ওজন কম হওয়ায় এবং তাদের বিপাকীয় প্রক্রিয়া সংবেদনশীল হওয়ার কারণে বিষাক্ত এসব ধাতুর নেতিবাচক প্রভাব তাদের ওপর তুলনামূলক অনেক বেশি পড়ে।
খাদ্যশৃঙ্খলে ভারী ধাতু প্রবেশের বিভিন্ন উৎস থাকতে পারে। মাটি, পানি ও বায়ু দূষণের পাশাপাশি শিল্প-কারখানার উৎপাদন সরঞ্জাম, প্রক্রিয়াজাতকরণের ত্রুটি কিংবা মোড়কজাতকরণের সময়ও খাদ্যে এসব উপাদান মিশে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। যদিও গবেষকরা কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে এর জন্য দায়ী করেননি, তবুও পুরো প্রক্রিয়াজাত খাদ্য খাতের মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যে ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ, তা এ গবেষণায় প্রতীয়মান হয়।
অনিরাপদ খাবার খেয়ে শিশুরা ধীরে ধীরে প্রাণঘাতী নানা জটিলতার দিকে এগিয়ে যাক-তা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। এ সংকট উত্তরণে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক এবং খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে অবিলম্বে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রথমত, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে বাজারে প্রচলিত প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যগুলোর নিয়মিত ও উপযুক্ত ল্যাবরেটরি পরীক্ষা চালাতে হবে। মানহীন ও ক্ষতিকর ধাতুযুক্ত পণ্য বাজার থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এবং দোষী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, খাদ্যপণ্য উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে-কাঁচামাল সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্যাকেজিং পর্যন্ত-গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিসেস (জিএমপি) কঠোরভাবে অনুসরণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। প্রত্যেক নাগরিকের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় নজরদারি আরও জোরদার করার পাশাপাশি খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নৈতিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করা এখন সময়ের দাবি।
