র্যাব থেকে এসআরবি
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে
Advertisement
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের মধ্য দিয়ে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটের কাঠামোগত রূপান্তর ঘটলেও এ পরিবর্তনে সাধারণ মানুষের সংশয় দূর হয়নি। সরকার একে ইতিবাচক পরিবর্তন হিসাবে দাবি করলেও বিরোধী দল ও বিভিন্ন মহলের সমালোচনা প্রমাণ করে, কেবল নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের জমে থাকা আস্থার সংকট দূর করা সম্ভব নয়। অতীতে র্যাবের ভূমিকা নিয়ে বহু গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিরোধী দলকে দমন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ নানাভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় এ বাহিনীর বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও সংস্থা সোচ্চার ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র র্যাব ও এর কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছিল। ফলে র্যাবের বিলুপ্তি সময়ের দাবি হয়ে উঠেছিল।
নতুন আইনে পুরোনো র্যাবের জনবল, সম্পদ, অস্ত্রশস্ত্র, লজিস্টিকস ও অবকাঠামো এসআরবির কাছে হস্তান্তরের বিধান রাখা হয়েছে। সমালোচকদের ভাষায়-এটি ‘নতুন বোতলে পুরোনো পানীয়’ ছাড়া আর কিছু নয়। কারণ, একই জনবল ও কাঠামো বহাল রেখে কেবল নাম পরিবর্তন করলে বাহিনীর কর্মকাণ্ড ও আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আশা করা যায় না। রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও লজিস্টিকসের সুরক্ষা বা সংরক্ষণের প্রয়োজনে সেগুলো হস্তান্তরের যুক্তিসংগত কারণ থাকতে পারে, তবে অতীতের বিতর্কিত কার্যপদ্ধতি ও মানসিকতা থেকে মুক্ত হওয়াটাই আসল চ্যালেঞ্জ। নতুন ইউনিটের সদস্যদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করা হলে সাধারণ মানুষের মনে এ বাহিনী নিয়ে আতঙ্ক ও সংশয় কাটবে না।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবশ্যই জনগণের বন্ধু হতে হবে, বিরোধী দল ও মত দমনের হাতিয়ার নয়। তাই নতুন বাহিনী যাতে ক্ষমতার অপব্যবহার করতে না পারে, সেজন্য কঠোর আইনি বিধান এবং প্রশাসনিক নজরদারি প্রয়োজন। শুধু কাগজে-কলমে অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠন করলেই ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পাবেন না; এর জন্য প্রয়োজন স্বাধীন ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন। অতীতের ভুলত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে এসআরবিকে এমন একটি বাহিনী হিসাবে গড়ে তুলতে হবে, যা শুধু অপরাধ দমনেই নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখবে না, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল থাকবে। পুলিশের নতুন এই বিশেষায়িত ইউনিট যেন জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে র্যাবের মতো ভাবমূর্তি সংকটে না পড়ে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের সর্বোচ্চ সতর্কতা কাম্য।
