রেল খাতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ
নির্ধারিত সময়েই বাস্তবায়িত হোক
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের যোগাযোগ খাতে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসাবে দেশের সর্ব উত্তরের হিমালয়ঘেঁষা পঞ্চগড় থেকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রশহর কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি ব্রডগেজ-ডুয়েলগেজ রেল নেটওয়ার্ক চালুর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেশের অর্থনীতি, পর্যটন এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। ১০৭৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এ রেলপথ হবে দেশের দীর্ঘতম রেলপথ, যা পাহাড় ও সাগরের দূরত্ব ঘুচিয়ে এক সুতোয় গেঁথে দেবে পুরো দেশকে।
দেশের রেল যোগাযোগব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে বিভক্ত থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তাছাড়া মিটারগেজ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং আধুনিক সরঞ্জামের সংকটে রেল খাত কাঙ্ক্ষিত গতি অর্জন করতে পারেনি। বর্তমান সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপে চট্টগ্রাম-দোহাজারী, সিরাজগঞ্জ-বগুড়া, লাকসাম-চট্টগ্রাম, আখাউড়া-টঙ্গী এবং সান্তাহার-বগুড়া-এই পাঁচটি সমন্বিত প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে। লাইন নির্মাণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে এ দীর্ঘ রেলপথ চালু হলে শুধু নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চগতির যাতায়াতই নিশ্চিত হবে না, নতুন করে ২০টি আন্তঃনগরসহ প্রায় আড়াইশ ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হবে। সেই সঙ্গে কনটেইনার পরিবহণ সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে বহুগুণ।
অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই মেগা প্রকল্পটি দেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে বিপ্লব আনবে বলে আমাদের বিশ্বাস। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের উদীয়মান কৃষিপণ্য এবং দক্ষিণাঞ্চলের সামুদ্রিক লবণ ও শুঁটকি সরাসরি খুব কম খরচে ও দ্রুততম সময়ে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিধিও বাড়বে। অন্যদিকে, পর্যটন খাতে এটি বিপ্লব ঘটাবে। দেশি-বিদেশি পর্যটকরা একই যাত্রায় উত্তরবঙ্গের বৈচিত্র্যময় জনপদ থেকে শুরু করে সবুজ পাহাড় এবং নীল সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।
রেল কর্মকর্তারা বলছেন, সাড়ে চার বছরের মধ্যেই এ পথের পাঁচটি প্রকল্প সমাপ্ত করে ট্রেন চালানো সম্ভব হবে। আমরা আশাবাদী, রেলের আধুনিকায়ন এবং ব্রডগেজ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ পদক্ষেপ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়িত হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা এবং নিবিড় তদারকি এ প্রকল্পের সফল সমাপ্তি ত্বরান্বিত করবে। যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এ পদক্ষেপ সফল হবে, এটাই কাম্য।
