আকস্মিক বন্যা
ত্রাণ ও সহায়তা পৌঁছানো জরুরি
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও সাম্প্রতিক ভারি বর্ষণে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও কুষ্টিয়া জেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। শনিবার যুগান্তরের খবরে প্রকাশ-ভারতের ফারাক্কা বাঁধের গেট খুলে দেওয়া এবং উজান থেকে ধেয়ে আসা পানির তোড়ে নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ফলে আকস্মিকভাবে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন তিন জেলার লক্ষাধিক মানুষ। জানা গেছে, বন্যার ফলে ওই অঞ্চলের শত শত হেক্টর ফসলি জমি, বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে; ফলে বন্ধ করে দিতে হয়েছে অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সেই সঙ্গে কোনো কোনো এলাকায় নদীতীরের জমি বিলীন হয়ে শুরু হয়েছে তীব্র নদীভাঙন। ফলে এসব অঞ্চলের জনজীবন স্থবির হয়ে অবর্ণনীয় মানবিক বিপর্যয়ের কারণ হয়েছে।
সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি বিরাজ করছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায়, যেখানে চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর-এ দুই ইউনিয়নেরই ৮০ হাজারের বেশি মানুষ নদীর জোয়ার ও উপচে পড়া পানিতে পুরোপুরি আটকা পড়েছেন। প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে এসব চরাঞ্চলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। একদিকে গৃহপালিত গবাদিপশুর খাদ্যসংকট ও নিরাপদ আশ্রয়ের চরম অভাব, অন্যদিকে বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংকটে পানিবন্দি পরিবারগুলোকে অসহায়ত্বের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। একই সঙ্গে রাজশাহীর গোদাগাড়ী, পবা ও বাঘার চরাঞ্চল এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চলের কয়েক হাজার পরিবারের দিন কাটছে চরম অনিশ্চয়তা ও তীব্র আতঙ্কে। নদীভাঙন গৃহহীন মানুষের আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এমন সংকটময় মুহূর্তে বানভাসি দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছানো সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বলে মনে করি আমরা। সরকারি ও বেসরকারি ত্রাণ যেন কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি ও প্রশাসনিক জটিলতা ছাড়াই দ্রুত প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে পৌঁছায়, তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে। শুধু চাল বা শুকনো খাবারই নয়; বন্যাকবলিত দুর্গম চরাঞ্চলগুলোতে বিশুদ্ধ পানির অভাব মেটাতে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র এবং সার্বক্ষণিক মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা জরুরি। বন্যাকবলিত এলাকার বিদ্যালয় ভবনগুলোকে অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র হিসাবে পুরোপুরি কার্যকর ও উপযোগী করে তোলাও দরকার, যাতে গৃহহীন মানুষ সেখানে আশ্রয় নিতে পারেন।
বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরপরই সরকারের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখা দেবে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র কৃষকদের পুনর্বাসন এবং নদীভাঙন রোধ করা। কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে বিনামূল্যে সার, বীজ, প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ ও স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সুবিধা দিতে হবে। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে উজানের পানিবণ্টন ব্যবস্থা এবং ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জোরদার কূটনৈতিক আলোচনা প্রয়োজন। পাশাপাশি নদী ড্রেজিং ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে নদীর স্বাভাবিক নাব্য ও পানি ধারণক্ষমতা ফিরিয়ে আনার দিকেও নজর দিতে হবে। সর্বোপরি, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবান নাগরিক, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোকে বানভাসি মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসতে হবে।
