চ্যালেঞ্জে টেক্সটাইল খাত
শিল্প সুরক্ষায় চাই জোরালো মনিটরিং
Advertisement
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বন্ড সুবিধার অপব্যবহার ও বিদেশি সুতার অনিয়ন্ত্রিত আগ্রাসনে দেশের সম্ভাবনাময় ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ টেক্সটাইল শিল্প দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক সংকটের মধ্যে রয়েছে। গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে একের পর এক স্পিনিং ও কটন মিল বন্ধ হয়ে পড়ায় হাজার হাজার শ্রমিক কর্মসংস্থান হারিয়েছেন, যার প্রভাবে জাতীয় অর্থনীতিতেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে এনবিআরের ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে কাস্টমস প্রত্যয়নপত্র ও ব্যাংক গ্যারান্টি জমার কঠোর শর্ত আরোপ একটি সময়োপযোগী ও ইতিবাচক পদক্ষেপ। রোববার যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে, রপ্তানির জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা কাঁচামাল বেআইনিভাবে স্থানীয় খোলাবাজারে বিক্রি হওয়ায় দেশীয় মিলগুলো অসম প্রতিযোগিতায় পড়ে উৎপাদনক্ষমতা হারাচ্ছিল। সরকারের নতুন এই নীতির ফলে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোয় যেমন আবার প্রাণের সঞ্চার হতে পারে, তেমনই স্বনির্ভরতার পথও সুগম হবে।
তবে কেবল নীতি প্রণয়ন বা ব্যাংক গ্যারান্টির বিধান চালু করলেই বন্ডের সুতার চোরাচালান সম্পূর্ণ বন্ধ হবে না, যদি না এর প্রয়োগে কঠোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়। অতীতে আর্থিক খাত ও কাস্টমস ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কাগজ জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া রপ্তানি দেখানোর বহু অভিযোগ রয়েছে। সুতরাং, নতুন ব্যবস্থার সুফল পেতে বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর এবং কাস্টমসের মধ্যে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড বা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা আবশ্যক। বিল অব এন্ট্রি, ইউডি এবং রপ্তানি আয় প্রত্যাবাসনের তথ্য যদি প্রযুক্তিনির্ভর কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডে রিয়েল-টাইমে যাচাই করার সুযোগ থাকে, তবে যে কোনো অনিয়ম সহজেই রোধ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত রপ্তানিকারকরা যেন ব্যাংক গ্যারান্টি অবমুক্ত করার ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বা অযথা বিলম্বের শিকার না হন, সেদিকেও নজর রাখা প্রয়োজন।
অনস্বীকার্য, তৈরি পোশাক খাতের মজবুত ভিত্তি ধরে রাখতে স্থানীয় টেক্সটাইল শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার কোনো বিকল্প নেই। অব্যবহৃত উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি সক্রিয় করা গেলে শিল্পে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিপুল সংখ্যক নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব, যা সার্বিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ জন্য বন্ডের সুতার চোরাচালান বন্ধের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ সুনিশ্চিত করা এবং ঋণ সুবিধা সহজ করা দরকার। সরকারের গৃহীত প্রতিরক্ষামূলক নীতির দীর্ঘমেয়াদি ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন এবং আমদানিনির্ভরতা কমবে। নীতিপ্রণেতারা অবিলম্বে সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করে দেশীয় টেক্সটাইল শিল্পকে সুরক্ষা দেবেন-এটাই কাম্য।
