যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আইন
নারীর পেশাগত ও শিক্ষাজীবন নিরাপদ হোক
Advertisement
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নারীর কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে সরকার একটি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে, যা অত্যন্ত সময়োপযোগী। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে নারীরা প্রায়ই নানা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও হয়রানির শিকার হন, যা তাদের শিক্ষা ও পেশাগত জীবনের স্বাভাবিক পথচলাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে। এ বাস্তবতায় নারীর সুরক্ষা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কঠোর বিধান সংবলিত একটি পূর্ণাঙ্গ আইন সময়ের জোরালো দাবি ছিল। আইনটির খসড়ায় কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণের পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক, মৌখিক ও তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে সংঘটিত বিভিন্ন আচরণকে সুনির্দিষ্টভাবে যৌন হয়রানি হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি অপরাধের পরিধি স্পষ্ট করার পাশাপাশি বিচার প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে সহায়ক হবে।
তবে আইনটির খসড়া নিয়ে কিছু বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণও রয়েছে। বিশেষ করে কিছু অফৌজদারি অপরাধকে ফৌজদারি অপরাধের অন্তর্ভুক্ত করার ফলে বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হতে পারে কিনা, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা দরকার। পাশাপাশি, শাস্তির ধারাগুলো কঠোরভাবে প্রতিপালন এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা দ্রুত প্রণয়ন করা প্রয়োজন। অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এ আইনের দুর্বল দিকগুলো সংশোধন করা হলে এটি আরও বেশি ফলপ্রসূ হতে পারে।
আইন প্রণয়নের পাশাপাশি এর সঠিক প্রয়োগ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় সামাজিক ট্যাবু বা ভয়ের কারণে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করতে দ্বিধাবোধ করেন। তাই আইনের খসড়ায় অভিযোগকারী, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের শারীরিক নিরাপত্তা, মানসিক সুস্থতা এবং গোপনীয়তা রক্ষার যে কঠোর বিধান রাখা হয়েছে, তার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই যেন বিচারহীনতার সংস্কৃতি প্রশ্রয় না পায় এবং কেউ যেন মিথ্যা অভিযোগের শিকার হয়ে অযথা হয়রানির মুখে না পড়ে, সেদিকেও নজর রাখা বাঞ্ছনীয়।
একটি বৈষম্যহীন ও নিরাপদ সমাজ গঠনে নারীর জন্য ভয়হীন কর্মপরিবেশ ও শিক্ষাঙ্গন নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। নতুন আইন যেন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে, এর সুফল মাঠপর্যায়ে নারীরা পুরোপুরি ভোগ করতে পারেন-সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। রাষ্ট্র, প্রশাসন ও সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ আইন সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হবে, এটাই কাম্য।
