শিশু সুরক্ষায় রেড অ্যালার্ট
আঁধার কাটাতে উদ্যোগ চাই
Advertisement
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অনলাইনে শিশুদের সুরক্ষার অভাব কতটা আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে, তার এক কদর্য রূপ প্রকাশ পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়েটেড চিলড্রেন’ (এনসিএমইসি)-এর সাম্প্রতিক তথ্যে। সংস্থাটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে-২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সাত বছরে বাংলাদেশে ৯৫ লাখ ৬৪ হাজারের বেশি শিশু নিপীড়ন এবং শিশু পর্নোগ্রাফি-সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা পড়েছে, যা বিশ্বব্যাপী মোট রিপোর্টের সাড়ে ৫ শতাংশেরও বেশি। দুঃখজনক বিষয় হলো, শিশু যৌন নিপীড়নের আন্তর্জাতিক এ তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম সারির শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে। আরও বেশি হতাশাজনক ও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই বিপুলসংখ্যক সুনির্দিষ্ট ডেটা হাতে থাকা সত্ত্বেও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।
তথ্যমতে, টেক জায়ান্ট ফেসবুক, গুগল, মাইক্রোসফটের প্রযুক্তিগত শনাক্তকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে সংগৃহীত এসব রিপোর্টের বেশির ভাগেই অপরাধীকে শনাক্ত করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য দেওয়া থাকে। পুলিশের পক্ষ থেকে জনবল সংকট, ভুক্তভোগী পরিবারের লোকলজ্জার ভয় কিংবা কিছু ভুল রিপোর্টিংয়ের অজুহাত দেওয়া হচ্ছে। জনবল সংকট বা সামাজিক প্রতিবন্ধকতার অজুহাতে কোটি কোটি ডিজিটাল পদচিহ্ন সংবলিত এই অপরাধের পাহাড় চেপে রাখা কোনো দায়িত্বশীল প্রশাসনের কাজ হতে পারে না।
শিশুরা এমনিতেই আত্মরক্ষায় অসমর্থ। মহিলা পরিষদের ভাষ্যমতে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পরিচিত মানুষদের হাতেই শিশুরা এই নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। পরিবারগুলোর আইনি পথে না হাঁটা এবং রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। যখন অপরাধীরা বুঝে যায় যে তাদের ছাড় দেওয়া হবে, তখন তারা আরও বড় অপরাধে উৎসাহিত হয়। অনলাইনে প্রতিটি শিশু নিপীড়নের ঘটনা একটি জাতির ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই মহামারি ঠেকাতে রাষ্ট্রকে অবিলম্বে কঠোর ও সমন্বিত নীতি গ্রহণ করতে হবে।
শিশু সুরক্ষায় রাষ্ট্রের শিথিলতা কেবল একটি প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, এটি একটি ভয়াবহ নৈতিক অবক্ষয়। এনসিএমইসির এই রেড অ্যালার্টকে হেলাফেলা করার কোনো সুযোগ নেই। অবিলম্বে অপরাধীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি না করা হলে আমাদের সাইবার জগৎ শিশুদের জন্য এক ভয়াবহ বিপজ্জনক ফাঁদে পরিণত হবে।
