নিয়ন্ত্রণহীন পেশাদার সন্ত্রাসীরা
আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নিতে হবে
Advertisement
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের বিভিন্ন স্থানে তুচ্ছ ঘটনা, আধিপত্য বিস্তার ও পুরোনো বিরোধের জেরে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে মানুষ। গতকাল যুগান্তরে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে একদিকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির চিত্র প্রকাশ পেয়েছে, অন্যদিকে সামাজিক অবক্ষয়ের বিষয়টিও সামনে এসেছে। কক্সবাজারের মহেশখালীতে চোর সন্দেহে এক যুবককে খুঁটিতে বেঁধে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা, ঢাকার কেরানীগঞ্জে সেলুনে ঢুকে ফিল্মি স্টাইলে যুবককে খুন, চট্টগ্রামের রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় আড়াই বছরে অন্তত ৪০ খুন-এসব ঘটনা দেশবাসীকে আতঙ্কিত করে তুলছে। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে হামলার ঘটনায় বোঝা যায় অপরাধীরা কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
উত্তর চট্টগ্রামের রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ার পরিস্থিতির কথাই ধরা যাক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে রাজনৈতিক বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ নিয়ে সেখানে একাধিক সন্ত্রাসী বাহিনী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বালু, মাটি, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা কামানো এসব বাহিনী সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে দিয়েছে। অন্যদিকে, রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কিশোর গ্যাং ও আন্ডারওয়ার্ল্ডের পুরোনো বিরোধের জের ধরে কেরানীগঞ্জে ঘটা হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে, অপরাধীচক্র তাদের প্রভাব বিস্তারের এলাকা ক্রমেই সম্প্রসারিত করছে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক দিক হলো, সাধারণ মানুষ অপরাধ প্রতিরোধের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে, যার করুণ পরিণতি দেখা যায় মহেশখালীর ফয়সাল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়।
বস্তুত পেশাদার সন্ত্রাসীরা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ায় দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিছু ক্ষেত্রে অপরাধীদের গ্রেফতার ও রহস্য উদ্ঘাটন করলেও সামগ্রিক পরিস্থিতির লাগাম টানতে আরও কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ প্রয়োজন। কেবল বিচ্ছিন্ন অভিযান চালিয়ে অপরাধের শেকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক ও সামাজিক বলয় থেকে সব ধরনের অপরাধী ও চাঁদাবাজদের নির্মূল করতে হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আমরা আশা করব, সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে সরকার সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেবে। অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমেই কেবল এ নৈরাজ্য থামানো সম্ভব।
