আরও তিন মেট্রোরেল
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত কাম্য
Advertisement
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর গণপরিবহণ ব্যবস্থায় গতি আনতে সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার যুগান্তরের খবরে প্রকাশ-একনেক সভায় তিনটি মেট্রোরেলসহ ১২টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। বলা বাহুল্য, বিপুল ব্যয়সাপেক্ষ এসব প্রকল্পের অর্থনৈতিক ও সামাজিক তাৎপর্য সুদূরপ্রসারী হলেও এর বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা ও প্রশাসনিক দক্ষতা প্রয়োজন। বিশ্বব্যাপী বিদ্যমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ আর্থিক চাপের এই সময়ে এত বড় অঙ্কের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে সাহসী, তবে প্রকল্পের অনুমোদনই শেষ কথা নয়। এর প্রকৃত সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হলে শুরু থেকেই স্বচ্ছতা বজায় রাখা, সময়মতো কাজ শেষ করা এবং অপচয় রোধ করা প্রয়োজন।
রাজধানীর গণপরিবহণ ব্যবস্থায় পাতালে মেট্রোরেলের সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের যে হিসাব উপস্থাপন করা হয়েছে, তা দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ ও অর্থনীতি-উভয়ের জন্যই ইতিবাচক। প্রতি প্রকল্পের সুফল হিসাবে হাজার হাজার টন তেল সাশ্রয় এবং কর্মঘণ্টা বাঁচার যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, তা যানজটে জর্জরিত নগরবাসীর জন্য স্বস্তিদায়ক তো বটেই, নিশ্চিতভাবেই তা জাতীয় উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে বড় অবদান রাখবে। তবে অতীতে নানা উন্নয়ন প্রকল্পে যেভাবে বারবার মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিশেষ করে ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মাণের কাজ চলাকালে উপরের বাসাবাড়ির নিরাপত্তা সুনিশ্চিত রাখা, যে কোনো ক্ষতির ক্ষেত্রে অবিলম্বে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের তিন বছরের রক্ষণাবেক্ষণের চুক্তি যেন নিছক আইনি দলিলে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে বিষয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কে সর্বোচ্চ তদারকি বজায় রাখতে হবে।
জাপানি অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কায় তড়িঘড়ি অনুমোদনের যে যৌক্তিকতা সামনে এসেছে, তা আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় মনে হলেও এর দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পরিশোধের চাপ সম্পর্কে উদাসীন থাকা যাবে না। মুদ্রাস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার ওঠানামার মতো বিষয়গুলোকে হিসাবের মধ্যে রেখে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ঋণ ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করাও জরুরি। একইসঙ্গে কারিগরি সক্ষমতায় বিদেশের ওপর একক নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে নিজস্ব প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিনির্ভর জনবল তৈরিতে এখন থেকেই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে পরিচালন ও মেরামতের বড় অংশ দেশেই সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।
একটি আধুনিক মেট্রোপলিটন শহরের পরিবহণ ব্যবস্থা সফল করতে হলে সমন্বিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই। শুধু মেট্রোরেল বা বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুই যথেষ্ট নয়, আমরা মনে করি, প্রতিটি স্টেশনকে অন্যান্য গণপরিবহণের সঙ্গে কার্যকরভাবে সংযুক্ত করতে হবে। একইসঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি নির্মাণকাজের কারণে জনগণের ভোগান্তি ও সার্বিক যানজট যাতে কম হয়, সেজন্য সুনির্দিষ্ট বিকল্প পরিকল্পনাও রাখা চাই। স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষ তদারকি এবং অপচয় রোধের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পগুলোর সফল সমাপ্তি ঘটাতে পারলে তা কেবল ঢাকার যোগাযোগব্যবস্থাই বদলাবে না, বরং জাতীয় প্রবৃদ্ধির চাকাকেও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব মেগা প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে, এটাই প্রত্যাশা।
