বস্ত্র খাতের সমস্যা
সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন
Advertisement
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তির অন্যতম প্রধান ভিত্তি বস্ত্রশিল্প দীর্ঘদিন ধরেই নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) নেতারা সোমবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ খাতে বিদ্যমান সংকট নিরসনে ৫ দফা দাবি পেশ করেছেন। রাষ্ট্রপতি এ খাতের জন্য নীতি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন, অর্থনীতিতে অবদানের স্বীকৃতিও প্রদান করেছেন, যা নিঃসন্দেহে ব্যবসায়ী সমাজকে কিছুটা আশান্বিত করবে। তবে কেবল আশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বস্ত্র খাতের টেকসই উন্নয়নে প্রয়োজন দ্রুত ও সুনির্দিষ্ট নীতিগত পদক্ষেপ।
উল্লেখ্য, পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের প্রসারে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ হিসাবে কাজ করে স্থানীয় স্পিনিং ও প্রাথমিক টেক্সটাইল খাত। কিন্তু সঠিক নীতি সুরক্ষার অভাবে দেশীয় উৎপাদনকারীরা প্রায়ই অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়েন। তাই বন্ড সুবিধায় কম কাউন্টের কটন সুতা আমদানি প্রত্যাহারের আদেশ বহাল রাখার জন্য বিটিএমএ সভাপতির দাবিটি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত। কারণ দেশে পর্যাপ্ত উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও অবাধ সুতা আমদানির সুযোগ রাখা হলে বিশাল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা বাইরে চলে যায়। অর্থনৈতিক এই সংকটকালে বরং দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিলে একদিকে যেমন হাজার হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় সম্ভব, অন্যদিকে দেশীয় মিলগুলোর উৎপাদন ক্ষমতাও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। শিল্প খাতের দ্বিতীয় প্রধান বাধা দীর্ঘদিনের জ্বালানি সংকট। জ্বালানি সরবরাহ পুরোপুরি নিরবচ্ছিন্ন না হলে এবং প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ বজায় না থাকলে বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস সরবরাহে কিছুটা অগ্রগতি অর্জিত হলেও এর দীর্ঘমেয়াদি ও সুষম ধারাবাহিকতা বজায় রাখা দরকার। পাশাপাশি বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের কারণে সরকারের রাজস্বহানির পাশাপাশি দেশীয় বৈধ ব্যবসায়ীরা যে ক্ষতির সম্মুখীন হন, তা রোধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কার্যকর ও কঠোর নজরদারি অপরিহার্য।
মনে রাখতে হবে, কেবল সস্তা শ্রমের ওপর নির্ভর করে আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকার দিন শেষ হয়ে আসছে। বিশেষ করে এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের প্রয়োজন একটি গতিশীল ও সমন্বিত টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল কম্পিটিটিভনেস পলিসি। শিল্প ও অর্থনীতির স্বাভাবিক গতি চাঙা রাখতে বস্ত্র খাতের সুরক্ষায় সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।
