বাজারে এলপিজির অযৌক্তিক মূল্য
ভোক্তারা যেন অসহায় জীব
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তি খুঁজে পাওয়া ভার, দেশে এলপিজির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, অথচ বাজারে এর তীব্র সংকট। সরকার মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে, অথচ খুচরা বিক্রেতারা সিলিন্ডারপ্রতি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা বেশি নিচ্ছেন ক্রেতাদের কাছ থেকে। এ আর্থিক খেসারতের মানে কী? পালটাপালটি অভিযোগ করছে দুই পক্ষ। ডিলাররা বলছেন, নতুন মূল্য নির্ধারণ করার আগেই এলপিজি অপারেটররা সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন। অনেকে বন্ধ করে দিয়েছেন প্ল্যান্ট। আর অপারেটররা এই অভিযোগ অস্বীকার করে ডিলারদের দুষে চলেছেন।
জানা গেছে, বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম ও জাহাজ ভাড়া বাড়ছে, আর বেশি দামের আশায় অপারেটর ও ডিলারদের একটা অংশ এলপিজি বাজারে ছাড়ছে না। দাম বাড়ার কারণ এটাই। অথচ বিইআরসির চেয়ারম্যান বলছেন, এলপিজির সংকট থাকার কোনো কারণ নেই। তিনি তথ্য দিয়েছেন, আগস্টে ১ লাখ ৫৭ হাজার টন এবং সেপ্টেম্বরে ১ লাখ ৫৬ হাজার টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছে। তার এই তথ্য সঠিক হলে তো এলপিজির মোট চাহিদা মেটানো সম্ভব।
আমাদের একটা প্রশ্ন, দেশে এলপিজির মজুত যদি যথেষ্ট হয়ে থাকে, তাহলে ভোক্তাদের এই আর্থিক দুর্ভোগ হবে কেন? এলপিজি অপারেটরদের সংগঠন লেয়ারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেছেন, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দরে এলপিজি বিক্রি অথবা মজুত আইনের চোখে অপরাধ। যদি তা-ই হয়, তাহলে মজুতকারীদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? ওদিকে জ্বালানিমন্ত্রী বলেছেন, এলপিজি সংকটের পেছনে একটি চক্র কাজ করছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায় ও গোয়েন্দাদের পক্ষ থেকে নাকি বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমাদের কথা হলো, এ তদন্ত প্রক্রিয়া কবে নাগাদ শেষ হবে? ভোক্তারা প্রতারিত হওয়ার পর? এসব কাজ তো দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করতে হয়। আমরা সবাই জানি, দেশে চাহিদাসম্পন্ন পণ্য মানেই এর সিন্ডিকেট রয়েছে। এই জানা তথ্যের বিষয়ে তদন্তের কী আছে? ভোক্তাশ্রেণি আসলে কোনোকিছুই বুঝতে চায় না, তারা শুধু চায় যৌক্তিক দামে পণ্য কিনতে। সাধারণ মানুষের এই চাওয়ার প্রতি সরকারকে মনোযোগী হতে হবে অবশ্যই।
