উদ্বেগজনক ডেঙ্গু পরিস্থিতি
সমন্বিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে
Advertisement
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর (শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে ২৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮২ হাজারেরও বেশি মানুষ। ডেঙ্গুর এ পরিস্থিতি ইতোমধ্যে অতীতের ভয়াবহ বছরগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে এবং এটি কেবল ঢাকা নগরীতে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের বিভিন্ন বিভাগে ছড়িয়ে পড়েছে। এককথায়, দেশে ডেঙ্গু মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এদিকে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত তাপমাত্রার ওঠানামা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাতজনিত জলাবদ্ধতা এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ মশার বংশবৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। পাশাপাশি, আক্রান্তদের যথাসময়ে চিকিৎসা না নেওয়া এবং নতুন ভ্যারিয়েন্টের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বস্তুত ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বিস্তার এখন সারা দেশের জন্যই হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং ব্যক্তিগত সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই কেবল এ প্রাণঘাতী পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। এ লক্ষ্যে প্রচলিত মশা নিধন কার্যক্রমের বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও বিজ্ঞানভিত্তিক কৌশল গ্রহণ করা জরুরি। প্রথমত, সিটি করপোরেশনগুলোর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকে ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকাগুলোয় নিয়মিত ও কার্যকর মশক নিধন অভিযান চালাতে হবে। ব্যবহৃত কীটনাশকের মান, কার্যকারিতা ও সঠিক মাত্রা নিয়মিত মনিটর করতে হবে, যাতে ভেজাল বা নিম্নমানের কীটনাশকের ব্যবহার রোধ করা যায়।
ডেঙ্গুর পাশাপাশি হামের বিস্তারও উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে; এ পর্যন্ত ১ হাজার ১২টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগে শিশুমৃত্যু শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করতে হবে। দেশের প্রতিটি প্রান্তে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি অভিভাবকদের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়াতে হবে, যাতে সামান্য উপসর্গ দেখা দিলেই রোগীকে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন করা হয়।
ডেঙ্গু ও হামের প্রাদুর্ভাব দেশের স্বাস্থ্য খাতে এক দ্বিমুখী সংকট সৃষ্টি করেছে। এ দুই রোগ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কেবল চিকিৎসা বা স্বাস্থ্যসেবার ওপর নির্ভর না করে নগর পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স। সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহলকে অবিলম্বে এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে।
