আবারও এলপিজি সংকট
তদারকির ব্যর্থতা অগ্রহণযোগ্য
Advertisement
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে দেশে এলপিজি সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে আবারও ফায়দা লোটার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে সিন্ডিকেট চক্র। মূল্যস্ফীতির এ সময়ে যা জনজীবনের ওপর এক নির্মম আঘাত হিসাবে দেখা দিয়েছে। বলা বাহুল্য, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা এবং পর্যাপ্ত আমদানি সত্ত্বেও হঠাৎ করে বাজারে তীব্র সংকট তৈরি হওয়া এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে সহস্রাধিক টাকার চেয়েও বেশি মূল্যে বিক্রি হওয়া মুক্তবাজার অর্থনীতির নিয়ম নয়, এটি স্পষ্টতই বাজার কারসাজি ও প্রশাসনিক তদারকির চরম ব্যর্থতা। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা কিংবা সরবরাহ শৃঙ্খলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটা অস্বাভাবিক কিছু নয়; কিন্তু সেই সুযোগে দেশীয় আমদানিকারক ও অপারেটরদের একাংশের মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে সরকারকে মূল্যবৃদ্ধিতে বাধ্য করার চেষ্টা মারাত্মক সামাজিক ও অর্থনৈতিক অপরাধ।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্যে উঠে এসেছে, চাহিদামতো আমদানি হওয়া সত্ত্বেও অনেক অপারেটর তাদের ট্যাংকারে গ্যাস মজুত করে রেখেছে বা সাগরে জাহাজ ভাসিয়ে রেখে বাজারে জোগান কমিয়ে দিয়েছে। আমরা মনে করি, ৯৮ শতাংশ এলপিজি সরবরাহের ভার যেখানে হাতেগোনা কয়েকটি বেসরকারি কোম্পানির ওপর ন্যস্ত, সেখানে এই বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য রুখতে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন ও জ্বালানি বিভাগকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। একইসঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ডাটা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অসাধু কারসাজিদের চিহ্নিত করে তাদের আমদানির লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনি শাস্তির আওতায় আনতে হবে। একইসঙ্গে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে আন্তর্জাতিক বাজারের দাম এবং প্রকৃত আমদানি খরচের যৌক্তিক সমন্বয় করে দাম নির্ধারণ করতে হবে, যাতে অপারেটরদের অহেতুক মুনাফার সুযোগ না থাকে এবং খুচরা বাজারে সেই নির্ধারিত দাম নিশ্চিত করতে মোবাইল কোর্ট ও তদারকি জোরদার করতে হবে।
ভুলে গেলে চলবে না, বাজারের পুরো নিয়ন্ত্রণ যাতে গুটিকয়েক বেসরকারি অপারেটরের হাতে জিম্মি হয়ে না পড়ে, সে জন্য সরকারি উদ্যোগে এলপিজি আমদানি ও বিপণন জোরদার করার বিকল্প নেই। রাষ্ট্রকে মনে রাখতে হবে, জ্বালানি খাতের অস্থিতিশীলতা শুধু রান্নাঘরের সংকট নয়, তা সার্বিক মূল্যস্ফীতি ও জনঅসন্তোষের অন্যতম বড় কারণ। সুতরাং অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে মাথানত না করে জনস্বার্থ রক্ষায় সরকারকে কঠোর থেকে কঠোরতর অবস্থান গ্রহণ করতে হবে।
