Logo
Logo
×

Advertisement

সম্পাদকীয়

বেপরোয়া কিশোর গ্যাং

প্রশ্রয়দাতাদেরও দমন করতে হবে

Advertisement

Icon

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বেপরোয়া কিশোর গ্যাং

Advertisement

কিশোর অপরাধের ক্রমবর্ধমান বিস্তার এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় তাদের বেপরোয়া হয়ে ওঠার চিত্রটি সাম্প্রতিক সময়ে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য এক চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের প্রায় সর্বত্রই খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং ভয়াবহ মাদক ব্যবসার পেছনে কিশোর গ্যাংগুলোর প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা উন্মোচিত হচ্ছে। রোববার যুগান্তরের খবরে প্রকাশ, দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এসব অপরাধী চক্রের খোলসও পালটে গেছে। অতীতে রাজনৈতিক সুবিধাভোগী যে কিশোর অপরাধীরা একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় অপকর্ম চালিয়ে আসছিল, তারা এখন নতুন পরিচয়ে এবং অন্য রাজনৈতিক দলের কথিত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছায়ায় আশ্রয় নিয়ে নিজেদের কার্যক্রম বহাল রেখেছে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে পারিবারিক নজরদারির অভাব, শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া, বেকারত্ব, সমাজে অপরাধের মাধ্যমে দ্রুত অর্থ উপার্জনের প্রবণতা এবং ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার বড় ভূমিকা রাখছে। এলাকাভিত্তিক প্রভাব বিস্তার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র ও ক্ষমতার মহড়া এবং সিনিয়র সন্ত্রাসী বা বড় ভাইদের নির্দেশে অপরাধজগতে প্রবেশ করা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী কিংবা দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের প্রলুব্ধ করে এই ধরনের গ্যাংগুলোতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে মাঝে মাঝে কিছু তরুণ বা কিশোর ধরা পড়লেও অপরাধের মূল পরিকল্পনাকারী ও ইন্ধনদাতা গডফাদাররা বেশির ভাগ সময়ই অধরা থেকে যাচ্ছে।

আমরা মনে করি, যতক্ষণ পর্যন্ত এই নেপথ্য পৃষ্ঠপোষকদের আইনের আওতায় না আনা যাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত শুধু চুনোপুঁটি বা সাধারণ কিশোরদের গ্রেফতার করে এই অপরাধ সংস্কৃতির শিকড় উপড়ানো অসম্ভব। এই সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে তাই কঠোর আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি বহুমাত্রিক সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সব ধরনের রাজনৈতিক চাপ বা প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। গ্যাং পরিচালনাকারী শীর্ষ সন্ত্রাসী ও তাদের রাজনৈতিক অভিভাবকদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, পরিবার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। মা-বাবাকে নিশ্চিত করতে হবে যে তাদের সন্তানরা কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে, কোথায় যাচ্ছে এবং কী ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছে। একইসঙ্গে বিদ্যালয় পর্যায় থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে তাদের কারিগরি শিক্ষা ও উপযুক্ত মানসিক পরামর্শ বা কাউন্সেলিংয়ের আওতায় আনতে হবে।

রাজনৈতিক দলগুলোকেও তাদের নিজস্ব স্তরে কঠোর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা তৈরি করতে হবে, যাতে কোনো অপরাধী বা গ্যাং সদস্য ছাত্র বা যুব সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে আশ্রয় না পেতে পারে। নগর ও পাড়া-মহল্লায় তরুণদের সুস্থ বিনোদন, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন, যা তাদের অপরাধ ও মাদকের কালো থাবা থেকে দূরে রাখতে সহায়তা করবে। ঐক্যবদ্ধ সামাজিক প্রতিরোধ এবং কঠোর আইনের প্রয়োগই পারে আমাদের তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে। দেশ থেকে অচিরেই এমন উদ্বেগের অবসান ঘটবে, এটাই প্রত্যাশা।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

বেপরোয়া কিশোর গ্যাং

বেপরোয়া কিশোর গ্যাং

আবারও এলপিজি সংকট

আবারও এলপিজি সংকট

সংকুচিত আয়ের খাত

সংকুচিত আয়ের খাত

উদ্বেগজনক ডেঙ্গু পরিস্থিতি

উদ্বেগজনক ডেঙ্গু পরিস্থিতি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম