ফুটপাত দখল ও উচ্ছেদ
স্থায়ী সমাধানের পদক্ষেপ জরুরি
Advertisement
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ এবং কিছুদিন পর আবার তা দখল হয়ে যাওয়া নগরবাসীর কাছে এক পরিচিত দৃশ্য। ঢাকঢোল পিটিয়ে অভিযান চালানো হয়, পথচারীরা সামান্য কিছুদিনের জন্য স্বস্তি পান; কিন্তু এরপরই স্থানীয় প্রভাবশালী ও অসাধু মহলের যোগসাজশে আগের অবস্থায় ফিরে যায় ফুটপাতগুলো। গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম মার্কেট, মতিঝিল, ফার্মগেট, শ্যামলী, রিং রোড-সর্বত্রই চলছে এই ইঁদুর-বিড়াল খেলা। সম্প্রতি মিরপুরে ফুটপাত দখলমুক্ত করাকে কেন্দ্র করে যে সহিংসতার সৃষ্টি হয়েছে, তা দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত এ সংকটেরই বহিঃপ্রকাশ। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে রাজধানীর জনজীবন ও ট্রাফিক ব্যবস্থায় অচলাবস্থা কাটবে না।
ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে সিটি করপোরেশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান নতুন কিছু নয়। তবে এ ধরনের অভিযান প্রায়ই লোকদেখানো বা সাময়িক পদক্ষেপে রূপ নেয়। উচ্ছেদের ১৫ দিন পার হতে না হতেই হকাররা আবার পুরোদমে বসে পড়ে, যার পেছনে কাজ করে একটি শক্তিশালী চাঁদাবাজ চক্র। প্রতিদিন লাইনের নামে চাঁদা না দিলে হকাররা ব্যবসা করতে পারে না। অথচ উচ্ছেদের ক্ষেত্রে এই চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য বন্ধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না।
হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়টি বারবার সামনে এলেও তা কেবল প্রতিশ্রুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। অতীতে ‘হলিডে’ ও ‘নাইট মার্কেট’ চালুর পরিকল্পনা বা নানা উদ্যোগের কথা বলা হলেও তার সুফল হকাররা পায়নি। হকারদেরও পেটের দায় ও জীবন সংগ্রামের বাস্তবতা রয়েছে। তাই তাদের ওপর কেবল দমনপীড়ন চালালে সংঘাতের ঝুঁকি কেবল বাড়বেই। রাষ্ট্র যখন সব নাগরিকের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়, তখন জীবিকার তাগিদেই মানুষ বাধ্য হয়ে হকারবৃত্তির পথ বেছে নেয়। এ বাস্তবতাকে পাশ কাটিয়ে কেবল প্রশাসনিক বলপ্রয়োগ করে হকারদের দীর্ঘকাল হটিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
এ সংকট থেকে উত্তরণে বহুমুখী ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রথমত, প্রশাসনিক অভিযানকে শুধু লোকদেখানো বা সাময়িক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ না রেখে ফুটপাতের চাঁদাবাজ ও সিন্ডিকেট ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, হকারদের পুনর্বাসনের জন্য সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর স্থান নির্ধারণ করতে হবে, যেমনটি উন্নত দেশগুলোতে দেখা যায়। তৃতীয়ত, সিটি করপোরেশন, প্রশাসন এবং হকার প্রতিনিধিদের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য নীতিমালা তৈরি করতে হবে, যাতে হকারদের জীবিকা এবং পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচলের অধিকার-দুটিই সুরক্ষিত থাকে।
