Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

ডাকসুতে ভিপি-জিএসসহ ২৩টিই সাদিক-ফরহাদ প্যানেলের

শিবিরের নিরঙ্কুশ বিজয়

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

শিবিরের নিরঙ্কুশ বিজয়

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে শিবির-সমর্থিত প্যানেল নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে। ভিপি-জিএসসহ মোট ২৮টি পদের ২৩টিতেই জিতেছেন ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’র প্রার্থীরা। বাকি পদগুলোতে স্বতন্ত্র ও বামপন্থি ছাত্র সংগঠনের প্যানেল থেকে জয়ী হয়েছেন। তবে একটি পদেও জিততে পারেননি ছাত্রদলসহ বাকি প্যানেলের প্রার্থীরা। ডাকসুর শীর্ষ তিন পদ ছাড়া ১২টি সম্পাদকীয় পদের মধ্যে ৯টিতে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। বাকি তিনটি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। সদস্য পদে ১৩টির মধ্যে ১১টিতে জয়ী হয়েছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের সদস্যরা। একটিতে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। অন্যটিতে জয়ী বাম-সমর্থিত প্রার্থী।

ভিপি পদে ছাত্রশিবির নেতা আবু সাদিক কায়েম ১৪ হাজার ৪২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের আবিদুল ইসলাম খান ৫ হাজার ৭০৮ ভোট পেয়েছেন। জিএস পদে বিজয়ী ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এসএম ফরহাদ পেয়েছেন ১০ হাজার ৭৯৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের শেখ তানভীর বারী হামিম পেয়েছেন ৫ হাজার ২৮৩ ভোট। এজিএস পদে বিজয়ী হয়েছেন শিবিরের মহিউদ্দীন খান। তিনি পেয়েছেন ১১ হাজার ৭৭২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের তানভীর আল হাদী মায়েদ পেয়েছেন ৫ হাজার ৬৪ ভোট। তবে শিবিরের প্যানেল ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে মূলত বিএনপির ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের। শীর্ষ এ তিন পদে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় বিজয়ীদের ভোটের ব্যবধান অনেক বেশি। তবে ডাকসুর অন্য পদগুলোয় ছাত্রদলের প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারেননি। ডাকসু নির্বাচনের প্রকাশিত ফল বিশ্লেষণে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। 

মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণের পর মঙ্গলবার গভীর রাতে বিভিন্ন কেন্দ্রের পৃথক পৃথক ফল ঘোষণা করা হয়। বুধবার সকালে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে ডাকসু নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করেন। এবার ডাকসু নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন কেন্দ্রে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ভোট পড়েছে বলে জানা গেছে। শিবির-সমর্থিত প্রার্থীদের এই নিরঙ্কুশ জয়কে ক্যাম্পাসে অনেকে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসাবে বর্ণনা করছেন। এর মাধ্যমে প্রায় ৫ দশকেরও বেশি সময় পর ডাকসুর নেতৃত্ব ফিরে পেল সংগঠনটি।

এদিকে বুধবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ডাকসুর ফল ঘোষণার পর এক সংবাদ সম্মেলনে নবনির্বাচিত ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশাই তাদের প্রত্যাশা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘স্বপ্নের ক্যাম্পাস’ হিসাবে গড়ে তুলবেন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং ক্যাম্পাসের বাইরে যে কোনো সমস্যায় তাদের পাশে থাকার ঘোষণা দেন তিনি। সাদিক কায়েম আরও বলেন, জয় অথবা পরাজয়ের কিছু নেই। ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে জুলাইয়ের প্রজন্ম বিজয়ী হয়েছে। ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিজয়ী হয়েছে। এবং এই নির্বাচনের মাধ্যমে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা, শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বিজয়ী হয়েছে। এ সময় তার পাশে থাকা ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এসএম ফরহাদও বক্তব্য দেন। তারা দুজনেই এই বিজয়ে কোনো বিজয় শোভাযাত্রা না করার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ডাকসুতে বিপুল ভোটের ব্যবধানের এই জয়কে শুধু শিবিরের নয়, তা শিক্ষার্থীদের বিজয় বলে মন্তব্য করেছেন জিএস পদে নির্বাচিত এসএম ফরহাদ। দায়িত্ব পালনে তাদের প্রতি সাধারণ শিক্ষার্থীর ভূমিকা তুলে ধরে ফরহাদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর প্রতি আজকে থেকে আমার বিনীত অনুরোধ থাকবে দায়িত্ব গ্রহণ এবং দায়িত্ব পালন পর্যন্ত যে কদিন সেই দায়িত্বে আমরা থাকব আমি ব্যক্তিগতভাবে থাকব সেই কদিন পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষার্থী আমার জন্য উপদেষ্টা হয়ে কাজ করবেন।’

আলোচিত প্রার্থীরা কে কত ভোট পেয়েছেন : ডাকসুর ভিপি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী শামীম হোসেন ৩ হাজার ৮৮৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। ৩ হাজার ৩৮৯ ভোট পেয়ে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের উমামা ফাতেমা হয়েছেন চতুর্থ। আর বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের প্রার্থী আবদুল কাদের পঞ্চম হয়েছেন ১ হাজার ১০৩ ভোট পেয়ে।

জিএস পদে ৪ হাজার ৯৪৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন বামপন্থি সাতটি ছাত্র সংগঠনের যৌথ প্যানেল প্রতিরোধ পর্ষদের প্রার্থী মেঘমল্লার বসু। স্বতন্ত্র প্রার্থী আরাফাত চৌধুরী ৪ হাজার ৪৪ ভোট পেয়ে চতুর্থ হয়েছেন। বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের প্রার্থী আবু বাকের মজুমদার ২ হাজার ১৩১ ভোট পেয়ে হয়েছেন পঞ্চম।

এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী (গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের নেতা) তাহমীদ আল মুদ্দাসসীর চৌধুরী ৩ হাজার ৮ ভোট পেয়ে আছেন তৃতীয় অবস্থানে। ১ হাজার ৫১১ ভোট পেয়ে চতুর্থ হয়েছেন প্রতিরোধ পর্ষদের জাবির আহমেদ জুবেল। আর ১ হাজার ১৩৭ ভোট পেয়ে পঞ্চম হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন রনি।

এছাড়া ডাকসুর ১২টি সম্পাদকীয় পদের মধ্যে ৯টিতে জিতেছে শিবিরের প্যানেল। 

মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক : ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদে শিবিরের প্যানেলের প্রার্থী ফাতেমা তাসনিম জুমা ১০ হাজার ৬৩১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের আরিফুল ইসলাম পেয়েছেন ২ হাজার ৪৭০ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী নূমান আহমাদ চৌধুরী ১ হাজার ৭৭৬ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক : বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে শিবিরের প্যানেলের ইকবাল হায়দার ৭ হাজার ৮৩৩ ভোট পেয়ে জিতেছেন। ৪ হাজার ২৭৩ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের আহাদ বিন ইসলাম শোয়েব। স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্যের মমিনুল ইসলাম ৩ হাজার ২০০ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক : কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে ৯ হাজার ৯২০ ভোট পেয়ে শিবিরের প্যানেলের প্রার্থী উম্মে ছালমা জয়ী হয়েছেন। ৪ হাজার ৪৮২ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের সুর্মী চাকমা। তৃতীয় হয়েছেন ছাত্রদলের প্রার্থী চেমন ফারিয়া ইসলাম মেঘলা, তার ভোট ২ হাজার ৭০২।

আন্তর্জাতিক সম্পাদক : আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে শিবিরের প্যানেলের জসীমউদ্দিন খান ৯ হাজার ৭০৬ ভোট পেয়ে জিতেছেন। ৩ হাজার ৯২২ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের মোহাম্মদ সাকিব। আর ৩ হাজার ২৩১ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন ছাত্রদলের মেহেদী হাসান। 

সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক : সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ৭ হাজার ৭৮২ ভোট পেয়ে জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ। ২ হাজার ৭৪৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন শিবিরের প্রার্থী নুরুল ইসলাম। ২ হাজার ১৪৭ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন প্রতিরোধ পর্ষদের ফারিয়া মতিন (ইলা)।

গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক : গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সানজিদা আহমেদ তন্বি। তার প্রাপ্ত ভোট ১১ হাজার ৭৭৮। তাকে সমর্থন জানিয়ে ছাত্রদলসহ কয়েকটি প্যানেল এই পদে প্রার্থী দেয়নি। তার সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে শিবিরের প্রার্থীর। শিবিরের প্রার্থী মো. সাজ্জাদ হোসাইন খাঁন ৭ হাজার ১৮৯ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন।

ক্রীড়া সম্পাদক : ক্রীড়া সম্পাদক পদে শিবিরের প্রার্থী আরমান হোসেন ৭ হাজার ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। ৩ হাজার ৮৩১ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের প্রার্থী মো. আল-আমিন সরকার। ৩ হাজার ৭৮৮ ভোট পেয়ে তৃতীয় ছাত্রদলের চিমচিম্যা চাকমা। আর ৩ হাজার ৪৩৮ ভোট নিয়ে চতুর্থ হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জহিন ফেরদৌস জামি।

ছাত্র পরিবহণ সম্পাদক : ছাত্র পরিবহণ সম্পাদক পদে ৯ হাজার ৬১ ভোট পেয়ে জিতেছেন শিবিরের প্রার্থী আসিফ আবদুল্লাহ। ৪ হাজার ৫০৫ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের রাফিজ খান। আর ৩ হাজার ৩১২ ভোট পেয়ে তৃতীয় ছাত্রদলের মো. সাইফ উল্লাহ।

সমাজসেবা সম্পাদক : সমাজসেবা সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী যুবাইর বিন নেছারী (এবি জুবায়ের) ৭ হাজার ৬০৮ ভোট পেয়ে জিতেছেন। ছাত্রদলের প্রার্থী সৈয়দ ইমাম হাসান অনিক ৩ হাজার ৯০৩ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। শিবিরের প্রার্থী শরীফুল ইসলাম ২ হাজার ৫৫৬ ভোট পেয়ে তৃতীয়। আর ২ হাজার ৯৯ ভোট পেয়ে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের মহির আলম হয়েছেন চতুর্থ।

ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক : ৯ হাজার ৩৪৪ ভোট পেয়ে ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক পদে জিতেছেন শিবিরের প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম। ৪ হাজার ১২৩ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্যের রুপাইয়া শ্রেষ্ঠা তঞ্চঙ্গ্যা। আর ৩ হাজার ৬১৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় ছাত্রদলের মোহাম্মদ আরকানুল ইসলাম।

স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক : স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে ৭ হাজার ৩৮ ভোট পেয়ে জিতেছেন শিবিরের প্রার্থী এমএম আল মিনহাজ। বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী শাহরিয়ার মোহাম্মদ ইয়ামিন ২ হাজার ৯৬৫ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। আর বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের প্রার্থী সাব্বির আহমেদ ২ হাজার ৯৪৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন।

মানবাধিকার ও আইন সম্পাদক : মানবাধিকার ও আইন সম্পাদক পদে শিবিরের প্রার্থী মো. জাকারিয়া ১১ হাজার ৭৪৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের আনিকা তাহসিনা ৩ হাজার ৪২৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। ৩ হাজার ৩৬৫ ভোট নিয়ে তৃতীয় হয়েছেন স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্যের নুসরাত জাহান নিসু।

ডাকসুর ১৩টি সদস্য পদের মধ্যে ১১টিতেই জিতেছেন শিবিরের ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থীরা। তারা হলেন-সাবিকুন নাহার তামান্না (১০ হাজার ৮৪ ভোট), সর্ব মিত্র চাকমা (৮ হাজার ৯৮৮ ভোট), ইমরান হোসাইন (৬ হাজার ২৫৬ ভোট), মোছা. আফসানা আক্তার (৫ হাজার ৭৪৭ ভোট), তাজিনুর রহমান (৫ হাজার ৬৯০ ভোট), রায়হান উদ্দীন (৫ হাজার ৮২ ভোট), মো. মিফতাহুল হোসাইন আল-মারুফ (৫ হাজার ১৫ ভোট), আনাস ইবনে মুনির (৫ হাজার ১৫ ভোট), মো. বেলাল হোসেন অপু (৪ হাজার ৮৬৫ ভোট), মো. রাইসুল ইসলাম (৪ হাজার ৫৩৫ ভোট) ও মো. শাহিনুর রহমান (৪ হাজার ৩৯০ ভোট)।

এছাড়া বামপন্থি প্রতিরোধ পর্ষদ থেকে সদস্য পদে ৪ হাজার ৯০৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন হেমা চাকমা। ৪ হাজার ২০৯ ভোট পেয়ে সদস্য পদে জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী উম্মা উসওয়াতুন রাফিয়া।

ভিপি পদে ১০ ভোটের বেশি পাননি যারা : ভিপি পদে আল-আমিন ইসলাম পেয়েছেন ১০ ভোট, আসিফ আনোয়ার অন্তিক ৫ ভোট, জালাল আহমেদ ওরফে জ্বালাময়ী জালাল (প্রার্থিতা বাতিল) ৮ ভোট, দ্বীন মোহাম্মদ সোহাগ ৬ ভোট, মাহদী হাসান ৯ ভোট, মুহাম্মদ আবু তৈয়ব ১০ ভোট, আজগর ব্যাপারী ৬ ভোট, শাফি রহমান ৬ ভোট, আতাউর রহমান শিপন ৫ ভোট, আবুল হোসাইন ৭ ভোট, উজ্জ্বল হোসেন ৬ ভোট, নাছিম উদ্দিন ২ ভোট, ফয়সাল আহমেদ ৪ ভোট, মুদাব্বীর রহমান ৩ ভোট, রাসেল মাহমুদ ৭ ভোট, সোহানুর রহমান ২ ভোট, হাবিবুল্লাহ ২ ভোট, হেলালুর রহমান ৩ ভোট, জান্নাতী বুলবুল ৬ ভোট, যায়েদ বিন ইকবাল ৭ ভোট, রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ ৮ ভোট, শাহ জামাল সায়েম ৩ ভোট।

৫০ ভোটের নিচে যারা : ভিপি পদে ৫০ ভোটের নিচে যারা পেয়েছেন, তারা হলেন-আব্দুল ওয়াহেদ ২৭ ভোট, আরিফুল ইসলাম ২৩, ছাদেক হোসেন ৩৯, জাহিদ হাসান ১৭, তাহমিনা আক্তার ২৬, মারজিয়া হোসেন জামিলা ৩৫, দেলোয়ার হোসেন ১২, নাইম হাসান ২৪, রাহুল দেব রায় ২০ এবং সুমিত সেন ১৪ ভোট।

সাদিক কায়েম : সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নবনির্বাচিত ভিপি আবু সাদিক কায়েম আরও বলেছেন, এই নির্বাচনে জয় বা পরাজয় বলে কিছুই নেই; এই নির্বাচনে জুলাইয়ের প্রজন্ম, আকাঙ্ক্ষা এবং সর্বোপরি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জয় হয়েছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চমৎকার একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিতের প্রতিজ্ঞা করেছেন। ক্যাম্পাসে সব মত ও আদর্শের সঙ্গে মিলে একসঙ্গে কাজ করবেন বলেও জানান।

বক্তব্যের এই পর্যায়ে তিনি প্রথমেই স্মরণ করেছেন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটনা জুলাই আন্দোলনে শহীদদের। তিনি বলেন, ‘যাদের মাধ্যমে আজকে আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ পেয়েছি এবং আজকে আমরা প্রতিটি ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ পেয়েছি। একই সঙ্গে আমরা স্মরণ করছি-বাংলাদেশের আজাদী আন্দোলনের সব শহীদ, বিশেষ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সব শহীদের আধিপত্যবাদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের অগ্রনেতা শহীদ আবরার ফাহাদসহ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের নির্যাতনে যতজন শহীদ হয়েছে সব শহীদকে।’

সাদিক কায়েমের ভাষ্য, ‘ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমাদের ওপর নেতৃত্বে আমানত রেখেছে আমরা দৃঢ়কণ্ঠে বলতে চাই, সাদিক কায়েম, এসএম ফরহাদ, মহিউদ্দিন খানসহ ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের আমাদের প্যানেলের ওপর যে আমানত রেখেছে আমরা তার হক আদায় করব।’

শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের ক্যাম্পাস নির্মাণ না করা পর্যন্ত তাদের ‘পথচলা ও লড়াই থামবে না’ বলে প্রত্যয় জানিয়েছেন সাদিক কায়েম। সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সবার জন্য একটা নিরাপদ’ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সাদিক কায়েম, কথা দিয়েছেন নারীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ারও।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে নানা ধর্ম এবং ভিন্নমত ও পথের মানুষদের একসঙ্গে নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন সাদিক কায়েম।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ধর্মের, যে পথের, যে মতের, যে আদর্শের লোক হোক না কেন, আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করব। আমরা এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটা ‘মালটিকালচার’ হিসাবে নির্মাণ করব এবং আমাদের প্রতিজ্ঞা এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক ইনস্টিটিউট হিসাবে পরিণত করব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া একজন শিক্ষার্থী প্রথম বর্ষ থেকে যাতে পড়াশোনার ভালো পরিবেশ পায় সেটি নিশ্চিত করার কথা বলেছেন সাদিক। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গবেষণার পরিবেশ থাকবে, তার আবাসন নিয়ে ভাবতে হবে না, খাদ্যের নিরাপত্তা থাকবে, স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা থাকবে এবং আমাদের নারীদের জন্য একটা নিরাপদ ক্যাম্পাস হিসাবে আমরা গড়ে তুলব।’

সাদিকের কথায়, ‘শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষা তাদের আমাদের আকাঙ্ক্ষা, শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বরই তাদের কণ্ঠস্বর। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশাই আমাদের প্রত্যাশা। আমরা আমাদের এই ক্যাম্পাসকে স্বপ্নের ক্যাম্পাস না হওয়ার আগে পর্যন্ত, আমরা আমাদের লড়াই চালিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।’

নির্বাচনে অংশ নেওয়াদের ‘সহযোদ্ধা’ বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘এখানে যারা প্রার্থী ছিল আমরা সবাই সহযোদ্ধা ছিলাম, আমাদের সহযোদ্ধারা তাদের যে ইশতেহারগুলো ছিল আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করতে চাই।’

অন্য দলের প্রতি তাদের চাওয়া নিয়ে সাদিক বলেন, ‘এখানে আমাদের সঙ্গে যারা একসঙ্গে নির্বাচন করেছি, তারা প্রত্যেকে একেকজন আমাদের উপদেষ্টা, আমরা আশা করব তারা আমাদেরকে যে কোনো বিষয়ে পরামর্শ দেবে। আমাদেরকে গাইড করবে, আমাদের যে কোনো ভুল বিষয়, যে কোনো সিদ্ধান্তে তারা আমাদের ধরিয়ে দেবে, আমরা সবাই আমাদের স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিনির্মাণ করব।

‘সেক্ষেত্রে আমরা এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, আমাদের এই স্বপ্নের বাংলাদেশের, আমাদের সবার বাংলাদেশের যে আমাদের ভাবনা সেটা আমরা দিতে চাই। এই জুলাই বিপ্লব এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হয়েছিল এবং সফলতার সঙ্গে আজকে আমরা আজাদী পেয়েছি এবং এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমরা আগামীর বাংলাদেশ বাংলাদেশের একটি চমৎকার গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমরা সেই বার্তা দেব।’

এসএম ফরহাদ : ডাকসুতে বিপুল ভোটের ব্যবধানের এই জয়কে শুধু শিবিরের নয়, তা শিক্ষার্থীদের বিজয় বলে মন্তব্য করেছেন জিএস পদে নির্বাচিত এসএম ফরহাদ। তিনি বলেন, ‘আপাতত এইটুকুই, এটি কোনো শিবিরের বিজয় নয়, এটি কোনো স্বাধীন বিষয় নয়, এটি মূলত শিক্ষার্থীদের বিজয়। আমরাও আজকে থেকে এখন থেকে আমরা সব শিক্ষার্থীর প্রতিনিধি হয়ে প্রত্যেকটা শিক্ষার্থীর ভাই হয়ে কিংবা বোন হয়ে কাজ করতে চাই, একজন চারুকলার শিক্ষার্থী, ইসলামিক একজন শিক্ষার্থী, জগন্নাথ হলের একজন হয়ে কাজ করতে চাই।’ ডাকসু নির্বাচনের আগে প্রচার কাজের সময় অন্যান্যদের সঙ্গে যেসব মতবিরোধ হয়েছে বা পক্ষ-বিপক্ষ তৈরি হয়েছে, সে সবের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করার প্রত্যাশা রেখেছেন ফরহাদ। ‘শিক্ষার্থীরা আমাদের পরামর্শ দেবে, আমাদের পর্যালোচনা দেবে আমাদের ভুল ধরিয়ে দেবে, শুধরে দেবে, আমাদের পথ চলতে সহযোগিতা করবে, আমরা ভুল পথে গেলে সে পথে আমাদের আটকাবে। শিক্ষার্থীরা আমাদের পথে প্রতীক হয়ে থাকবে আমরা তাদের এ পথে সহযোগিতা করব’-যোগ করেন তিনি।


Advertisement

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ডাকসু নির্বাচন

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম