চট্টগ্রাম বন্দর
৪১ শতাংশ ট্যারিফ এক মাসের জন্য স্থগিত: নৌপরিবহণ উপদেষ্টা
Advertisement
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নৌপরিবহণ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের শুল্ক ও সেবা খাতে সম্প্রতি ঘোষিত শুল্ক বৃদ্ধি অবশেষে এক মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার চট্টগ্রাম বন্দর অডিটোরিয়ামে ‘কাস্টমস অ্যান্ড পোর্ট ম্যানেজমেন্ট : প্রবলেমস, প্রসপেক্টস অ্যান্ড ওয়ে ফরোয়ার্ড’ শীর্ষক এক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
উপদেষ্টা বলেন, ট্যারিফ বিষয়ে বন্দর চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। এক মাস লিভ (ছাড়) দেওয়ার ব্যাপারে চেয়ারম্যান সম্মত হয়েছেন।
এদিকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের আয়োজনে কর্মশালায় উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়নে বিদেশি অপারেটর নিয়োগ ছাড়া বিকল্প নেই। দুনিয়ার অনেক বড় অপারেটর শতাধিক বন্দর পরিচালনা করছে। এখানে বিদেশি বিনিয়োগ মানে বন্দর বিক্রি নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানে পরিচালনা করা। এতে কারও চাকরি যাবে না।’
বে-টার্মিনাল প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘ডিসেম্বরের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে আশা করি। বিশ্বব্যাংক ইতোমধ্যেই অর্থ দিয়েছে। এই সরকারের মেয়াদেই কাগজপত্রের কাজ শেষ হবে, পরবর্তী সরকার কাজ শুরু করবে।’
কর্মশালায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, আমরা টাইম রিলিজ স্টাডিতে দেখেছি এক দিনের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সিংহভাগ পণ্য খালাস হয়ে যায়। তার মানে একদিনে পণ্য খালাস সম্ভব। ৭০ ভাগ পণ্য এক দিনে খালাস হতে পারলে বাকি ৩০ ভাগে অসুবিধা কোথায়?
তিনি আরও বলেন, সাবেক এমপিদের ফেলে রাখা ৩০টি গাড়ি সরকারি পরিবহণ পুলে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বন্দরে আটকে থাকা সব নিলামযোগ্য কনটেইনার এই মাসেই তালিকাভুক্ত করে দ্রুত নিলামের প্রক্রিয়া চলছে।
কর্মশালায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী, বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ মো. আরিফ প্রমুখ অংশ নেন।
এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সেবা খাতে ৪১ শতাংশ ট্যারিফ কার্যকর করে। এতে আমদানি-রপ্তানি ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে যায়।
ব্যবসায়ীদের মতামত উপেক্ষা করে ৪১ শতাংশ ট্যারিফ কার্যকর করায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়। এ নিয়ে যুগান্তরে ১৭ সেপ্টেম্বর ‘কথা রাখলেন না উপদেষ্টা, ৪১% ট্যারিফ কার্যকর’ শীর্ষক প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার নতুন ট্যারিফ পর্যালোচনা, পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন এবং আরও সুষম ও টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে অংশীদারদের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপ করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএএ) নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে চিঠি দেয়। মূলত এসব কারণেই বর্ধিত নতুন ট্যারিফ আদায় ১ মাসের জন্য স্থগিত করা হয়।
