Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে দিনে মারা যান ২০ রোগী

৮০ ভাগ রোগীর চিকিৎসা এক হাসপাতালেই

Advertisement

Icon

জাহিদ হাসান

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

৮০ ভাগ রোগীর চিকিৎসা এক হাসপাতালেই

Advertisement

সারা দেশে হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ভোগান্তির শেষ নেই। জেলাগুলোর বেশির ভাগ সরকারি হাসপাতালে আক্রান্তের জন্য কোনো প্রয়োজনীয় সেবা নেই। ঢাকার বাইরের রোগীরা সঠিক সময়ে ব্যয়বহুল এই চিকিৎসা না পাওয়ায় বিপদে পড়ছেন। ফলে রোগীদের সব চাপ ঢাকায়। আবার ঢাকায় সরকারিভাবে একমাত্র বিশেষায়িত হাসপাতাল জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ৮০ ভাগ রোগীর চাপ। এই চাপ সামলাতে গিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। গত চার বছরে এই হাসপাতালে ভর্তি রোগী বেড়েছে ৮২ শতাংশ। সেই সঙ্গে বেড়েছে মৃত্যুও। সর্বশেষ চলতি বছরের ৮ মাসে মারা গেছেন ৪ হাজার ৮৪১ জন। এতে দেখা যায়, প্রতিমাসে মারা যান ৬০৫ জন এবং দিনে গড়ে মারা যান ২০ জন। ১২৫০ শয্যার এ হাসপাতালে গড়ে রোগী ভর্তি থাকছেন ১৬০০ জন। এতে প্রতিনিয়ত বাড়তি রোগীর জরুরি চিকিৎসা পেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সরকারিভাবে অন্য হাসপাতালগুলোয় হৃদরোগে আক্রান্ত রোগী ভর্তি বা মৃত্যুর কোনো তথ্য নেই। এমন এক বাস্তবতায় সারা বিশ্বের মতো আজ (২৯ সেপ্টেম্বর) দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব হৃদরোগ দিবস-২০২৫। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘ডোন্ট মিস এ বিট অর্থাৎ প্রতিটি হৃৎস্পন্দনই জীবন’। এর দ্বারা বার্তা দেওয়া হয়েছে-‘সতর্কতামূলক লক্ষণ উপেক্ষা না করি, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও হার্টের যত্ন নিই।’ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ রোগ এখন অনেকটা মহামারির মতো। এর থেকে মুক্তি পেতে ওষুধ বা হাসপাতাল দিয়েই হবে না। বড় উপায় সচেতনতা। প্রত্যেককে হৃদরোগের বিষয়ে জানতে হবে। স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন করতে হবে। 

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের দক্ষিণ ব্লকের দ্বিতীয়তলায় অবস্থিত পোস্ট করোনারি কেয়ার ইউনিট তথা (পিসিসিইউ) ওয়ার্ডে ভর্তি ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে আসা রোগী ফরিদা ইয়াসমিন (৫৫)। গত ২৭ আগস্ট তার হার্ট অ্যাটাক হয়। তাৎক্ষণিকভাবে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ৫ দিন ভর্তি থাকার পর বলা হয়, এনজিওগ্রামের সিরিয়াল পেতে এক মাস অপেক্ষা করতে হবে। বাধ্য হয়ে তিনি ঢাকার এই হাসপাতালে চলে আসেন। জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৮ মাসে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে জরুরি বিভাগে ১ লাখ ২৪ হাজার ৪৩৪ জন এবং বহির্বিভাগে ১ লাখ ৫৯ হাজার ১৬ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এ সময় ভর্তি হন ৭৫ হাজার ৫১২ জন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ৪ হাজার ৮৪১ জন রোগী। সারা দেশে প্রতিবছর প্রায় পৌনে তিন লাখ (২ লাখ ৮৩ হাজার) মানুষ হৃদরোগে মারা যান।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠেছে ঢাকাকেন্দ্রিক। যার সামর্থ্য আছে, তিনি চিকিৎসা নিতে পারছেন। যার সামর্থ্য নেই, তিনি পাচ্ছেন না। দেশে যে চিকিৎসা আছে, সেখানে এনজিওগ্রাম, রক্তনালিতে স্টেন্ট (রিং পরানো), বাইপাস সার্জারি, ক্যাথল্যাব সবই ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীকেন্দ্রিক। প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেগুলোর সুযোগ-সুবিধা নেই। রোগীর অস্বাভাবিক চাপ বাড়ছে রাজধানীর সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোয়। যেখানে চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ফলে উচ্চবিত্তদের বড় একটি অংশ বিদেশে যাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, কারও হার্টের রক্তনালিতে ব্লক আছে কি না বোঝার জন্য প্রথমে উপসর্গ অনুযায়ী ইকো-কার্ডিওগ্রাম এবং তারপর ইটিটি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় রক্তনালিতে ব্লক সন্দেহ হলে নিশ্চিত হওয়ার জন্য এনজিওগ্রাম করা হয়। দুঃখজন ব্যাপার হলো-এই মুহূর্তে ঢাকায় সরকারি ৫টি, স্বায়ত্তশাসিত একটি ও বেসরকারি ২৯টিসহ ৩৫টি হাসপাতালে এনজিওগ্রাম পরীক্ষা করা হয়। ঢাকার বাইরে ৫টি সরকারি এবং ১৯টি বেসরকারি হাসপাতালে এনজিওগ্রামের ব্যবস্থা আছে।

ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হার্ট বা হৃৎপিণ্ড। হৃদরোগের ঝুঁকি নির্ভর করছে একজন মানুষ কীভাবে জীবনযাপন করছে, তার ওপর। অতিরিক্ত ধূমপান, শুয়ে-বসে সময় কাটানো, শরীরচর্চাহীন অলস জীবনযাপন ও চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণের কারণে চর্বি জমা হয়ে ধমনিগুলো সরু হতে থাকে। হৃৎপিণ্ডের রক্তনালিতে রক্ত চলার পথ বা ধমনির ভেতর রক্ত প্রবেশের পথ আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে হৃৎপিণ্ডকে অক্সিজেন দিতে ব্যর্থ হলে তখনই ঘটতে পারে হার্ট অ্যাটাকের মতো জটিল রোগ। 

ওয়ার্ল্ড হার্ট ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি পাঁচটি অকালমৃত্যুর মধ্যে একটির জন্য দায়ী হৃদরোগ। বিশ্বে প্রতিবছর হৃদরোগে ২ কোটি ৫ লাখ মানুষ মারা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, দক্ষিণপূর্ব এশীয় অঞ্চলে প্রতি মিনিটে ৮ জন রোগী মারা যান। এমনকি এ অঞ্চলে ৭০ বছরের কম বয়সিদের অকালমৃত্যুর প্রধান কারণ উচ্চ রক্তচাপ। যাদের মধ্যে ৮৫ ভাগ মারা যান ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকায়। 

জানা গেছে, বাংলাদেশ অসংক্রামক রোগে মৃত্যুর প্রায় ৩৪ শতাংশ মৃত্যু ঘটে হৃদরোগে। সরকারের অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ২০২৫ সালের মধ্যে হৃদরোগসহ অসংক্রামক রোগজনিত মৃত্যুহার ২১ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশে কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও সেটি ব্যর্থ হচ্ছে।

সরকারিভাবে পুরাতন ৭টি মেডিকেল হাসপাতালে কার্ডিয়াক ইন্টারভেশনের (হৃৎপিণ্ড-রক্তনালির রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা) ব্যবস্থা রয়েছে। এগুলো হলো-চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা আবু নাসের মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। বেসরকারিভাবে দিনাজপুরে জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন এবং সিলেটে দুটি বেসরকারি হাসপাতালে এ ব্যবস্থা রয়েছে। ঢাকার বাইরে শুধু চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এবং বেসরকারি ৫টি হাসপাতালে কার্ডিয়াক সার্জারির ব্যবস্থা আছে। ঢাকার বাইরে বেসরকারিভাবে কার্ডিয়াক সার্জারি হয় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতাল, অ্যাপোলো ইমপেরিয়াল হাসপাতাল ও এভারকেয়ার হাসপাতাল চট্টগ্রাম।

কারও হার্ট অ্যাটাকের ১২ ঘণ্টার মধ্যে প্রাইমারি পিসিআই করতে হয়। প্রাইমারি পারকিউটেনিয়াস করোনারি ইন্টারভেনশনের (পিসিআই) মাধ্যমে রোগীর বন্ধ রক্তনালি খুলে দেওয়া হয়। বিশ্বব্যাপী এটা একধরনের জরুরি চিকিৎসা পদ্ধতি, যেখানে হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীর হার্ট অ্যাটাক হলে দ্রুত ব্লক হয়ে যাওয়া করোনারি ধমনির ভেতরে ক্যাথেটারের মাধ্যমে প্রবেশ করে বেলুন দিয়ে খোলা হয়। পরবর্তী সময়ে স্টেন্ট (রিং) বসানো হয়। এজন্য প্রাইমারি পিসিআই হলো সবচেয়ে কার্যকর ও আধুনিক চিকিৎসা। দেশে স্বল্পপরিসরে চালু আছে। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে রোগীদের বিনামূল্যে এই রিং দেওয়া হয়। যার প্রতিটির মূল্য ২ লাখ টাকা। বেরসরকারিভাবে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতাল, ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতাল এবং চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপতালে সেবাটি চালু আছে। হৃদরোগ চিকিৎসার পরিধি বাড়াতে ঢাকার বাইরের রোগীদের চাপ সামলাতে সরকার ২০১৯ সালে ৮ বিভাগে বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিলেও এখনো আলোর মুখ দেখেনি। যদিও প্রকল্প নেওয়ার সময় বাস্তবায়নের মেয়াদকাল ছিল তিন বছর।

মেডিকেল ডিভাইস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি ওয়াসিম আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, দেশে প্রতিবছর সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোয় হার্টের রিঙের চাহিদা প্রায় ৬০ হাজার। এছাড়া পেসমেকার ৪২০০ এবং ভাল্বের চাহিদা ১২০০টির মতো। যুক্তরাষ্ট্রের ৩টি, ইউরোপের ২৪টি, জাপানের ১টি, কোরিয়ার ১টি, চীনের ১টি, ভারতের ১টি ও মালয়েশিয়ার ১টি কোম্পানি থেকে স্থানীয় আমদানিকারকদের ৪০টি প্রতিষ্ঠান এসব উপকরণ কিনে হাসপাতালগুলোয় সরবরাহ করে, যা রোগীদের চাহিদার ৮০ শতাংশের মতো। মানভেদে একটি হার্টের রিঙের দাম ৪৫ হাজার থেকে ১ লাখ, পেসমেকারের দাম ১ লাখ ৪৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা হয়ে থাকে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের ১০টি সরকারি এবং ৪৮টি বেসরকারি হাসপাতালে হার্টের রিং, পেসমেকার ও ভাল্ব প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা আছে। প্রতিবছর সরকারি হাসপাতালে রোগীদের ১৮ হাজার এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৪২ হাজার রিং পরানো হয়। সরকারি হাসপাতালে ১২০০ ও বেসরকারিতে ৩ হাজার পেসমেকার বসানো হয়। সরকারি হাসাপাতালে ২৫০টি ও বেসরকারি হাসপতালে ৯৫০টি ভাল্ব প্রতিস্থাপন (মেকানিক্যাল ও টিস্যু) করা হয়। 

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. ওয়াদুদ চৌধুরী জানান, এখানে ২০২০ সালে ৫৮ হাজার ৭৬৫ জন রোগী ভর্তি হন। ২০২১ সালে ভর্তি বেড়ে ৭১ হাজার ৮৪০ জন হয়। এরপর ২০২২ সালে ৮৭ হাজার ২৬৫ জন, ২০২৩ সালে ৯৬ হাজার ৯৩৭ জন এবং ২০২৪ সালে ভর্তি ১ লাখ ৭ হাজার ২১৫ জনে পৌঁছে। অন্যদিকে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৭৫ হাজার ৫১২ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। অর্থাৎ ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চার বছরে ভর্তি রোগী বেড়েছে ৮২ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

ভর্তির বাইরে ২০২০ সালে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ৯৫ হাজার ২৪ জন ও বহির্বিভাগে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৬ রোগী চিকিৎসা নেন। ২০২১ সালে এই সংখ্যা বেড়ে জরুরি বিভাগে ১ লাখ ১৫ হাজার ৩০১ জন এবং বহির্বিভাগে ১ লাখ ৫০ হাজার ৪৯৯ জন হয়। পরের বছর অর্থাৎ ২০২২ সালে রোগী আরও বেড়ে জরুরি বিভাগে ১ লাখ ৩১ হাজার ৯০৩ জন এবং বহির্বিভাগে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৪৮ জন হয়। ২০২৩ সালে জরুরি বিভাগে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৮৮ জন ও বহির্বিভাগে ২ লাখ ১ হাজার ২৪৫ জন এবং ২০২৪ সালে জরুরি বিভাগে ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৯৭ জন ও বহির্বিভাগে ২ লাখ ৭ হাজার ২৬০ জন চিকিৎসা নেন। চার বছরে জরুরি বিভাগে ৮০ শতাংশ এবং বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী বেড়েছে বেড়েছে ৪৯ শতাংশ।

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ডা. মো. মেহেদী হাসান বলেন, প্রাথমিক স্ক্রিনিং, নিয়মিত চিকিৎসা সেবা গ্রহণ, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস ও সক্রিয় জীবনযাপনের মাধ্যমে ৮০ ভাগের বেশি হৃদরোগজনিত অকালমৃত্যুর প্রতিরোধ করা যায়। এজন্য নিয়মিত উচ্চরক্তচাপ পরীক্ষা, কোলেস্টেরল বা ডায়াবেটিসের মতো নীরব ঝুঁকি শনাক্ত, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন উপেক্ষা না করা। নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য এবং ধূমপান পরিত্যাগের মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

সিওমেক হাসপাতালে সক্ষমতার পাঁচগুণ রোগী : সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন ভিড় জমে হৃদরোগীদের। অথচ সে তুলনায় চিকিৎসার সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি। হৃদরোগ বিভাগের পরিচালক ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মুখলেসুর রহমান বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে আসা রোগীরা অধিকাংশই হতদরিদ্র। ক্লিনিকে তাদের চিকিৎসার সামর্থ্য নেই। অথচ এ হাসপাতালে আছে মাত্র ৩৪ বেডের হৃদরোগ বিভাগ। এ সামান্য সামর্থ্য দিয়েই নিয়মিত দেড়শ রোগীকে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি।’ তিনি জানান, সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে টেকনিশিয়ান নিয়ে। সরেজমিন শনিবার চিকিৎসকসহ সব স্টাফ থাকলেও একমাত্র টেকনিশিয়ান ছুটিতে থাকায় ক্যাথল্যাবের কোনো কাজই হয়নি। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম জানান, শুধু বহির্বিভাগেই গত এক বছরে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে ছয় হাজার ৮৭৩ জন রোগীকে। হৃদরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আদিল জানান, প্রায় এক বছরে আউটডোর-ইনডোরে ১৫ হাজার ১২৬ জন হৃদরোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসাসেবা নিতে ভর্তি হওয়া রোগীর মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ৫.৫ শতাংশ। কার্ডিওলজি বিভাগ জানায়, গত এক বছরে এনজিওগ্রাম সেবা গ্রহণ করেছেন মোট ৮৩১ জন। রিং পিসিআই লাগিয়েছেন ৮০ জন, টিপিএম করেছেন ১৪৩ জন, পিপিএম করেছেন ১০ জন, পেরিকার্ডিও সেন্টেসিস করেছেন ৭৩ জন। হাসপাতাল সূত্র জানায়, ওসমানীতে বর্তমানে দুটি ক্যাথল্যাব রয়েছে। একটি পুরোনো। ২১ সেপ্টেম্বর নতুন ক্যাথল্যাবটি উদ্বোধন হয়। ৪৬০ শয্যাবিশিষ্ট ভবনে ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগীরা চিকিৎসা নিতে পারবেন। ১০০ শয্যা বরাদ্দ রাখা হবে শুধু হৃদরোগীদের জন্য। পুরো ওসমানীতে প্রতিদিন গড়ে চার হাজার রোগী সেবা নিয়ে থাকেন আউটডোরে। ৯০০ শয্যার হাসপাতাল হলেও প্রতিদিন গড়ে রোগী ভর্তি থাকেন দুই হাজার ৮০০ জন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ইনডোর ও আউটডোরে প্রায় ৩৩ হাজার রোগী রোগ নির্ণয়সেবা গ্রহণ করেছেন।


Advertisement

হাসপাতাল

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম