Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

থমথমে খাগড়াছড়ি ১৪৪ ধারা বহাল

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

থমথমে খাগড়াছড়ি ১৪৪ ধারা বহাল

Advertisement

স্কুলছাত্রী ধর্ষণকাণ্ডে রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও সহিংসতায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে খাগড়াছড়িতে। সোমবারও অব্যাহত ছিল ১৪৪ ধারা। বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে চলাচলকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে নিরাপত্তা বাহিনী। ‘অনির্দিষ্টকালের’ অবরোধ এদিনও বহাল ছিল। যদিও পিকেটারদের কোনো সড়কে দেখা যায়নি। দুপুরের পর সীমিত পরিসরে খাগড়াছড়ির সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সড়কে যান চলাচল শুরু হয়। তবে সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দীঘিনালা, পানছড়ি, মাটিরাঙাসহ ৯ উপজেলার সঙ্গে সদরের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ ছিল। জরুরি সেবা ছাড়া অন্য যানবাহন চলতে দেখা যায়নি। এর মধ্যে সাজেকে আটকে পড়া ৫১৮ পর্যটককে এদিন সেনা নিরাপত্তায় খাগড়াছড়িতে নিয়ে আসা হয়। দুপুরে তারা খাগড়াছড়ি শহরে পৌঁছান। 

সহিংসতা চলাকালে রোববার গুলিতে নিহত তিনজনের পরিচয় সোমবার প্রকাশ করেছে পুলিশ। তারা হলেন-সিন্দুকছড়ি ইউনিয়নের দেবলছড়ি চেয়ারম্যানপাড়ার আথুই মারমা (২১), হাফছড়ি ইউনিয়ন সাং চেং গুলিপাড়ার আথ্রাউ মারমা (২২) এবং রামেসু বাজার বটতলার তৈইচিং মারমা (২০)। এছাড়া ওইদিন সেনাবাহিনীর এক মেজরসহ ১৬ সদস্য এবং গুইমারা থানার ওসিসহ তিনজন আহত হন। পুড়িয়ে দেওয়া হয় বেশকিছু বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

ধর্ষণবিরোধী ওই ‘আন্দোলন’ চলছিল ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে। তবে নেপথ্যে কাজ করছিল পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। রোববার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে আন্দোলনের সে চিত্র উঠে আসে। সোমবার স্থানীয়দের সঙ্গে কথাবার্তায়ও এ বিষয়ে নানা তথ্য মেলে। তবে এদিন ইউপিডিএফ তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এদিকে স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, আন্দোলন ইউপিডিএফ-এর নকশায় হলেও অর্থ জোগান দিচ্ছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ।

খাগড়াছড়িতে সহিংসতা ও প্রাণহানিতে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংস্থা, সামাজিক-সংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিরা। এর মধ্যে রয়েছে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে হয়েছে প্রতিবাদ বিক্ষোভ ও সমাবেশ। এগুলোয় বিচার বিভাগীয় তদন্ত, নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হক চৌধুরী বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সোমবার সকাল থেকে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল রয়েছে। পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উপজেলায় অবরোধের সমর্থনকারীদের অবস্থান নেওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন ছাবের আহম্মেদ বলেন, সকাল পর্যন্ত আহত ১৪ জনকে নিয়ে আসা হয়েছে। এর মধ্যে একজনকে রোববার রাতে চট্টগ্রামে রেফার করা হয়েছে। বর্তমানে ১৩ জন চিকিৎসাধীন আছেন। এছাড়া তিনজনের লাশ নিয়ে আসা হয়েছে। সোমবার বিকালে ব্রিফিং করেছেন খাগড়াছড়ির বিজিবির সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আব্দুল মোত্তাকিম। তিনি বলেন, স্বনির্ভর বাজার ও চেঙ্গি স্কয়ারের আশপাশে পাহাড়ি ছাত্র-জনতা ও বাঙালিদের মধ্যে সহিংসতা রোধে ৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। আমরা সবাই শান্তি ও সৌহার্দপূর্ণভাবে একসঙ্গে বসবাস করতে চাই। আমি আপনাদের আহ্বান করব শান্তি ও সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় রাখার জন্য।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত : সিঙ্গিনালায় অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ এনে বুধবার তিন ব্যক্তিকে আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন ছাত্রীর বাবা। এ নিয়ে ওইদিন খাগড়াছড়ি শহরে জুম্ম ছাত্র-জনতার ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল হয়। শয়ন শীল নামে একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। 

অন্য দুই আসামিকে গ্রেফতারের দাবিতে বৃহস্পতিবার খাগড়াছড়িতে আধা বেলা সড়ক অবরোধের ডাক দেয় জুম্ম ছাত্র-জনতা। একই দাবিতে শনিবার খাগড়াছড়ি জেলায় পুনরায় সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধের ডাক দেওয়া হয়। দ্বিতীয়বারের এ অবরোধ ডাকার মধ্য দিয়ে জেলায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়। দুপুর পর্যন্ত অবরোধ শান্তিপূর্ণ থাকলেও দেড়টার পর থেকে নারানখাইয়া এলাকায় পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে। তবে তা ভঙ্গ করে মহাজনপাড়া এলাকায় দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। সেনাবাহিনী ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শনিবারের ঘটনায় রোববার থেকে টানা অবরোধের ঘোষণা দেয় সংগঠনটি। রোববার পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। 

জুম্ম ছাত্র-জনতার নেপথ্যে ইউপিডিএফ : গেল বুধবারই ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’ নাম প্রথম সবার নজরে আসে। বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্ট কাউন্সিলের (বিএমএসসি) খাগড়াছড়ি জেলা সাধারণ সম্পাদক উক্যনু মারমা শুরু থেকে এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তার সঙ্গে কৃপায়ণ ত্রিপুরাসহ কয়েকজনের নাম আসে। তবে স্থানীয়রা জানান, সামনে ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’ থাকলেও নেপথ্যে রয়েছে ইউপিডিএফ। এ কদিনের কর্মসূচিতে নানা কর্মকাণ্ডে তাদের সমর্থন দৃশ্যমান। আর রোববার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) বিবৃতিতে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। 

আন্দোলনে কেন ইউপিডিএফ : স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মূলত দলীয় নাজুক পরিস্থিতি উত্তরণের লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে একটি অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি করতে তারা ধর্ষণ ইস্যু বেছে নিয়েছে। সংবেদনশীল বিষয়কে সামনে এনে মানুষের আবেগকে পুঁজি করে ফসল নিজেদের ঘরে তুলতে চায়। আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে কৌশলগত কারণে নিজেদের সাংগঠনিক নাম ব্যবহার না করে একটি ‘কমন’ প্ল্যাটফর্ম ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’ গঠন করে। রোববার ইউপিডিএফ-এর এক প্রেস বিবৃতিতে বিষয়টি আঁচ করা যায়। 

স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক বছরে ইউপিডিএফ-এর সাংগঠনিক দুর্বল অবস্থা তৈরি হয়। সংগঠনটির সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (সন্তু লারমা) বিভিন্ন জায়গা সংঘাত হয়। এতে ইউপিডিএফ রাঙামাটির সাজেক, ভুয়াছড়ি, দীঘিনালার নাড়াইছড়ি ও পানছড়ির সীমান্তবর্তী এলাকার ওপর নিয়ন্ত্রণ ও দখল হারায়। অনেক কর্মীও নিহত হন। ভারতের মিজোরাম ও ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোয় ইউপিডিএফকে সরিয়ে নিয়ন্ত্রণ ও দখল নেয় সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীন জেএসএস। এতে ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলো থেকে ইউপিডিএফ-এর সশস্ত্র সদস্যদের জন্য অস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়।

২৮ সেপ্টেম্বর ইউপিডিএফ-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সশস্ত্র উসকানি ও সংঘাত বন্ধ করে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণের জন্য জেএসএস-এর (সন্তু) প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছিল। খাগড়াছড়ির পানছড়ি ও দীঘিনালা থেকে সশস্ত্র সদস্যদের (জেএসএস) নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ফিরিয়ে নিতে আহ্বান জানানো হয়। ইউপিডিএফ-এর সহসভাপতি নূতন কুমার চাকমা ওই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ইউপিডিএফ কোনোদিন এই সংঘাত চায়নি, এখনো চায় না। এ কারণে ২০১৮ সালে জেএসএস (সন্তু)-এর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অর্জিত সমঝোতার প্রতি পূর্ণ সম্মান বজায় রেখেছে।’ এ সমঝোতা প্রস্তাব মূলত ইউপিডিএফ-এর নিয়ন্ত্রিত এলাকা ফিরে পাওয়ার আকুতি। 

অর্থ ঢালছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ : রোববার খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় পার্বত্য উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএন আফসার অভিযোগ করেন, এই আন্দোলনে অর্থ ঢালছে আওয়ামী লীগ। সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, আমি নিশ্চিত তৃতীয় একটি পক্ষ অর্থের জোগান দিচ্ছে। 

এ নিয়ে সোমবার স্থানীয়দের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, ভারতে পালিয়ে থাকা খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসম্পাদক মংসুপ্রুই চৌধুরী অপু আন্দোলনে অর্থ ঢালছেন। ভারতের আগরতলায় আশ্রয় নেওয়া এই নেতা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান থাকাকালীন লুটপাট করে ব্যাপক অর্থবিত্তের মালিক হন। গুইমারায় সংঘাত চলাকালে আওয়ামী লীগের বেশকিছু কর্মীকে দেখা গেছে, যারা মংসুইপ্রুর ঘনিষ্ঠ। 

জেলা বিএনপির সভাপতি এমএন আফসার অভিযোগ করেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের ওপর ভর করে আন্দোলনে ইন্ধন জোগাচ্ছে। এছাড়া আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ইউপিডিএফ-এর সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে সুবিধা নিতে চেষ্টা করছে। ইউপিডিএফ সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী হলে আওয়ামী লীগ নানাভাবে সুবিধা পেতে পারে।

ইউপিডিএফ-এর বক্তব্য : ইউপিডিএফ-এর মুখপাত্র অংগ্য মারমা সোমবার বিবৃতি দেন। এতে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় হামলা সম্পর্কে দেশবাসীকে যেভাবে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালিয়েছে, তাতে পাহাড়ের চলমান পরিস্থিতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং হামলাকারীদের উৎসাহিত করবে। বিবৃতিতে খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় পাহাড়িদের ওপর সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হামলা তদন্তের জন্য জাতিসংঘের অংশগ্রহণে একটি উচ্চপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনসহ আটটি দাবি তুলে ধরা হয়েছে।

বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবাদ : সোমবার ব্লাস্ট এক বিবৃতিতে জানায়, এ ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী শিশুসহ তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ধর্ষণ ও সহিংসতায় আহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসা প্রদান জরুরি।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, অতীতে পার্বত্য এলাকায় ঘটে যাওয়া সহিংসতার সুষ্ঠু তদন্ত ও অন্তর্নিহিত কারণ অনুসন্ধান না হওয়ায় বারবার একই ধরনের ঘটনা ঘটছে। আসক অবিলম্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানায়, যাতে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের চিহ্নিত করে প্রমাণভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

পার্বত্য ভিক্ষুসংঘ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির দপ্তর সম্পাদক ভদন্ত বুদ্ধজ্যোতি থের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সমাধানে ছাত্র-জনতার দাবিগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং হতাহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ ধর্ষক ও হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনার উদাত্ত আহ্বান জানাই। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য হেমা চাকমা সোমবার তার ফেসবুক পোস্টে বলেন, ধর্ষণের সব অপরাধীকে দ্রুত সময়ে গ্রেফতার ও বিচার করতে হবে। প্রশাসনকে ওই সংঘাতের জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। নিহত সব ব্যক্তির পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আহতদের উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির রাঙামাটি জেলার যুগ্ম সমন্বয়কারী (দপ্তর) দিবাকর চাকমা স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে ধর্ষকদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আবদুল হান্নান মাসউদের অরাজনৈতিক ও শিষ্টাচারবহির্ভূত বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানানো হয়। 

বিবৃতি দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি নাফিয়া ফারজানা অমিয়া ও সাধারণ সম্পাদক রওনক জাহান রাকামনি। 

জামায়াত আমিরের উদ্বেগ : জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সোমবার তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে লিখেছেন, ‘এগুলো কীসের লক্ষণ? হঠাৎ করে পাহাড়ে এমন অস্থিরতার নেপথ্যে কারা আছে? অবিলম্বে উপযুক্ত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করতে হবে এবং তাদের পেছনে কোনো ক্রীড়নক থাকলে তাকেও খুঁজে বের করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘খাগড়াছড়ি অখণ্ড বাংলাদেশেরই অংশ। জনগণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অনস্বীকার্য দায়িত্ব। এ বিষয়ে যথাযথ দৃষ্টি দেওয়া এখন অত্যন্ত প্রয়োজন।’


Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম