Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

দলের সঙ্গে কমিশনের বৈঠক আজ

জুলাই সনদে ঐক্যের সম্ভাবনা ক্ষীণ

Advertisement

Icon

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

জুলাই সনদে ঐক্যের সম্ভাবনা ক্ষীণ

ফাইল ছবি।

Advertisement

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও আইনি ভিত্তি ইস্যুতে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। এখনো মুখোমুখি অবস্থানে। সনদের ৮৪টি ধারার প্রায় সবকটির সঙ্গে দলগুলো একমত। তবে বিএনপি চায় পরবর্তী নির্বাচিত সরকার সনদ বাস্তবায়ন করবে। আর জামায়াত ও এনসিপি চায় নির্বাচনের আগেই বাস্তবায়ন। এ অবস্থায় সনদ নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আজ দলগুলোর চূড়ান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আর এ বৈঠকের প্রস্তুতি হিসাবে ঐকমত্য কমিশন শনিবার নিজেদের মধ্যে একটি সভা করেছে। কমিশন থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সভার তথ্য জানানো হয়েছে। বৈঠকে কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার, বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান ও ড. মো. আইয়ুব মিয়া উপস্থিত ছিলেন। কমিশন সূত্র জানায়, আজকের বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলো সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। এক্ষেত্রে কমিশন থেকে সরকারের কাছে একাধিক সুপারিশ করা হবে।

জানা যায়, জুলাই জাতীয় সনদ চূড়ান্ত হলেও বাস্তবায়নের পদ্ধতি প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মতভিন্নতা আছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চূড়ান্ত সনদে ৮৪টি প্রস্তাবের মধ্যে ২৯টি প্রস্তাব নির্বাহী আদেশে বাস্তবায়ন করা যায়। ২১টি রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে এবং ৩৪টি প্রস্তাব বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। এক্ষেত্রে নির্বাহী আদেশ ও অধ্যাদেশের মাধ্যমে যেসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা যায়, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ব্যাপারে সব দল একমত। কিন্তু সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত ধারার ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর মতভিন্নতা রয়েছে। বিএনপি চায় নির্বাচিত সংসদ-সদস্যরা সংবিধান সংশোধন করে সনদ বাস্তবায়ন করবে। এছাড়াও সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে সুপ্রিমকোর্টের মতামত নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে দলটি। জামায়াতে ইসলামী চায় আপাতত ‘সংবিধান আদেশ’ জারি করে সনদ বাস্তবায়ন করা হবে। এরপর নির্বাচনের আগেই গণভোটের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে সনদ বাস্তবায়ন। এ দাবিতে ইতোমধ্যে রাজপথে আন্দোলনে রয়েছে দলটি। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দাবি, গণপরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন। এ দাবিতে দলগুলো তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সর্বশেষ ২৭ সেপ্টেম্বর বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করে ঐকমত্য কমিশন। সেখানে অংশ নেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এমএ মতিন, বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন মোহাম্মদ ইকরামুল হক, সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ড. শরিফ ভূইয়া, ব্যারিস্টার তানিম হোসেইন শাওন ও ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত ছিল সুনির্দিষ্ট একটি নয়, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও বাস্তবায়নে সরকারের কাছে একাধিক সুপারিশ যাবে। এসবের মধ্যে থাকবে সংবিধান আদেশ জারি, নির্বাচনের দিনে গণভোট এবং সুপ্রিমকোর্টের মতামত গ্রহণ অন্যতম। তবে এসবের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে একই প্ল্যাটফর্মে আনতে সর্বশেষ চেষ্টা হিসাবে আজকের বৈঠক করছে ঐকমত্য কমিশন। এ বৈঠকে সমাধান না হলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। এ ব্যাপারে কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা সর্বশেষ চেষ্টা করছি। সমাধান না হলে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। এদিকে সূত্র জানায়, কমিশনের মেয়াদ ইতোমধ্যে তিন দফা বাড়িয়েছে সরকার। ১৫ অক্টোবর এ মেয়াদ শেষ হবে। তবে ১০ অক্টোবরের মধ্যে সনদ চূড়ান্ত করতে চায় কমিশন। বাকি আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সনদ চূড়ান্ত করবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, জুলাই নিয়ে চূড়ান্ত পর্বের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রোববার নিয়ে এ পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে ইতঃপূর্বে বিশেষজ্ঞদের মতামত ও পরামর্শ পুনরায় পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি এ বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে পাওয়া অভিমতও পুনঃবিশ্লেষণ করা হয়।

Advertisement

জুলাই সনদ

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম