রাত পোহালেই ভোট
নানা সমীকরণে হবে প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণ
ছাত্র সংসদ নির্বাচন: চাকসু
Advertisement
রেফায়েত উল্যাহ রুপক, চবি
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাত পোহালেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু), হল ও হোস্টেল সংসদ নির্বাচন। সোমবার রাত ১২টায় শেষ হয়েছে প্রচারণা। এদিন প্রার্থীদের শেষ মুহূর্তের প্রচারে সরগরম ছিল পুরো ক্যাম্পাস। এদিকে নিজেদের প্রতিনিধি বেছে নিতে ভোটের আগমুহূর্তে নানা সমীকরণ মেলাচ্ছেন ভোটাররা। বিশ্লেষকদের মতে, বেশ কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ধারিত হবে চূড়ান্ত ফলাফল। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-অনাবাসিক ও নারী ভোটার, সংখ্যালঘু ও পাহাড়ি শিক্ষার্থী এবং বাস্তবভিত্তিক ইশতেহার। সেক্ষেত্রে কারও পূর্ণ প্যানেলে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাও কম। চমক দেখাতে পারেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও।
জানা যায়, চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ২৭ হাজার ৫১৮ জন। যেখানে নারী ভোটার প্রায় সাড়ে ১১ হাজার, যা প্রায় ৪১ শতাংশ। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন ব্যবস্থা আছে মাত্র ৬ হাজার ৩২৮ জনের। এর মধ্যে ছেলেদের হলে আছে ৩ হাজার ৬৮৭টি আসন এবং মেয়েদের হলে ২ হাজার ৬৪১টি। সে হিসাবে মাত্র ২৩ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক। বাকি ৭৭ শতাংশই অনাবাসিক। এক্ষেত্রে অনাবাসিক ও নারী ভোটারের এই বিশাল সংখ্যা ভোটে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে পাহাড়ি ও সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি। তাই মনে করা হচ্ছে, পার্বত্য রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবানের উপজাতি শিক্ষার্থীদের ভোটও নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে। এছাড়া সংখ্যালঘু, বৃহত্তর চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভোটও প্রভাবক হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে নির্বাচন ঘিরে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রার্থীরা। শিক্ষার্থীবান্ধব ইশতেহার তৈরি করে ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করেছেন। এক্ষেত্রে অনেকে সাধ্যের বাইরের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যারা বাস্তবভিত্তিক প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন এবং অতীতে শিক্ষার্থীদের পাশে ছিলেন তাদেরই বেছে নেবেন তারা। এর মধ্যে আবাসন ও পরিবহণ সংকট, নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
৮ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী প্রার্থী : চাকসু নির্বাচনে আলোচনায় আছেন ৮ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী প্রার্থী। তাদের মধ্যে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী মিজান মিয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কার্যনির্বাহী সদস্য পদে। ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল থেকে সমাজতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী আকাশ দাস লড়ছেন একই পদে। স্বতন্ত্র হিসাবে ইতিহাস বিভাগের মো. সুরত আলম প্রার্থী হয়েছেন স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক পদে। ছাত্র ইউনিয়ন (একাংশ) ও ছাত্রফ্রন্ট সমর্থিত ‘দ্রোহ পর্ষদ’ প্যানেল থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সোহেল রানা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সমাজসেবা ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক পদে। একই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ‘সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদ’ প্যানেল থেকে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান। ‘বিনির্মাণ শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেল থেকে আবিদুর রহমান প্রার্থী হয়েছেন কার্যনির্বাহী সদস্য পদে। এএফ রহমান হলে নির্বাহী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মো. নাদিম হোসেন। বিজয় ২৪ হলে ছাত্রী সংস্থা সমর্থিত প্যানেল থেকে প্রার্থী হয়েছেন আয়েশা খাতুন।
তিন জুলাই যোদ্ধা : আলোচনায় আছেন জুলাই আন্দোলনে সম্মুখ সারিতে থাকা তিন প্রার্থীও। এদের একজন মো. মাহবুবুর রহমান। তিনি কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল থেকে বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন। জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগের হামলায় গুরুতর আহত হন তিনি। বাংলা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. শুভ হোসেন সমাজসেবা ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের মুরাদপুরে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। সেদিন ছাত্রলীগের গুলিতে গুরুতর আহত হন। বুলেটটি তার ডান চোখ ভেদ করে তিন স্তর অতিক্রম করে ভেতরে আটকে যায়।
আরেক জুলাই যোদ্ধা ছাত্রদল কর্মী আব্দুল্লাহ আল মামুন দলীয় প্যানেলে জায়গা পাননি। তবে তিনি স্বতন্ত্রভাবেই নির্বাচনে এজিএস পদে লড়ছেন। মামুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
এদিকে সোমবার ছিল চাকসু নির্বাচনে প্রচারণার শেষদিন। রাত ১২টায় শেষ হয় প্রচারণা। এদিন শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করেন প্রার্থীরা। ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার চত্বর, বুদ্ধিজীবী চত্বর, লেডিস ঝুপড়ি, কলা ঝুপড়ি, সমাজবিজ্ঞান ঝুপড়ি, প্রতিটি অনুষদ প্রাঙ্গণ, আবাসিক হল প্রাঙ্গণ, জিরো পয়েন্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে চলে প্রার্থীদের প্রচার।
প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ছাত্রশিবিরের : চাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাইবার বুলিং ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে প্রার্থীদের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে ভুয়া পোস্ট, বিকৃত তথ্য ও উসকানিমূলক মন্তব্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল। সোমবার দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন প্যানেলের প্রার্থীরা। এ সময় তারা দাবি করেন, এসব অনিয়ম মোকাবিলায় প্রশাসন নিষ্ক্রিয়তা দেখাচ্ছে।
