রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা
শুক্রবার জুলাই সনদে স্বাক্ষর ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন
জুলাই সনদে একমত, ভিন্নমত স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে, আমরা সই করব-সালাহউদ্দিন * স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যাব, কোনো অনিশ্চয়তা দেখি না-তাহের * বাস্তবায়নের পথ পরিষ্কার করে সনদ স্বাক্ষরের দিকে অগ্রসর হব-আখতার * সনদে সই করবে না বামপন্থি ৪ দল
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন হবেই বলে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন হবেই। এটা ঐকমত্য কমিশনের যে সনদ, সেই সনদেরই অংশ এখন। উৎসবমুখর নির্বাচন হবে। শুক্রবার উৎসবমুখর পরিবেশে জুলাই সনদে স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে। বুধবার রাতে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ‘অতি জরুরি’ বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ‘অতি জরুরি’ বৈঠক হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সন্ধ্যা ছয়টার পর এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বৈঠক হয়। এতে অংশ নেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণসংহতি আন্দোলন, জেএসডি (রব), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, নাগরিক ঐক্য, গণঅধিকার পরিষদ, এবি পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। শুরুতেই সূচনা বক্তব্য দেন ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
জুলাই সনদ রচনাকে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী অধ্যায় হিসাবে উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘ছাত্র-জনতার যে অভ্যুত্থান, এই অভ্যুত্থানের এটাই আমার মনে হয় পরবর্তী অধ্যায় সঠিকভাবে রচিত হলো। যে সংস্কারের কথা আমরা মুখে বলে যাচ্ছিলাম, প্রকৃতপক্ষে যে সংস্কার হবে, তা করে দেখিয়ে দিয়েছেন। কাজেই এই জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সারা জাতি বড় রকমের উৎসবের মধ্যে শরিক হবে।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যে কলম দিয়ে স্বাক্ষর করা হবে, সেগুলো জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে। মানুষ তাদের ভুলতে পারবে না। এটা এমন একটা ঘটনা, যে ঘটনার ভেতরে থেকে এর বিশালত্ব বোঝা যাচ্ছে না। মাসের পর মাস বৈঠক করে হতাশা এসেছে, মনে হয়েছে, এটা হয়তো অসমাপ্ত থেকে যাবে। তবে এটা অসমাপ্ত থেকে যায়নি। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ জাতির জন্য একটা মস্ত বড় সম্পদ হয়ে রইল।’
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘যেসব দলিল তৈরি করা হয়েছে, সেগুলো হারিয়ে যাবে না। এগুলো জনসাধারণের মধ্যে সহজ ভাষায় প্রচার করা হবে। যাতে করে সবার মনের মধ্যে থাকে, কেন একমত হয়েছি।’ সরকার হিসাবে জুলাই সনদ ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব তাদের।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, যেসব বিতর্ক হয়েছে, সেগুলোকে বিষয়ভিত্তিকভাবে ভিডিও করে ও বই করে রাখা হবে, যেন এগুলো সম্পদ হিসাবে থাকে, হারিয়ে না যায়। যাতে করে সবাই জানতে পারে, কেমন জাতি গড়ার জন্য এগুলো করা হয়েছে। ১৭ অক্টোবর জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা উৎসবমুখরভাবে সেখানে যাব এবং এই দলিলে সই করব ও উৎসব করব। সবাই, সারা জাতি এটায় শরিক হবে। আপনারা তাদের সামনের সারির মানুষ, যারা প্রকৃত সই করছেন। সারা দেশের মানুষ চিন্তার মধ্যে, তাদের ভাবনার মধ্যে আপনাদের সঙ্গে সই করছে। জাতির জন্য এটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ : বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পক্ষেই যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছি। জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন হোক বা অন্য কোনো কিছু হোক উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হবে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করা। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা। এই নির্বাচনের সঙ্গে জুলাই সনদের সম্পর্ক কী? আমি মনে করি জুলাই সনদের সঙ্গে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো সম্পর্ক নেই। এই সংস্কার সারা জাতি চায়, আমরাও চাই। এই সংস্কার যে দলই ক্ষমতায় আসুক বা জাতীয় সংসদে যারাই মেজরিটি পাক এটি বাস্তবায়ন করতেই হবে।
তিনি বলেন, আমরা জুলাই জাতীয় সনদে সবাই স্বাক্ষর করব। যেসব বিষয়ে ভিন্নমত আছে, নোট অব ডিসেন্ট আছে, এগুলো একদম পরিষ্কারভাবে দফাওয়ারি উল্লেখ থাকবে। কারণ নোট অব ডিসেন্ট দেওয়ার এখতিয়ারের বিষয়েই তো আমরা ঐকমত্য কমিশনে আলাপ-আলোচনা করেছি। যদি তা না হতো তাহলে ঐকমত্য কমিশন যে প্রস্তাব দিত সব প্রস্তাবে যদি সবাই একমত হয়ে যেত, তাহলে তো আলোচনার প্রয়োজন ছিল না। আলোচনার উদ্দেশ্যই ছিল যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত, তা সংকলিত করা। যেসব বিষয়ে দ্বিমত অথবা ভিন্নমত সেগুলোও সংকলিত করা। এখন আমাদের সিদ্ধান্ত হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হবে নোট অব ডিসেন্টসহ। তিনি বলেন, সেভাবেই জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হলে গণভোটের একটাই প্রশ্ন থাকতে পারে। যেভাবে জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে জনগণ তার পক্ষে আছে কী নেই। হ্যাঁ অথবা না বলুন। আমরা আশা করি এই গণভোটে না-ভোটের পরিমাণ হাতে গোনা যাবে। কারণ সমগ্র জাতি তো সংস্কারের পক্ষে। সুতরাং আমরা ধরেই নিতে পারি জনগণ সংস্কারের পক্ষে আছে, সব রাজনৈতিক দল আছে। গণভোটে যে ফলাফল আসবে তার একটা কারণ হলো সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী জনগণ যাতে গণভোটের মধ্য দিয়ে এ রকম একটা এখতিয়ার, কর্তৃত্ব দেয় সংসদকে, যাতে করে সেটা বাধ্যবাধকতা থাকে প্রতিপালনে, বাস্তবায়নে। সেটা সাধারণভাবেই কোনো সংশোধনের মাধ্যমে নয়। সেটাই বলা হচ্ছে সাংবিধানিক ক্ষমতা। সেই সংসদকে দেওয়া হচ্ছে। সেটার অনুকূলে যখন কোনো সংস্কার হবে, সেটা চাইলেও জুডিশিয়ারি তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে পারবে না। এটাই হচ্ছে গণভোটের ভিত্তি।
সালাহউদ্দিন বলেন, সুতরাং সনদ স্বাক্ষরের জন্য আমরা অপেক্ষায় আছি। সেই স্বাক্ষরিত দলিল সবার কাছে দেওয়া হবে। জাতির জন্য উন্মুক্ত করা হবে। তারপর বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের কাছে ঐকমত্য কমিশন বিভিন্ন প্রক্রিয়াসহ সুপারিশ দেবে। সেই সুপারিশ হিসাবে আমরা বলেছি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একই দিনে গণভোট নেওয়া যায়। যার মধ্য দিয়ে পুরো জাতীয় সনদের সব প্রস্তাব নোট অব ডিসেন্ট ছাড়া একমত হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন হবে।
ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের : জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, আশা করি ১৭ অক্টোবর জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যাব এবং কোনো অনিশ্চয়তা আমরা দেখি না। তিনি বলেন, গণভোট আর জাতীয় নির্বাচন আলাদা বিষয়; একদিনে করার প্রস্তাব উদ্ভট আলোচনা। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে নভেম্বরে গণভোট দিতে হবে। তিনি বলেন, বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের বিষয়ে আগে দ্বিমত করলেও পরে আগ্রহ দেখাচ্ছে। এজন্য বিএনপিকে ধন্যবাদ। তিনি আরও বলেন, গণভোট কখন হবে-এ নিয়ে আবার আমাদের ভেতরে কিছুটা ডিফারেন্স আছে। আমরা বলেছি, গণভোট আর জাতীয় নির্বাচন আলাদা বিষয়। তিনি বলেন, ‘গণভোটে এমন কিছু দিক আছে, যেগুলো যদি হ্যাঁ/না ভোটে না হয়, তাহলে এর ভিত্তিতে নির্বাচনের ক্যারেক্টারে কিছু পরিবর্তন হবে। যেমন আপার হাউজ বা পিআর পদ্ধতি। নির্বাচনের আগেই ঐকমত্য কমিশনের সিদ্ধান্ত জনগণের কাছে পৌঁছাতে হবে এবং সেই সিদ্ধান্তের আলোকে জাতীয় নির্বাচনে আপার হাউজের ভোট হবে। যদি এটি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই হয়, তাহলে তো আপার হাউজ নির্বাচনের দিন পর্যন্ত আর পাশ হলো না।’
আখতার হোসেন : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, আমরা জুলাই সনদের যে খসড়া পেয়েছি, সেই খসড়ায় নোট অব ডিসেন্টের বিষয়গুলো পরিষ্কার করা হয়নি। নোট অব ডিসেন্ট বিষয়গুলোর একটা সংজ্ঞায়ন প্রয়োজন। কীভাবে সেগুলোকে বাস্তবায়ন করা হবে, সে পথরেখা পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমরা যে অঙ্গীকারনামা পেয়েছি, সেই অঙ্গীকারনামায় আমরা দীর্ঘসময় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আলোচনা করেছি। সেই বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এখানে সুস্পষ্টভাবে বিস্তৃত হয়নি। আমরা একটি আদেশের মধ্য দিয়ে বাস্তবায়নের কথা বলেছি। সাংবিধানিক আদেশ নামকরণ হলে সেক্ষেত্রে অনেক আপত্তির জায়গা ছিল। আমরা জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির তরফ থেকে সেটিকে জুলাই বাস্তবায়নের আদেশ বা সাংবিধানিক সংস্কার আদেশ, যে কোনো নামেই হোক-সেটাকে আমরা বাস্তবায়নের কথা বলেছি। আমরা মনে করি, এই আদেশ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের প্রধান হিসাবে জারি করবেন। সেটা জনগণ অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছে, সেই অভিপ্রায়কে সুসংহত করতে হেড অব গভর্নমেন্ট হিসাবে প্রধান উপদেষ্টা সেটাকে বাস্তবায়ন করবেন, আদেশ জারি করবেন। তিনি বলেন, আমরা চাই-জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথটা পরিষ্কার করে তারপর সনদ স্বাক্ষর করার দিকে অগ্রসর হব। জাতির কাছে সব বিষয় পরিষ্কার করে তারপর জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হলে তবেই সেটা বাংলাদেশে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব এবং জাতির প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব।
জুলাই সনদ নিয়ে যারা সংকট সৃষ্টি করবে, তারা ইতিহাসের কাছে দায়ী থাকবে-অন্যান্য দল : বৈঠকে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, এটা একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। অনেক দ্বিধা ও সন্দেহ ছিল। কিন্তু সবার অসাধারণ সহযোগিতায় এই আলোচনা সম্পন্ন করেছি। অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে একমত হতে পেরেছি। বন্ধুত্বের মধ্য দিয়ে যাত্রাটা সম্পন্ন করেছি। নির্বাচন বাকি থাকবে। প্রত্যেকে নির্বাচনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এ পর্যন্ত এসেছি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দ্বিমত আছে, চেষ্টা করব সমাধান করার। বৈঠক শেষে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন হবেই। অর্থাৎ যে ধরনের সংকট আমরা উপলব্ধি করেছিলাম, নির্বাচন নিয়ে কোনোভাবেই আর কোনো সংকট সৃষ্টি করার সুযোগ নেই। তবে দু-একটি দলের পক্ষ থেকে আমার কাছে মনে হয়েছে একধরনের পরিবেশ ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে। হয়তো সরকারের পক্ষ থেকেই এ ধরনের একটা উপলব্ধি ছিল, যে কারণে সব দলের ম্যান্ডেট নিয়েছে। আবারও দলগুলো যে ঐক্যবদ্ধ, তা জাতিকে দেখানোর জন্য ডেকেছেন। অবশ্যই জুলাই জাতীয় সনদে সব দলকে স্বাক্ষর করতে হবে। এই জুলাই সনদ নিয়ে যদি কোনো সংকট সৃষ্টি করা হয়, যে দল, সংগঠন বা ব্যক্তি-যেই করুক না কেন তারা কিন্তু ইতিহাসের কাছে দায়ী থাকবেন। আমরা যদি সংকট সৃষ্টি করি, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ আবার ফিরে আসবে। সুতরাং আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। স্বাক্ষর করতে হবে।
সনদে সই করবে না বামপন্থি ৪ দল : জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করবে না বলে জানিয়েছে বামপন্থি চারটি রাজনৈতিক দল। বুধবার দলগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জুলাই সনদের সংবিধানের চার মূলনীতি উল্লেখ করা হয়নি এবং আরও কয়েকটি কারণে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলগুলো হলো-বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশ জাসদ ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, জুলাই সনদের পটভূমিতে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাস প্রতিফলিত হয়নি, তাই আমরা এতে স্বাক্ষর করব না। তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদের ৮৪ দফা সুপারিশের মধ্যে চারটি বাম দলের ভিন্নমত বা নোট অব ডিসেন্টের ব্যাখ্যাগুলোও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। আমরা কয়েকটি অঙ্গীকারের বিরোধিতা করেছি, যার মধ্যে একটি হলো-জুলাই সনদকে কোনো আদালতে কেউ চ্যালেঞ্জ করতে পারবে না। এ কারণেও আমরা এতে স্বাক্ষর করব না।
এর আগে ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক : এর আগে জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে সন্ধ্যায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়। প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, শুক্রবারই জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি। দুপুরের বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ওই বৈঠক হয়। তাতে বলা হয়, শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হবে।
প্রেস উইং জানায়, এই অনুষ্ঠানের সার্বিক প্রস্তুতি ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে সন্ধ্যায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ঐকমত্য কমিশনের অনুষ্ঠেয় বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা উপস্থিত থাকবেন।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, সফর রাজ হোসেন, ইফতেখারুজ্জামান, মো. আইয়ুব মিয়া ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্যসচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় : শুক্রবার সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়। ইতোমধ্যে অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এই আয়োজনে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে সহায়তা করছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। প্রায় তিন হাজার অতিথিকে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা আছে কমিশনের। সনদে সই করার জন্য ৩৩টি রাজনৈতিক দল ও জোটকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আগেই কমিশন দলগুলোর কাছ থেকে দুজন করে স্বাক্ষরকারীর নাম চেয়েছিল। ইতোমধ্যে ৩৩টি দল ও জোট দুজন করে স্বাক্ষরকারীর নাম কমিশনের কাছে পাঠিয়েছে।
