চাকসুতে ৫ কেন্দ্রের ফল ঘোষণা, ১০টিতে চলছে গণনা
ভিপি-জিএসে শিবির এগিয়ে
এজিএস পদে এগিয়ে ছাত্রদলের প্রার্থী * পালটাপালটি অভিযোগেও উৎসবমুখর ভোট * অমোচনীয় কালি দ্রুত মুছে যায় * সিলছাপ্পরহীন ব্যালট পেপারের সন্ধান * রেভ্যুলেশন ফর স্টেট হিউমিনিটি প্যানেলের ভোট বর্জন
Advertisement
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু), হল ও হোস্টেল সংসদ নির্বাচন শেষে চলছে ভোট গণনা। রাত দুটা পর্যন্ত ৫টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি ১০ কেন্দ্রের ভোট গণনা চলছে। ঘোষিত ৫ কেন্দ্রে ভিপি ও জিএস পদে এগিয়ে আছে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ইব্রাহীম হোসেন রনি ও সাঈদ বিন হাবিব। এজিএস পদে ছাত্রদলের আইয়ুবুর রহমান তৌফিক এগিয়ে আছেন। এর আগে ভিন্ন প্যানেল ও প্রার্থীদের পালটাপালটি অভিযোগের মধ্যেও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে চাকসু, হল ও হোস্টেল সংসদ নির্বাচন। দীর্ঘ প্রায় ৩৬ বছর পর ভোট দেওয়ার এমন সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বুধবার সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কোনো কোনো কেন্দ্রে ২০-২৫ মিনিট পর ভোট শুরু হয়। দিনশেষে দেখা গেছে, প্রায় ৬৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। বিকাল চারটায় ভোটগ্রহণ শেষ হলেও সব প্রস্তুতি শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে কেন্দ্রগুলোতে শুরু হয় ভোট গণনা। ১৪টি এলইডি স্ক্রিনে দেখানো হয় ভোট গণনার চিত্র।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার এই নির্বাচনকে জাতীয় নির্বাচনের রিহার্সাল বলে মন্তব্য করেছেন। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু সংঘাতহীন ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন শেষ হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। চাকসুতে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২৭ হাজার ৫১৭ জন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন, ভোট পড়েছে ৬৫ শতাংশ। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে পাঁচটি অনুষদ ভবনে। ১৫টি কেন্দ্রের মোট ৬০টি কক্ষে ৬৮৯টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে কেন্দ্রীয় ও হল সংসদ মিলিয়ে ৯০৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদে ২৬টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১৩টি প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে ৪১৫ জন এবং হল ও হোস্টেল সংসদে ৪৯৩ জন।
প্রথম শিল্পী রশিদ চৌধুরী হোস্টেলের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে ছাত্রদল মনোনীত প্যানেল এগিয়ে আছে। বুধবার রাতে চাকসু নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক একেএম আরিফুল হক সিদ্দিকী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এই হোস্টেলে মোট ভোটার ছিলেন ১৫৬ জন, এর মধ্যে ১২৪টি ভোট কাস্ট হয়েছে। ফলাফলে চাকসুর ভিপি পদে ছাত্রদলের প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় পেয়েছেন ৩৪ ভোট এবং সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী ইব্রাহিম হোসেন রনি পেয়েছেন ২৭ ভোট। জিএস পদে সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোটের সাঈদ বিন হাবিব পেয়েছেন ২৮ ভোট, ছাত্রদলের শাফায়েত হোসেন ১৪ ভোট এবং সুদর্শন চাকমা ২৯ ভোট পান। এজিএস পদে ছাত্রদলের তৌফিক পেয়েছেন সর্বাধিক ৩৮ ভোট, আর সাজ্জাত হোছন মুন্না পেয়েছেন ১১ ভোট।
এছাড়া শিল্পী রশিদ চৌধুরী হোস্টেল সংসদের ফলাফলও ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনে সহসভাপতি পদে খন্দকার মাসরুল আল ফাহিম, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে মোহাম্মদ আফসার সরকার, ক্রীড়া ও ক্যান্টিন সম্পাদক পদে সুকুমার রায়, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে মো. ফরহাদ হোসেন সুমন, দপ্তর সম্পাদক পদে আশিক বাবু, স্বাস্থ্য, আবাসন ও যোগাযোগ সম্পাদক পদে জামিল হোসেন এবং সমাজসেবা, পরিবেশ ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে তুষার দে নির্বাচিত হয়েছেন।
মাস্টার দা সূর্য সেন হলের ভোটের ফলাফলে ভিপি ও এজিএস পদে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। জিএস পদে এগিয়ে রয়েছেন ছাত্রশিবির প্যানেলের প্রার্থী। রাত ১১টার দিকে বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের ডিন অফিসে এ হলের ফল ঘোষণা করা হয়। ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় পেয়েছেন ১৪১ ভোট। ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের ইব্রাহীম হোসেন রনি পেয়েছেন ১৩০ ভোট। জিএস পদে ছাত্রশিবিরের প্রার্থী সাঈদ বিন হাবিব ১৭৫ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। ছাত্রদলের প্রার্থী শাফায়াত হোসেন পেয়েছেন ৫৩ ভোট। এজিএস পদে ছাত্রদল সমর্থিত আইয়ুবুর রহমান তৌফিক ১৭০ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। শিবিরের প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন মুন্না পেয়েছেন ৬৫ ভোট।
অতীশ দীপঙ্কর হলের ফলাফলে দেখা গেছে, ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় পেয়েছেন ২২৩ ভোট। ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের ইব্রাহীম হোসেন রনি পেয়েছেন ৯০ ভোট। জিএস পদে ছাত্রশিবিরের প্রার্থী সাঈদ বিন হাবিব ৮৩ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। ছাত্রদলের প্রার্থী শাফায়াত হোসেন পেয়েছেন ১৬৪ ভোট। এজিএস পদে ছাত্রদল সমর্থিত আইয়ুবুর রহমান তৌফিক ২৬৬ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। শিবিরের প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন মুন্না পেয়েছেন ৪৫ ভোট।
এই হল সংসদে ভিপি পদে রিপুল চাকমা ২১৭ ভোট ও জিএস মো. কবির আলী ১৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়া এজিএস অনন্ত কির্ত্তনীয়া ১৭৫, খেলাধুলা ও ক্রীড়া সম্পাদক রুমনজয় তঞ্চঙ্গ্যা ২৯৭, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক মনষা ত্রিপুরা ৩০৫, দপ্তর সম্পাদক অরিয়ন চাকমা ৩১২ ভোট পেয়ে জয় লাভ করেন।
সোহরাওয়ার্দী হলের ফলাফলে ভিপি পদে ছাত্রশিবিরের ইব্রাহিম হোসেন রনি ১৪৮৮ এবং ছাত্রদলের সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় ৬৮০ ভোট পেয়েছে। জিএস পদে ছাত্রশিবিরের সাইদ বিন হাবিব ১৪০৪ এবং ছাত্রদলের মো. শাফায়াত হোসেন ৪৫৮ ভোট পেয়েছে। এজিএস পদে ছাত্রশিবিরের সাজ্জাত হোছন মুন্না ৯০৬ এবং ছাত্রদলের আইয়ুবুর রহমান তৌফিক ৮৬৮ ভোট পেয়েছে। এছাড়া সোহরাওয়ার্দী হল সংসদের ভিপি পদে নেয়ামতুল্লাহ ফারাবী, জিএস মো. নুরুন্নবী সোহান বিজয়ী হয়েছে।
শহীদ আবদুর রব হলে ফলাফলে ভিপি পদে ছাত্রশিবিরের ইব্রাহিম হোসেন রনি ৬৪৯ এবং ছাত্রদলের সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় ২৮২ ভোট পেয়েছে। জিএস পদে ছাত্রশিবিরের সাইদ বিন হাবিব ৬৩৬ এবং ছাত্রদলের মো. শাফায়াত হোসেন ১৫৭ ভোট পেয়েছে। এজিএস পদে ছাত্রশিবিরের সাজ্জাত হোছন মুন্না ৩৬৩ এবং ছাত্রদলের আইয়ুবুর রহমান তৌফিক ৫৪০ ভোট পেয়েছে।
এছাড়া হল সংসদে ভিপি পদে মো. বোরহান উদ্দিন, জিএস পদে মনির হোসেন, এজিএস পদে মো. আবু বক্কর বিজয়ী হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অনাবাসিক ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে চবি কর্তৃপক্ষ শাটল ট্রেনের অতিরিক্ত ট্রিপের ব্যবস্থা করে। ছাত্রদল ও শিবিরের প্যানেলের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন স্থানে গাড়ি দিয়ে কেন্দ্রে ভোটার আনার ব্যবস্থা করা হয় বলে জানা গেছে। সন্ধ্যায় ভোট গণনার সময় কলাভবনের সামনের এলইডি প্যানেল বন্ধ থাকায় ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একটি কেন্দ্রে কয়েকজন প্রার্থীকে আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে।
নির্বাচন চলাকালে কিছুক্ষণ পরপর বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে নানা ধরনের অভিযোগ আসে। অভিযোগের মধ্যে ছিল, অমোচনীয় কালি দ্রুত মুছে যাওয়া, সিলছাপ্পরহীন ব্যালট পেপার পাওয়া, প্রতিবন্ধীদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতিতে ব্যালট না ছাপানো, বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে প্রশাসনের ব্যর্থতা ইত্যাদি। মিডিয়ার সামনে এসব অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন প্যানেলের প্রার্থীরা। কমিশনে লিখিতভাবে তেমন কোনো অভিযোগ জমা দেওয়া হয়নি। সন্ধ্যায় রেভ্যুলেশন ফর স্টেট অব হিউমিনিটি নামে একটি প্যানেল ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে উপস্থিতি : সরেজমিন বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শনে দেখা যায়, সকাল ৯টায় ভোট শুরুর কথা থাকলেও কোনো কোনো কেন্দ্রে ২০ থেকে ২৫ মিনিট পর শুরু হয়। চাকসু ভবনের দ্বিতীয়তলায় শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য স্থাপন করা কেন্দ্রে ৩০ মিনিট পর ভোট গ্রহণ শুরু হয়। অন্য কেন্দ্রগুলোতে সকালে ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সায়েন্স ফ্যাকাল্টি কেন্দ্রে বেলা বারোটার দিকে দেখা যায় দীর্ঘ লাইন। ভোটগ্রহণে এই কেন্দ্রে ধীরগতির কারণে ভোটারদের মধ্যে খানিকটা বিরক্তি দেখা দিলেও শেষ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থেকে তারা ভোট দিয়েছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনাবাসিক ভোটারদের শহর থেকে নিয়ে আসতে শাটল ট্রেনের ১১টি ট্রিপ নির্ধারণ করে দেয়। অর্থাৎ এই ভোটগ্রহণ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ট্রেনটি ১১ বার আসা-যাওয়া করে। এছাড়া ১৫ জোড়া বাসের ব্যবস্থা ছিল। শত শত শিক্ষার্থী শাটল ট্রেন এবং বাসে করেও কেন্দ্রে আসেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের প্রধান গেটে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়। বহিরাগত প্রবেশ ঠেকাতে শিক্ষার্থীদের আইডি ও পরিচয়পত্র দেখেই ঢোকানো হয়।
নির্বাচনে ২৭ হাজার ৫১৭ জন ভোটার থাকলেও এর দুই-তৃতীয়াংশই শহরের বাইরে থাকেন। এজন্য তাদের যাতায়াতের সুবিধা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পরিবহণের ব্যবস্থা করে চবি প্রশাসন। জানা গেছে, প্রথম শাটল ট্রেন সকাল সাড়ে ৭টায় চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে ক্যাম্পাসের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। এরপর সকাল ৮টায় একটি, ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশন থেকে, সকাল সাড়ে ৯টায় একটি এবং সকাল সোয়া ১০টায় আরও একটি ট্রেন শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসে। দিনের মধ্যে বেলা সাড়ে ১১টা, দুপুর ১২টা, দুপুর আড়াইটা, বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত শহর থেকে ক্যাম্পাসের উদ্দেশে শাটল ট্রেন ও বাস ছেড়ে আসে। আবার বিকাল ৫টা, রাত সাড়ে ৮টা ও রাত ৯টায় ক্যাম্পাস থেকে ফিরতি ট্রেনের শিডিউল দেওয়া হয়।
অমোচনীয় কালি মুছে যাওয়া ও সিল ছাড়া ব্যালট পাওয়ার অভিযোগ : চাকসু নির্বাচনে ভোট প্রদানের পর ভোটারদের আঙুলে যে অমোচনীয় কালির দাগ দেওয়া হয় তা সঙ্গে সঙ্গেই উঠে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ, সমাজবিজ্ঞান অনুষদ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের কয়েকটি কক্ষে এমন সমস্যা দেখা দেয় বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা। সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ৪০১ ও ৪০২ নম্বর কক্ষ, কলাভবনের ৩১২৪ নম্বর কক্ষে এই সমস্যা দেখা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদে ভোট দিয়ে এমন অভিযোগ সামনে আনেন ছাত্রদল প্যানেলের জিএস প্রার্থী মো. শাফায়াত হোসেন। তিনি বলেন, ভোটারের আঙুলে অমোচনীয় যে কালি দেওয়া হচ্ছে তা এক ঘষাতেই উঠে যাচ্ছে। এতে দ্বিতীয়বার জাল ভোট দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রফ্রন্ট সমর্থিত ‘দ্রোহ পর্ষদ’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী রিজু লক্ষ্মী অবরোধ ও জিএস ইফাজ উদ্দিন আহমেদ ইমুও একই অভিযোগ করেন। তারা বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানান। তবে নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘কালি উঠে গেলেও যে শিক্ষার্থী একবার ভোট দিয়েছেন তার নাম ভোটার তালিকায় কেটে দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে দ্বিতীয়বার ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকছে না। জার্মান থেকে উন্নত মানের অমোচনীয় কালি আনা যায়নি বলেই কেবল অর্নামেন্টাল হিসাবে এই কালি ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসাবে ক্যাম্পাসে উপস্থিত ছিলেন চবি ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন সালাম মিঠু। তিনি যুগান্তরকে বলেন, কয়েকটি কেন্দ্রে সিলছাপ্পর ছাড়া ব্যালট পাওয়া গেছে। এতে তাদের কাছে মনে হয়েছে, কারচুপির অংশ হিসাবেই সিলছাপ্পর ছাড়া ব্যালট পেপার কেন্দ্রে মজুত করা হয়েছে। ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় অভিযোগ করেন, আইটি ভবনের ২১৪ নম্বর রুমে স্বাক্ষর ছাড়া ২০টি ব্যালট পেপার পাওয়া গেছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি বলেন, অনিয়ম রোধ করতে না পারলে নির্বাচন কমিশন ইতিহাসের কাছে দায়ী হয়ে থাকবেন। ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে যে ধরনের অনিয়ম হয়েছে সে ধরনের অনিয়ম চাকসুতেও হয়েছে বলে দাবি করেন এই ছাত্রদল নেতা। তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচন বর্জন করার জন্য আসিনি। আমরা শিক্ষার্থীদের হয়ে কাজ করতে এসেছি। আমরা মনে করি, চাকসুতে জয়ী হতে পারলে শিক্ষার্থীদের পাশে আরও বেশি করে থাকা যাবে। জয়-পরাজয় যেটাই হোক আমরা শিক্ষার্থীদের হয়ে কাজ করে যাব।’ ছাত্রদলের জিএস প্রার্থী শাফায়েত হোসেন অভিযোগ করেন অনেক কেন্দ্রে, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসাররা তালিকায় ভোটার তথা শিক্ষার্থীর ছবি না দেখেই ব্যালট দিয়ে দিয়েছে। এতেও জাল ভোটের শঙ্কা তৈরি হয়।
ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলে সম্প্রীতির জোটের ভিপি প্রার্থী ইব্রাহিম হোসেন রনিও অমোচনীয় কালি মুছে যাওয়া, বহিরাগতদের ঠেকাতে প্রশাসনের ব্যর্থতার অভিযোগ আনেন। এরপরও তিনি নির্বাচনে যে ফল আসবে তা মেনে নেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন।
প্রতিবন্ধীদের জন্য ৭০টি ব্যালট ছাপাতে না পারায় ক্ষোভ : চাকসু নির্বাচনে ব্রেইল পদ্ধতির ব্যালট না ছাপানোয় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন শারীরিক প্রতিবন্ধী ভোটাররা। এ কারণে তারা ভোট দিলেও সেই ভোট যথাযথ প্রার্থীর ব্যালটে পড়ছে কিনা সেটা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। মোহাম্মদ তুষার নামে এক ভোটার অভিযোগ করেন, তাদের ৭০ জন ভোটার আছেন। তাদের জন্য কেন্দ্র করা হয়েছে চাকসু ভবনের দ্বিতীয়তলায়। নির্বাচন কর্মকর্তাদের সহায়তায় তারা ভোট দিচ্ছেন। কিন্তু যে প্রার্থীকে তারা ভোট দিতে বলেছেন সেই প্রার্থীর ব্যালটে ভোট দিচ্ছেন কিনা সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তা, সেটা তারা কেমন করে নিশ্চিত হবেন। তাছাড়া বক্সে ডাবল ব্যালট ঢুকিয়ে দেওয়ার শঙ্কাও আছে।

