জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার ভারত সফর তাৎপর্যপূর্ণ
Advertisement
মাসুদ করিম
প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের এবারের ভারত সফর খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল নিয়ে দিল্লি পৌঁছান। ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দপ্তরের এক কর্মকর্তা তাকে স্বাগত জানান। যদিও একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশ নিতে তার এই সফর। তবে সফরকালে ভারতীয় নেতাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক আলোচনার সুযোগে দ্বিপক্ষীয় ‘স্পর্শকাতর’ ইস্যু আলোকপাত করা স্বাভাবিক। পর্দার আড়ালে সম্পর্কের প্রলেপ লাগানোর কৌশল কতটা কার্যকর হয় সেটা আগামীতে স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা যায়। পরিবর্তিত বাস্তবতায় তার এ সফর নিয়ে জনমনে আগ্রহ প্রবল।
ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান ঘিরে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের মধ্যে মেঘ জমেছে। বাংলাদেশের সামনে নির্বাচন আর তার আগে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নানা উত্তেজনার মধ্যে তাই নিরাপত্তা উপদেষ্টার এ সফর কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। নির্বাচনের আগে ভারতীয় কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন নয়। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচনের আগে ভারতীয় তদানীন্তন পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং বাংলাদেশ সফর করায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। রাজনীতির ওই সময় এবং এখনকার সময়ের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। তবুও মোদি সরকারের ক্ষমতাধর ব্যক্তি অজিত দোভালের আমন্ত্রণে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী প্রশাসনে প্রভাবশালী ঝানু ও কূটনীতিক খলিলুর রহমানের সফরকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বাতাবরণ থেকে আলাদা বিবেচ্য নয় মোটেও। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান সম্পর্ক কেমন-এই প্রশ্নে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেছেন, ‘সম্পর্ক ভালোও নয়, খারাপও নয়।’
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভ মিটিংয়ে যোগ দিতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার এবারের ভারত সফর। ১৯-২০ নভেম্বর কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ের সপ্তম বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। এই আঞ্চলিক সম্মেলনে যোগ দিতে স্বাগতিক ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকার আঞ্চলিক সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার বিবেচনা করে থাকে। এ কারণে বাংলাদেশ বিভিন্ন আঞ্চলিক সংস্থার আলোচনায় সক্রিয় অংশ নিয়ে থাকে। চলতি বছরের এপ্রিলে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বিমসটেকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে তিনি সক্রিয় কাজ করছেন। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এর আগে চীনের কুনমিংয়ে অনুষ্ঠিত চায়না-ইন্ডিয়া ওশান রিজিওনাল ফোরামে অংশ নিয়েছেন। তার নয়াদিল্লিতে কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভে অংশগ্রহণ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পারস্পরিক স্বার্থে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের অব্যাহত প্রচেষ্টার অংশ বলে প্রধান উপদেষ্টা প্রেস উইংয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার এক বিবৃতিতে শেখ হাসিনা ও দণ্ডিত আরেক আসামি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত চেয়েছে। বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আহ্বান আগেই জানিয়েছেন ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আওয়ামী লীগ আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। এদিকে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শিগগিরই বাংলাদেশে ফিরছেন। বাংলাদেশের বিষয়ে ভারতের মিডিয়ায় নেতিবাচক প্রচারের প্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টা বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ করেছেন। ভারতে থেকে শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার দেওয়া নিয়েও ঢাকার আপত্তি রয়েছে।
অপরদিকে, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সম্পর্কের ধরনেও দিল্লির অস্বস্তি লক্ষ্য করা যায়। বঙ্গোপসাগর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা নিয়েও কৌতূহলী দিল্লি। কেউ কেউ মনে করেন, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে কিছুটা হলেও আস্থা ফেরানোর চেষ্টা জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার এবারের সফর।
