আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন
‘সংবিধানে সুরক্ষিত, চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ নেই’
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, সংশোধিত আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর অধ্যাদেশ বা ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারকে চ্যালেঞ্জ করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি জানান, এই আইন সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত। এটি চ্যালেঞ্জ করার আবেদনও খারিজ করা হয়েছে। তাই বিচার প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী চলবে। যারা এমন প্রশ্ন উত্থাপন করছেন, তাদের আইন সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। মঙ্গলবার যুগান্তরকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।
তাজুল ইসলাম বলেন, ‘১৯৭৩ সালের ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্টকে একটা ব্ল্যাংকেট প্রটেকশন দেওয়া হয়েছে। এই আইনের ব্যাপারে কোনো সাংবিধানিক আদালতে কোনো প্রশ্নই তোলা যাবে না। এই আইনে যার বিচার হচ্ছে, সেরকম কোনো ব্যক্তি মৌলিক অধিকার দাবি করে হাইকোর্ট ডিভিশনে বা সাংবিধানিক আদালতে কোনো আবেদন করতে পারবেন না।’
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম ট্রাইব্যুনাল আইনের ৩(১) ধারা উল্লেখ করে বলেন, এখানে বলা হয়েছে, ‘ট্রাইব্যুনালের যেকোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিগোষ্ঠী, সহায়ক বাহিনী বা গোয়েন্দা সংস্থার যে কোনো সদস্য, যারা জাতীয়তা-নির্বিশেষে, বাংলাদেশের ভূখণ্ডের মধ্যে বা তার বাইরে, এই আইন প্রবর্তনের আগে বা পরে, উপধারা (২)-এ উল্লিখিত যে কোনো অপরাধ সংঘটন করে বা করেছে, তাদের বিচার ও শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে। তিনি বলেন, এই ধারায় বলা হয়েছে, এই আইনের আগে বা পরে উল্লিখিত যে কোনো অপরাধ করলে বিচার ও শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া থাকবে।
প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি মামলায় গ্রেপ্তার আছেন ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক অব্যাহতিপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান। তার পক্ষে এই ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার চ্যালেঞ্জ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম আই ফারুকী ও আইনজীবী নাজনীন নাহার। শুনানি শেষে গত ২২ জানুয়ারি গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করার ক্ষমতা বা এখতিয়ার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নেই-এমন চ্যালেঞ্জ করে করা আবেদন খারিজ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
২০১২ সালের ১৩ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের বিষয়ে দ্বিধাবিভক্ত আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করেছিলেন চট্টগ্রামের আইনজীবী মোরশেদুর রহমান চৌধুরী। সেদিন তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ৩(২) ধারা সংশোধনীর বিরুদ্ধে রিট করা হয়েছিল। আগে সশস্ত্র বাহিনী এবং সহায়ক বাহিনীর সদস্যদের বিচারের জন্য আইনটি হয়েছিল। ২০০৯ সালে এর সঙ্গে ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে বিচার করা যাবে- এমন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। হাইকোর্ট এর আগে এ সংক্রান্ত আরও চারটি মামলার নিষ্পত্তি করেছেন।
