Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ

রাতারাতি সব বদলাবে না, সময় লাগবে

‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতা মূল স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রণ করে’

Advertisement

Icon

আলমগীর মিয়া

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রাতারাতি সব বদলাবে না, সময় লাগবে

Advertisement

‘সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ’ দেশের বিচার বিভাগের জন্য বড় ধরনের অগ্রগতি। দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে এ দিনটির জন্য। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এর নিয়ন্ত্রণ এখনো সরকারের হাতে রয়েছে। এটিকে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা বলা যাবে না। এখানে প্রধান বিচারপতিকে অর্থনৈতিক পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা দেওয়া হয়নি। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা মূল স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রণ করে বলে মনে করেন আইন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি জারি হওয়া সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবী মঙ্গলবার যুগান্তরের কাছে এমন প্রতিক্রিয়ার কথা জানান।

সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন যুগান্তরকে বলেন, এতদিন বলা হতো বিচার বিভাগ স্বাধীন, বাস্তবে ছিল না। যোগদান করার পর বর্তমান প্রধান বিচারপতির মিশন ছিল সুপ্রিমকোর্টের আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা। শেষমেশ তিনি সবার সহযোগিতা নিয়ে এটা করতে পেরেছেন। আমরাও চেয়েছি আলাদা হোক।

তিনি বলেন, এর বাস্তবায়ন নির্ভর করবে বাস্তব কাজের ওপর। স্বাধীনতা পাওয়া যত কঠিন, এর চেয়ে আরও কঠিন স্বাধীনতা রক্ষা করা। তিনি বলেন, অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে কাজ শুরু হয়েছে, আগামী জাতীয় সংসদে সেটি আইনে পরিণত করতে হবে। এর সঠিক বাস্তবায়ন নির্ভর করে সবার আন্তরিকতার ওপর।

বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘অধ্যাদেশের মাধ্যমে শুভযাত্রা হয়েছে। আশা করব, নির্বাচিত সরকার এসে প্রয়োজনে হলে কিছু সংযোজন-বিয়োজন করে আইনের মাধ্যমে এই যাত্রাটা অব্যাহত রাখবে। তবে সবকিছু নির্ভর করবে সরকারের আন্তরিকতার ওপর।’

তিনি বলেন, ৫০ বছরের বেশি সময় লেগেছে সুপ্রিমকোর্টের আলাদা সচিবালয় করতে। এখন প্রশাসনিক একটা কাঠামো গড়ে তুলতে বেশ কয়েক বছর লাগবে। তবে রাতারাতি সব বদলাবে না। এটি সময়সাপেক্ষ।

সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেছেন, যেসব বিচারক এখানে চাকরি করছেন তারা যদি সাহসী ও দক্ষ না হন, তাহলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও একাডেমিক স্বাধীনতা কোনো কাজে আসবে না। তিনি বলেন, সাহস একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা দেখছি সুপ্রিমকোর্ট স্বাধীন হলেও ফলাফল কী হয়েছে। এখানে কতজন বিচারক স্বাধীনভাবে কাজ করতে পেরেছেন বা পারছেন?

মনজিল মোরসেদ বলেন, সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়া বড় ধরনের অগ্রগতি। তবে এর নিয়ন্ত্রণ কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে এখনো সরকারের হাতে রয়েছে। তাই এটিকে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা বলা যাবে না। যেমন: পঞ্চাশ কোটি টাকার ওপরে কোনো প্রজেক্ট নিলে প্রধান বিচারপতি একা সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। তাকে কমিটির মাধ্যমে করতে হবে। যে কমিটিতে সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে অ্যাটর্নি জেনারেল রয়েছেন।

এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আরও বলেন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা না থাকলে পূর্ণাঙ্গভাবে কোনো কিছু কার্যকরী হয় না। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা মূল স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রণ করে।

প্রসঙ্গত, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর সুপ্রিমকোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় ‘সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির নির্দেশে ৩০ নভেম্বর আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করে। এর আগে ২০ নভেম্বর উপদেষ্টা পরিষদ অধ্যাদেশের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। জারীকৃত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বিচার বিভাগের সব প্রশাসনিক ও সাচিবিক দায়িত্ব এখন থেকে পালন করবে সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয়। অর্থাৎ অধস্তন আদালতের তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার সবকিছু এখন থেকে করবে সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয়, যা এতদিন করে আসছিল নির্বাহী বিভাগ তথা আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম