Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

টিআইবি’র সংবাদ সম্মেলনে ড. ইফতেখারুজ্জামান

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার

Advertisement

‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকার কঠোর অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। রোববার বিকালে ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের ইশতেহার প্রণয়নে টিআইবির সুপারিশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি অঙ্গীকারের মৌলিক কৌশলগত প্রত্যয় ও পথরেখার উপাদান প্রস্তাব করে টিআইবি। তাদের প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে, রাষ্ট্র পরিচালনায় সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার; সরকার পরিচালনায় দুর্নীতি প্রতিরোধ, জবাবদিহি ও সুশাসন; রাজনৈতিক সক্ষমতার ভিত্তি হিসাবে অর্থ ও পেশিশক্তি এবং ধর্মবিষয়ে অবস্থান; আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে জনস্বার্থ; বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, নারী-পুরুষসহ সব জেন্ডার, শারীরিক- মানসিক প্রতিবন্ধিতা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও জাতিগত সম-অধিকার, সম্প্রীতি ও সহঅবস্থান; জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা, অভীষ্ট ও জুলাই সনদ পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার এবং গণভোটে তার পক্ষে অবস্থান।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, রাজনৈতিক দলের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যতীত গণতন্ত্র, সুশাসন ও শুদ্ধাচার ব্যবস্থার সংস্কার সুপারিশ বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি ধরে রাখা সম্ভব নয়। তাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুশাসিত, বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত এবং নতুন সরকার গঠনের পর এর কার্যকর বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ধারাবাহিক গবেষণা, পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে এসব সুপারিশ করা হয়েছে বলেও জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে ড. ইফতেখারুজ্জামানের সঙ্গে যৌথভাবে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন টিআইবি’র সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মো. জুলকারনাইন এবং গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মুহাম্মদ বদিউজ্জামান।

টিআইবি’র সুপারিশমালায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি প্রতিরোধ, শুদ্ধাচার চর্চা ও সর্বোপরি সুশাসন প্রতিষ্ঠার সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এই মৌলিক কৌশলগত প্রত্যয়ের আলোকে রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি অঙ্গীকার হিসাবে রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে ‘নতুন বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে জুলাই জাতীয় সনদ ও অন্যান্য সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার, জুলাই অভ্যুত্থানে হতাহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও ক্ষতিপূরণ, অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধ, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, জনবান্ধব উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ, সমঅধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাসহ সুনির্দিষ্ট খাতভিত্তিক কৌশলগত সুপারিশমালা দলের ইশতেহারে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠের পর এক প্রশ্নের উত্তরে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুর্নীতি আগের চেয়ে বেড়েছে নাকি কমেছে, সে বিষয়ে তুলনামূলক তথ্য নেই। এটি নিয়ে টিআইবি কাজ করছে। কিন্তু এটা বলতে পারি, দুর্নীতি অব্যাহত আছে। রাজনৈতিক ও সরকারি স্পেসের ক্ষমতাকে অপব্যবহার করে বিভিন্ন মহল দলবাজি, দখলবাজি, চাঁদাবাজিতে লিপ্ত রয়েছে। সরকারের অভ্যন্তরেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে। এটা উদ্বেগজনক। তিনি আরও বলেন, এই সরকারের সময়ে আরও কঠোরভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সে ক্ষেত্রে তারা ব্যর্থ হয়েছে, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। টিআইবি বর্তমান সরকারের পুরো মেয়াদের ওপর একটি বিশ্লেষণ তৈরির কাজ করছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

আরেক প্রশ্নের উত্তরে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমরা এমন অবস্থায় আছি যে ৫৪ বছর, বিশেষ করে গত ১৫ বছরের যে জঞ্জাল, সেটা কাটিয়ে উঠে বাংলাদেশে সুশাসিত, গণতান্ত্রিক, দুর্নীতিমুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কাজটা চট করে জাদুর কাঠি দিয়ে সম্ভব নয়। এটা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার বিষয়, এটা মানতে হবে। তবে এই সুযোগটা তৈরি হয়েছে। সেই সুযোগ রাজনৈতিক দলগুলো কতটা নেবে, সেটা যেমন গুরুত্বপূর্ণ; একইভাবে তাদের কার্যপদ্ধতির মধ্যে অর্থ, পেশি ও ধর্মের প্রভাবটা নির্বাচনের আগে ও পরে কতটুকু তাদের প্রভাবিত করবে, সেটার ওপর ফলাফল অনেকটা নির্ভর করবে।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান শীতল সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ভারতের ইতিহাসে এটা (বর্তমান পরিস্থিতি) সবচেয়ে বেশি বিব্রতকর কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পরাজয়, এটা স্বীকার করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে এখন পর্যন্ত। ভারত এমন দেশ নয়, যারা সহজে এটা স্বীকার করবে। সেটা একটা বাস্তবতা। কিন্তু সেটার অর্থ এই নয় যে এটার কারণে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের উন্নতি ঘটবে না। উন্নতি ঘটার সুযোগ আছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই পক্ষের উচ্চ অংশীদারত্ব ও সহযোগিতার ক্ষেত্র আছে। সেটা উভয় পক্ষের ওপর নির্ভর করে। তবে ভারত যদি আরও বেশি বস্তুনিষ্ঠ অবস্থান নিতে পারত, কর্তৃত্ববাদের পক্ষে অবস্থান থেকে যদি সরে আসতে পারত, তাহলে সেটি বাংলাদেশের পক্ষে সহজতর হতো। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন টিআইবির উপদেষ্টা (নির্বাহী ব্যবস্থাপনা) অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের এবং আউটরিচ ও কমিউনিকেশন পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম