Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

সংবাদ সম্মেলনে শ্রম উপদেষ্টা

চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিন আড়াই কোটি টাকা চাঁদাবাজি

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিন আড়াই কোটি টাকা চাঁদাবাজি

শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের প্রতিটি জায়গায় চাঁদাবাজি হয়। বন্দরে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা অবৈধভাবে ওঠানো হয়। বন্দরটা সোনার ডিম পাড়া মুরগির মতো। সোমবার সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক বছরের অর্জন ও সাফল্য নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আপনি সন্তুষ্ট কি না-এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, এখন যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তাতে রাজনৈতিক দলগুলো জানে না তারা কী করবে। তাদের ভবিষ্যৎ কী? কোথায় কে কোনদিকে যাচ্ছে। এটাই কি বাংলাদেশে নতুন? তথাকথিত ওয়ান-ইলেভেনের পর এমন হয়নি? আমরা কিন্তু এ নিয়েই বেঁচে আছি। পার্টিতে পার্টিতে কি দাঙ্গা হচ্ছে? দলগুলোর মধ্যে মুখে মুখে কথা হচ্ছে। আমরা কথা বলার জাতি, কথা বলা ছাড়া থাকতে পারি না।

তিনি বলেন, দায়িত্বভার গ্রহণের সময় অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচন দেওয়ার কোনো শর্ত ছিল না। আমরাই বললাম, ইলেকশন হবে। সেই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক দলের দৌড়াঝাঁপ শুরু হয়, সেখানে তো সরকার হস্তক্ষেপ করতে পারে না। তাহলে পরিস্থিতি খারাপ কোথায়, সেটা আমি বোঝার চেষ্টা করছি।

নির্বাচন কমিশনে কাজ করার অভিজ্ঞতার বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, সব আমি ভুলে গেছি। নির্বাচন নিয়ে আমার কাছে বলার মতো কিছু নেই। আমি নির্বাচন নিয়ে অজ্ঞ, কোনো আইডিয়া নেই। এটা নির্বাচন কমিশন বলতে পারবে। নির্বাচন সময়মতো হবে। আমাদের ঘাড় ধরে কেউ বলেনি নির্বাচন করতেই হবে এবং এত তারিখের মধ্যে করতে হবে। আমরা গত বছর ৮ আগস্ট যখন দায়িত্বভার গ্রহণ করি, তখন তো আমাদের কেউ ম্যান্ডেট দেয়নি যে ভাই আপনাকে এক-দেড়-দুই বছরের মাথায় নির্বাচন দিতে হবে। তখন তো এসব কিছুই ছিল না।

উপদেষ্টা আরও বলেন, তবে দেশে একটা নির্বাচন হওয়া উচিত, নির্বাচিত সরকার আসা উচিত। ইউনিভার্সেল ডেমোক্রেটিক প্রসেসটা এস্টাবলিশড হওয়া উচিত। ১৭-১৮ বছর ডেমোক্রেটিক প্রসেস এস্টাবলিশড হতে দেখিনি। আমরা যদি সেটা করতে পারি, সেটা আমাদের বড় ক্রেডিট এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে না পারার কোনো কারণ দেখছি না।

চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে উচ্চ আদালতে করা রিট পিটিশন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, আমার মনে হয় যারা এটা নিয়ে আলোচনা করছেন, তারা নতুন বেঞ্চে যাবেন অথবা প্রধান বিচারপতির শরণাপন্ন হবেন। আমি রায়ের বিরুদ্ধে যাচ্ছি না, রায়ের কথাও বলছি না। দুনিয়ায় যাদের ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে, তারাই চট্টগ্রাম বন্দরে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করেছেন। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, পানগাঁও বন্দরে সরকার প্রতিবছর ২২ কোটি টাকা লস দিচ্ছে। লস আর লস।

তিনি বলেন, আশ্চর্য হই তখন, যখন আপনারা এগুলো নিয়ে একবারও জিজ্ঞেস করেন না চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রতিদিন কত অবৈধ টাকা ওঠানো হয়। আমি একটা রাফ ফিগার দিতে পারি; কিন্তু দিলে হয়তো ওটা নিয়ে কনটেস্ট হবে। প্রত্যেক জায়গায় চাঁদাবাজি। ভেতরে ট্রাক দাঁড়ানো থাকে দিনের পর দিন অথচ সেখানে ট্রাক রাখার জায়গা না। এসব করে কেউ না কেউ চাঁদা নিচ্ছে। পরে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এখন ট্রাক বাইরে রাখা হচ্ছে, সেখানেও চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।

উপদেষ্টা বলেন, অতীতে যিনি চট্টগ্রামের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন, তিনি মেয়র চেয়ে বন্দরের রক্ষক হিসাবে বেশি ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।

বন্দরে দৈনিক কথা টাকা চাঁদাবাজি হয়-এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা জানান, দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা। বন্দরে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন, তারা বেশি বলবে। চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পেরেছেন-এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, আগের চেয়ে অনেকাংশে কমেছে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি সম্পর্কিত প্রক্রিয়া নিয়ে করা রিট আবেদনের ওপর ৪ ডিসেম্বর বিভক্ত রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে বিভক্ত রায় হয়।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম