আজ ঐতিহাসিক জানাজার সাক্ষী হচ্ছে ঢাকা
ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ইমাম মুফতি মাওলানা আবদুল মালেক
Advertisement
নেসারুল হক খোকন
প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের রাজনীতির এক অম্লান নক্ষত্র, প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার প্রয়াণে পুরো জাতি শোকে মুহ্যমান। রাজপথের আপসহীন এ নেত্রী দেশের মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীক ছিলেন। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির নেতৃত্বে তিনি দলটির লাখ লাখ নেতাকর্মীর হৃদয়ে ছিলেন প্রেরণার বাতিঘর। মঙ্গলবার ভোরে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজনীতিবিদ থেকে সাধারণ মানুষ-সবার হৃদয়ে নেমেছে শোকের ছায়া। প্রিয় নেত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে নেতাকর্মীরা সারা দেশ থেকে ঢাকায় ছুটে আসছেন। এই জনস্রোত একত্রিত হবে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে।
বিএনপি হাইকমান্ডের ধারণা, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আজ স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। খালেদা জিয়ার স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জানাজাকেও ছাড়িয়ে ইতিহাসের সাক্ষী হবে ঢাকা। এই জানাজায় ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ইমাম মুফতি মাওলানা আবদুল মালেক। জনস্রোত সামলাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১০ হাজার সদস্য রাজধানীতে মোতায়েন করবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
এদিকে খালেদা জিয়ার জানাজাস্থলে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করবেন ডিএমপিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। জানাজায় অংশ নিতে গেলে কোনো ব্যাগ বা ভারী সামগ্রী সঙ্গে নেওয়া যাবে না। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের এক বার্তায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়, আজ দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবন মাঠ ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজা হবে। এরপর আনুমানিক বেলা সাড়ে ৩টায় শেরেবাংলা নগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে। দাফনের কার্যক্রম রাষ্ট্রীয়ভাবে হবে, এ কারণে সেখানে সাধারণ জনগণের প্রবেশাধিকার থাকবে না। সমাধিস্থল থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। এর অংশ হিসাবে মঙ্গলবার বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থল পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এ সময় তিনি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়ার জানাজা পড়াবেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব। সঞ্চালনা করবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। সবাই অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে জানাজায় অংশগ্রহণ করবেন। জানা যায়, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ‘আপসহীন নেত্রী’ অভিধা পাওয়া খালেদা জিয়া বিএনপির ৪১ বছরের নেতৃত্বে পাঁচবারের সংসদ-সদস্য, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, আর বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন দুবার। জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের শিকার হলে তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হন।
জিয়াউর রহমানের জানাজার পর সবচেয়ে বড় জানাজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ এমনটাই ধরে নিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। জিয়াউর রহমানের জানাজাটিও সংসদ ভবন এলাকা অর্থাৎ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময়ে তার জানাজায় প্রায় ২০ লাখ মানুষের সমাবেশ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি বৃহৎ জনসমাগম হিসাবে পরিচিত।
সংসদ ভবনে খালেদা জিয়ার লাশ নেওয়ার নির্ধারিত রুট ঘোষণা : খালেদা জিয়ার জানাজা জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে আজ বুধবার বাদ জোহর। এ উপলক্ষ্যে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে এদিন সকালে নির্ধারিত রুটে মরহুমার লাশ জাতীয় সংসদ ভবনে নেওয়া হবে। মঙ্গলবার ডিএমপির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে লাশবহনকারী কনভয় ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে কুড়িল ফ্লাইওভার অতিক্রম করবে। এরপর নৌ সদর দপ্তর হয়ে গুলশান-২-এর বাসভবন ফিরোজা, কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ, এয়ারপোর্ট রোড, মহাখালী ফ্লাইওভার, জাহাঙ্গীর গেট ও বিজয় সরণি হয়ে উড়োজাহাজ ক্রসিংয়ে পৌঁছাবে। সেখান থেকে বামে মোড় নিয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের ৬ নম্বর গেট দিয়ে দক্ষিণ প্লাজায় প্রবেশ করবে কনভয়টি। ডিএমপি জানায়, লাশবহনকারী কনভয়ের যাতায়াতের সময় সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোতে সাময়িকভাবে যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে। এ সময় জনসাধারণকে ধৈর্য ধারণ করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকার পথে বরিশালের নেতাকর্মীরা : বরিশাল ব্যুরো জানায়, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলায় শোকের ছায়া নামে। সকাল থেকে সদর রোডের দলীয় কার্যালয়ে জড়ো হতে থাকেন নেতাকর্মীরা। অনেকেই এ সময় ভেঙে কান্নায় পড়েন। কার্যালয়ে শুরু হয় কুরআন খতম। সেই সঙ্গে দফায় দফায় চলতে থাকে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া। এদিকে জানাজায় অংশ নিতে সকাল থেকেই দলে দলে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার বলেন, ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছেন নেতাকর্মীরা। কোনো আয়োজন কিংবা প্রস্তুতি নেই, যে যার মতো যাচ্ছেন। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, বরিশালের আপামর জনতা ঢাকায় যাচ্ছেন খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে। রাজনীতির ঊর্ধ্বে তাকে সবাই ভালোবাসতেন।
কুমিল্লায় মসজিদ-মাদ্রাসায় দোয়া ও কুরআন খতম : কুমিল্লা ব্যুরো জানায়, জেলা থেকে অর্ধলক্ষাধিক নেতাকর্মী যাচ্ছেন খালেদা জিয়ার জানাজায়। জেলার ১৭টি উপজেলা থেকে নিজ নিজ উদ্যোগে এসব নেতাকর্মী ঢাকায় যাবেন। কুমিল্লা বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া বলেন, মঙ্গলবার দুপুর থেকেই নেতাকর্মীরা ঢাকায় রওয়ানা হয়েছেন। এদিকে খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় নগরীসহ সব মসজিদ-মাদ্রাসায় দোয়া ও কুরআন খতম অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুমিল্লা উত্তর দক্ষিণ এবং মহানগর বিএনপির উদ্যোগে শোক বই খোলা হয়েছে।
