এবার কিউবা, মেক্সিকো, কলম্বো
লাতিনের তিন দেশে ট্রাম্প আতঙ্ক, ভয়ে ইরানও
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের অপহরণের পর থেকে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্ব মানচিত্রে। এরই মধ্যে আবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীক্ষ্ণ নজর পড়েছে লাতিন আমেরিকার আরও তিন দেশে-কলম্বিয়া, মেক্সিকো ও কিউবায়। ভেনিজুয়েলার মতো পরিণতি হতে পারে তাদেরও, এমন হুমকিতে ট্রাম্প আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এই দেশগুলোতেও। উদ্বেগ বেড়েছে ইরানেও। রোববার লাতিন আমেরিকার পাশাপাশি ইরানেও সরাসরি হামলার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। আলজাজিরা, রয়টার্স, বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান।
শনিবার ভোরে ভেনিজুয়েলার সবচেয়ে বৃহৎ ও সুরক্ষিত ঘাঁটিতে ঢুকে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক বন্দি করে যুক্তরাষ্ট্র। এবার এই অঞ্চলেরই আরও তিন দেশের ওপর নজর পড়েছে ট্রাম্পের। তিনি মনে করেন, এই দেশগুলো মাদক ব্যবসার আঁতুড়ঘর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, মাদক পাচার ও অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে তার দেশ কাউকেই ছাড় দেবে না। মাদক সন্ত্রাস ঠেকাতে যা প্রয়োজন তাই করবে তার দেশ। মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে আটক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র নিন্দা করেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। এর পরই রোববার পেত্রোকেও সামরিক অভিযানে হুমকি দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘ভেনিজুয়েলা গভীর সংকটে আছে। কলম্বিয়াও গভীর সংকটে আছে। সেখানে একজন অসুস্থ ব্যক্তি দেশ চালাচ্ছেন। যিনি কোকেন তৈরি করে তা যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করতে পছন্দ করেন। আমি আপনাকে বলতে চাই, তিনি খুব বেশি দিন এমনটা চালিয়ে যেতে পারবেন না।’ এদিকে কিউবার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, শিগগিরই কিউবায়ও সরকারের পতন হতে পারে। তিনি বলেন, দেশটিতে ‘সামরিক হস্তক্ষেপের’ আশঙ্কা কম। কারণ তারা নিজেরাই পতনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া মেক্সিকোকে ট্রাম্প বারবারই অবৈধ অভিবাসন এবং দক্ষিণাঞ্চলে মাদকের কারবার নিয়ে সতর্ক করে এসেছেন। যদিও ট্রাম্প দাবি করেন, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউমের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘আমরা খুব ভালো বন্ধু। শেইনবাউম ভালো একজন নারী। তবে মেক্সিকোকে তিনি পরিচালনা করছেন না। মেক্সিকোকে পরিচালনা করছে মাদক ব্যবসা। মাদকচক্র পরিচালিত এই দেশটি নিয়ে কিছু একটা করতে হবে।’
ইরানেও সরাসরি হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিস প্রেসিডেন্ট। দেশটিতে চলমান বিক্ষোভে যদি আবারও বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ‘খুব শক্ত আঘাত’ হানবে বলে হুমকি দিয়েছেন তিনি। এর আগেও ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানে বিক্ষোভকারীদের প্রাণহানি হলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে। এদিকে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের কট্টরপন্থি কর্মকর্তাদের বক্তব্য সন্ত্রাস ও সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে। শত্রুপক্ষের কাছে কখনো মাথা নত করবে না বলেও জানিয়েছে দেশটি। উল্লেখ্য, রোববার নবম দিনে পৌঁছেছে ইরানের বিক্ষোভ। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্বের দাবিতে বিক্ষোভ চলছে দেশটিতে।
গ্রিনল্যান্ড দখলের ‘হুমকি’ বন্ধ করুন, ট্রাম্পকে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী : এবার গ্রিনল্যান্ড দখল প্রসঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘হুমকি’ দেওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডরিকসেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দখলের কোনো অধিকার নেই এবং দ্বীপটি বিক্রির জন্য নয়। ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ একজন মিত্র দেশের বিরুদ্ধে এমন হুমকি বন্ধ করুন।’ মাদুরোকে অপহরণের কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প আবারও গ্রিনল্যান্ড দখলের ইচ্ছা প্রকাশ করায় এই মন্তব্য করেন ফ্রেডরিকসেন।
ভারতের ওপর শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের : রাশিয়া থেকে তেল আমদানির বিষয়ে ভারতকে আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার তিনি বলেছেন, নয়াদিল্লি যদি রুশ তেল কেনা অব্যাহত রাখে তবে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরও অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। ট্রাম্প বলেন, ‘মোদি একজন ভালো মানুষ। তবে তিনি জানতেন আমি এ ব্যাপারে খুশি নই এবং আমাকে খুশি রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ রাশিয়ার তেল কেনায় গত বছর ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ককর আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এলো যখন রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের জ্বালানি বাণিজ্য নিয়ে ওয়াশিংটনের নজরদারি ও কূটনৈতিক চাপ তুঙ্গে।
