Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

ইসিতে আপিলের দ্বিতীয় দিন

মান্না ও জামায়াতের দুজনসহ ৫৮ জন ফিরে পেলেন প্রার্থিতা

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মান্না ও জামায়াতের দুজনসহ ৫৮ জন ফিরে পেলেন প্রার্থিতা

Advertisement

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও জামায়াতে ইসলামীর দুজনসহ মোট ৫৮ জনের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানির দ্বিতীয় দিনে এসব প্রার্থীর প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এ নিয়ে গত দুদিনে ১০৯ জন নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফিরে এলেন। দ্বিতীয় দিনে স্বতন্ত্র ১০ জন, খেলাফত মজলিসের আটজন, জাতীয় পার্টির ছয়জন, গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) ছয়জন এবং ইসলামী আন্দোলনের দুজনের আপিল আবেদন মঞ্জুর করে ইসি।

নির্বাচন কমিশন রোববার মোট ৭১টি আপিল আবেদনের ওপর শুনানি করে। এর মধ্যে ৫৮টি মঞ্জুর, সাতটি আবেদন নামঞ্জুর ও ছয়টি আবেদন অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। শুনানিতে বগুড়া-২ আসনের নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী মাহমুদুর রহমানের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়। জামায়াতে ইসলামীর চাঁদপুর-২ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল মুবিন ও জামালপুর-৩ আসনের প্রার্থী মো. মজিবুর রহমান আজাদীর আপিল মঞ্জুর করেছে ইসি। ফলে এ নির্বাচনে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাধা নেই। তবে যশোর-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের আপিল আবেদনের ওপর শুনানি হলেও সিদ্ধান্ত না দিয়ে অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। এ আবেদনের ওপর ১৬ জানুয়ারি আবারও শুনানি হবে।

অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে এবি পার্টির একজন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের তিন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি’র এক, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের চারজন, জনতার দলের তিনজন, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির একজন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির দুজন করে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করে ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয় ১৮৪২ জনের। মনোনয়নপত্র বাছাই করে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। এসব আপিল আবেদন আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত শুনানি করবে ইসি।

স্বতন্ত্র যেসব প্রার্থী নির্বাচনে ফিরেছেন তারা হলেন-বগুড়া-২ রেজাউল করিম তালু, রাঙামাটিতে পহেল চাকমা, সাতক্ষীরা-৩ শহীদুল আলম, জামালপুর-৩ সাদিকুর রহমান, ঝালকাঠি-২ নুরুদ্দীন সরদার, নীলফামারী-৪ রিয়াদ আরফান সরকার, যশোর-২ জহুরুল ইসলাম, হবিগঞ্জ-৪ মিজানুর রহমান চৌধুরী, নড়াইল-১ এসএম সাজ্জাদ হোসেন ও মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে মো. মহিউদ্দিন।

জাতীয় পার্টির ছয়জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। তারা হলেন-বগুড়া-২ আসনে শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ, কুমিল্লা-১ ইফতেখার আহসান, যশোর-৪ জহরুল হক, যশোর-৫ এম এ হালিম, যশোর-৬ জিএম হাসান ও রাজশাহী-৬ ইকবাল হোসেন।

খেলাফত মজলিসের বৈধ হওয়া প্রার্থীরা হলেন-গাজীপুর-২ আসনের খন্দকার রুহুল আমিন, টাঙ্গাইল-৫ হাসনাত আল আমীন, টাঙ্গাইল-৮ শহীদুল ইসলাম, টাঙ্গাইল-৭ মোহাম্মদ আবু তাহের, গাইবান্ধা-২ এ কে এম গোলাম আযম, ফেনী-৩ মোহাম্মদ আলী, জয়পুরহাট-১ আনোয়ার হোসেন ও সুনামগঞ্জ-১ আসনের হাজী মুখলেছুর রহমান। এবি পার্টির জয়পুরহাট-১ আসনের সুলতান মোহাম্মদ শামছুজ্জামান ও জয়পুরহাট-২ আসনের এসএ জাহিদও প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। অন্যান্য দলের মধ্যে কুড়িগ্রাম-২ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান, কুমিল্লা-৬ আসনের বাসদের প্রার্থী কামরুন্নাহার সাথী, ঢাকা-১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নুরুল ইসলাম, কুমিল্লা-৮ আসনে বাসদের আলী আশ্রাফ, নেত্রকোনা-১ আসনে জেএসডির বেলাল হোসেন, হবিগঞ্জ-৩ আসনে মুক্তিজোটের শাহিনুর রহমান ও নড়াইল-২ আসনে গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) নূরুল ইসলামের আপিল আবেদন মঞ্জুর হয়েছে।

এছাড়াও প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন হবিগঞ্জ-৪ আসনের মুক্তিজোটের প্রার্থী রাশেদুল ইসলাম খোকন, লক্ষ্মীপুর-২ আসনে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির ফরহাদ মিয়া, লক্ষ্মীপুর-২ আসনে গণঅধিকার পরিষদের আবুল বাশার, চাঁদপুর-১ আসনে গণঅধিকার পরিষদের এনায়েত হোসেন, মাদারীপুর-৩ বাসদের আমিনুল ইসলাম, ঢাকা-৮ আসনে জনতার দলের গোলাম সরোয়ার ও ঢাকা-১০ আসনে একই দলের জাকির হোসেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির সেলিম আহমেদ, চাঁদপুর-২ রিপাবলিকান পার্টির ফয়জুননুর, নারায়ণগঞ্জ-৪ গণঅধিকার পরিষদের আরিফ ভূঁইয়া ও নারায়ণগঞ্জ-৫ একই দলের নাহিদ হোসেন, টাঙ্গাইল-৮ আম জনতার দলের আলমগীর হোসেন, বগুড়া-৬ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মামুনুর রশীদ, সিরাজগঞ্জ-১ নাগরিক ঐক্যের নাজমুস সাকিব, ঢাকা-১৮ ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সাবিনা জাবেদ, ঝালকাঠি-১ গণঅধিকার পরিষদের শাহাদৎ হোসেন, ঢাকা-১৫ সুপ্রিম পার্টির মোবারক হোসেন, ঢাকা-১৮ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির মফিজুল ইসলাম, ঢাকা-৭ বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মাকসুদুর রহমান, বগুড়া-৫ এলডিপির খান কুদরদ ই সাকলায়েন, গাইবান্ধা-৩ জনতার দলের মঞ্জুরুল হক ও মাগুরা-১ আসনে গণফোরাম প্রার্থী মিজানুর রহমান।

আপিল শুনানিতে সাতজনের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে। অর্থাৎ তাদের প্রার্থিতা বাতিলই থাকছে। তারা হলেন-ফরিদপুর-৩ মোরশেদুল ইসলাম আসিফ, রাজশাহী-৩ হাবিবা বেগম, শেরপুর-১ ইলিয়াছ উদ্দিন, ভোলা-২ তাছলিমা বেগম, রংপুর-৪ জয়নুল আবেদিন, খুলনা-৪ এসএম আজমল হোসেন ও ময়মনসিংহ-৯ আসনের শামসুল ইসলাম।

আপিল আবেদন অপেক্ষমাণ থাকা ছয়জন প্রার্থীরা-ভোলা-২ স্বতন্ত্র মহিবুল্যাহ খোকন, ফরিদপুর-৪ স্বতন্ত্র আবদুল কাদের মিয়া, রাজশাহী-৫ স্বতন্ত্র রায়হান কাওসার, ময়মনসিংহ-৪ ন্যাশনাল পিপলস পার্টির হামিদুল ইসলাম, খুলনা-১ স্বতন্ত্র গোবিন্দ হালদার ও যশোর-২ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ মোসলেহউদ্দিন ফরিদ।

প্রার্থিতা বাতিলে মবোক্রেসির শিকার হয়েছি-মান্না : প্রার্থিতা ফেরত পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশনে আসেন নাগরিক ঐক্যের বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্না। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, আমার বিরোধিতা করতে গিয়ে যে মবোক্রেসি করা হয়েছে, তা খুবই অশুভ ইঙ্গিত বহন করে। তিনি বলেন, রক্ত দিয়ে, জীবন দিয়ে আমরা যে অধিকারের জন্য সংগ্রাম করেছি, সেই গণতন্ত্রকে ব্যঙ্গ করার মতো ঘটনা ঘটলে দুঃখ প্রকাশ ছাড়া কিছু থাকে না। ক্ষমতার জন্য এ ধরনের ঘটনা কখনোই গণতন্ত্রের পথ হতে পারে না। এ সময় প্রতিদ্বন্দ্বীদের নাম উল্লেখ না করে মান্না বলেন, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে কোমরের নিচে আঘাত করে কাউকে হারানোর চেষ্টা রাজনীতি নয়। ষড়যন্ত্র করে জেতা যায় না। গণতন্ত্রের লড়াই দীর্ঘস্থায়ী হলে ষড়যন্ত্র টেকে না। আজকের রায় তার প্রমাণ। বিএনপির সমর্থন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনো তাদের মনোনয়ন দেওয়া প্রার্থী তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। কিন্তু আমি আশা করি, যেহেতু আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, সেক্ষেত্রে মনোনয়ন প্রত্যাহার করাই স্বাভাবিক নিয়ম হবে।

বগুড়া-১ আসনে রিট খারিজ, বহাল বিএনপি প্রার্থী : বগুড়া ব্যুরো জানায়, বগুড়া-১ (সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) আসনে বিএনপির প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল চেয়ে দায়ের করা রিট খারিজ করেছেন হাইকোর্ট। রোববার হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ শুনানি শেষে রিটটি খারিজ করে দেন। এতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার প্রার্থী হতে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম