উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক
জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তির অধ্যাদেশ অনুমোদন
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দিয়ে করা অধ্যাদেশ উপদেষ্টা পরিষদ অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়ে থাকলে তা প্রত্যাহার করা হবে এবং নতুন করে তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা যাবে না। বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ’ অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, আগামী ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে গেজেট জারি হবে।
উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে রাজনৈতিক প্রতিরোধের উদ্দেশে সংঘটিত কার্যাবলি থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিরোধ বলতে বোঝানো হয়েছে, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সংঘটিত কার্যাবলির দায়দায়িত্ব থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দেওয়া। আসিফ নজরুল বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় যদি কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকে, যেটার সঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থান সম্পৃক্ত নয় তাহলে এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে দায়মুক্তি দেওয়া যাবে না। তিনি পরিষ্কার করে বলেন, যদি লোভের বশবর্তী হয়ে, প্রতিশোধপরায়ণ ও সংকীর্ণ স্বার্থে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকে তা হলে এ আইনের মাধ্যমে তাকে দায়মুক্তি দেওয়া বা পাওয়া যাবে না। এ অধ্যাদেশটি তাদের জন্য করা হয়নি। আইনটি করা হচ্ছে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য সংঘটিত কার্যাবলির ক্ষেত্রে। সে কার্যাবলিতে যারা সমন্বিতভাবে জড়িত ছিলেন, তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।
উপদেষ্টা বলেন, সরকার আগেই ঘোষণা করেছিল জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দেওয়া হবে। জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল, সেটি রক্ষায় এ অধ্যাদেশ করা হয়েছে।
আসিফ নজরুল বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা থাকলে সে মামলা প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নেবে সরকার। এছাড়া এখন থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা করা যাবে না। তবে জুলাই ও আগস্টে রাজনৈতিক প্রতিরোধের নামে ব্যক্তি ও সংকীর্ণ স্বার্থে কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকলে সে ফৌজদারি মামলা থেকে রেহাই পাবে না।
আইন উপদেষ্টা বলেন, কোনো ভিকটিমের পরিবার যদি মনে করে তার পিতা বা তার ভাই হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে, সে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের কোনো সম্পর্ক ছিল না, তাহলে তারা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে যাবেন। মানবাধিকার কমিশন তদন্ত করে যে সত্য উদ্ঘাটন করবে তা প্রতিবেদন আকারে আদালতে জমা দেবে। পুলিশের তদন্তের মতোই মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদন সমানভাবে আদালতে গৃহীত হবে। তদন্ত সংস্থা যদি মনে করে ভিকটিমের পরিবার ক্ষতিপূরণ পাওয়ার দাবি রাখে বা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য-তাহলে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান অধ্যাদেশে থাকবে। তদন্তে যদি উঠে আসে রাজনৈতিক প্রতিরোধের কারণে এই হত্যাকাণ্ড, তাহলে তাকে দায়মুক্তি দেওয়া হবে। আর যদি ব্যক্তিগত কোনো সংকীর্ণ স্বার্থে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকে, তাহলে সেই অপরাধ থেকে কেউ রেহাই পাবে না। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন তো এখন কার্যকর নেই এবং ভুক্তভোগী তাহলে এখন কোথায় যাবেন এমন প্রশ্নে আইন উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বর্তমানে কার্যকর নেই। ৩১ জানুয়ারির মধ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠন করা হবে। তখন মানবাধিকার কমিশনে যাবেন ভুক্তভোগীরা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ অনড় : অপর এক প্রশ্নে আইন উপদেষ্টা বলেন, ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ অনড়। আমরা আমাদের অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই। আমরা প্রচণ্ডভাবে বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলতে চাই, সেটা আমরা শ্রীলংকাতেই খেলতে চাই এবং এটা আয়োজন করা অসম্ভব না বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। রাজধানীর সড়ক অবরোধ করে দাবি-দাওয়ায় জনভোগান্তি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আইন উপদেষ্টা বলেন, মানুষের ন্যূনতম নাগরিক দায়িত্ববোধ না থাকলে সরকারের একার পক্ষে সব সামলানো কঠিন। প্রয়োজনে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, গত ১৬ মাসে প্রায় ২ হাজার আন্দোলন রাস্তায় হয়েছে। তিনি বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের মেয়াদ আর মাত্র ১ মাস। আমি খুব আগ্রহ নিয়ে দেখব, আমাদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রাস্তায় আর কত আন্দোলন হয়।
