ইরানের দিকে ছুটছে মার্কিন রণতরি
আঙুল ‘ট্রিগারে’ আছে -আইআরজিসি কমান্ডার
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজের বহর ইরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে ‘নজরে রাখতে’ তিনি রণতরিসহ মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের একটি বহর ইরানের দিকে পাঠাচ্ছেন। বিক্ষোভকারীদের হত্যা করলে বা পারমাণবিক কর্মসূচি আবার চালু করার চেষ্টা করলে তা গুরুতর পরিণতির দিকে নিয়ে যাবে। এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কমান্ডার ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেছেন, তার বাহিনীর আঙুল ‘ট্রিগারে’ রয়েছে। খবর রয়টার্স, এএফপির।
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে অংশগ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার ফেরার পথে ট্রাম্প এয়ারফোর্স ওয়ানের ভেতর সাংবাদিকদের বলেন, ‘সেদিকে আমাদের অনেক জাহাজ যাচ্ছে, শুধু যদি প্রয়োজন পড়ে-আমি চাই না কোনো ঘটনা ঘটুক, তবে আমরা তাদের ওপর কড়া নজর রাখছি।’ তার এই হুমকির পর ফাঁসি কার্যকর করার মাত্র এক ঘণ্টা আগে ইরান তা বাতিল করে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বলেছিলাম, আপনারা যদি ওই লোকগুলোকে ফাঁসি দেন, তাহলে আপনাদের ওপর এমন আঘাত আসবে, যা আগে কখনো আসেনি। তখন আপনাদের ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে আমরা যা করেছি, সেটাও অনেক ক্ষুদ্র বলে মনে হবে।’
এই হুমকির পর ফাঁসি কার্যকর করার মাত্র এক ঘণ্টা আগে ইরান তা বাতিল করে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি ইরানের ফাঁসি বাতিলের সিদ্ধান্তকে ‘ভালো লক্ষণ’ বলে উল্লেখ করেন। কথা প্রসঙ্গে ট্রাম্প আবারও বলেন, ‘আমাদের একটি যুদ্ধজাহাজের বহর সেদিকে যাচ্ছে, তবে হয়তো আমাদের তা ব্যবহার করতে হবে না।’
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর গত সপ্তাহে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যের দিকে চলতে শুরু করে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং কয়েকটি গাইডেড মিসাইল ধ্বংসকারী জাহাজ আগামী কয়েকদিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাবে। এক কর্মকর্তা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে আরও বাড়তি আকাশ সুরক্ষাব্যবস্থা স্থাপনের কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে, যা এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোর ওপর ইরানের সম্ভাব্য কোনো হামলা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
এদিকে ইরানজুড়ে বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেছেন, তার বাহিনীর আঙুল ‘ট্রিগারে’ রয়েছে। গত বছরের জুনে ইসরাইলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ১২ দিন ধরে ইরান-ইসরাইল সংঘাত চলার পর থেকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের বিকল্প খোলা রেখেছেন ট্রাম্প।
ইরানে আইআরজিসি কমান্ডার জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, ‘ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা ও ১২ দিনের আরোপিত যুদ্ধ থেকে তাদের যে শিক্ষা হয়েছে, ভুল হিসাব এড়াতে তারা যেন তা থেকে শিক্ষা নেয়। নতুবা তাদের আরও যন্ত্রণাদায়ক ও বেদনাদায়ক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।’
প্রতিপক্ষকে হুঁশিয়ার করে পাকপুর আরও বলেন, ‘বিপ্লবী গার্ড ও প্রিয় ইরান সর্বাধিক সতর্ক অবস্থায় রয়েছে, তাদের আঙুল ট্রিগারে, অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রস্তুত আছে, সর্বোচ্চ কমান্ডারের আদেশ ও পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’
যে কোনো আগ্রাসনের জবাব হবে ধ্বংসাত্মক : ইরানের ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাব হবে দ্রুত, নিখুঁত ও ধ্বংসাত্মক। ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের কমান্ডার এ কথা জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক হামলার হুমকির জবাবে মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব ভালোভাবেই জানে-যে কোনো ভুল হিসাবের পরিণতি কী হতে পারে। তিনি বলেন, ইরানি জাতির ভূখণ্ড, নিরাপত্তা ও স্বার্থের বিরুদ্ধে যে কোনো আগ্রাসন হলে তাৎক্ষণিকভাবে এবং প্রথম ধাপেই যুক্তরাষ্ট্রের সব স্বার্থ, ঘাঁটি ও প্রভাবকেন্দ্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য বৈধ, নিশ্চিত ও সহজলভ্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। তিনি আরও বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিরক্ষা শক্তি বাস্তব, সক্রিয় এবং অটল।
মেজর জেনারেল আবদোল্লাহি আরও বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান বারবার স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে-তারা কখনোই যুদ্ধ শুরু করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। তবে ইরানি জাতির নিরাপত্তা ও স্বার্থের বিরুদ্ধে যে কোনো আগ্রাসন, হুমকি, হামলা বা শত্রুতামূলক পদক্ষেপের জবাব তারা দ্রুত, দৃঢ় ও কঠোরভাবে দেবে।
