Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

অর্থ উপদেষ্টার নেতৃত্বে বৈঠক আজ

একীভূত হচ্ছে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ!

Advertisement

Icon

মনির হোসেন

প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

একীভূত হচ্ছে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ!

ফাইল ছবি

Advertisement

একীভূত হচ্ছে দেশের দুই শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। এই দুই প্রতিষ্ঠানকে এক করে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিষয়টি নিয়ে আজ অর্থ উপদেষ্টার নেতৃত্বে অর্থ মন্ত্রণালয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হবে। এগুলো হলো-ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে শেয়ার সংরক্ষণকারী কোম্পানি সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডকে (সিডিবিএল) শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করা। এছাড়াও এ খাতে আরেক প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেডকে (সিসিবিএল) ডিএসইর সাবসিডিয়ারি কোম্পানিতে রূপান্তর করা। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।

জানতে চাইলে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মুসা মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, ডিএসইর আওতা বড়। কিন্তু ওই ভাবে হিসাবে সিএসই ততটা বড় নয়। ফলে দুই এক্সচেঞ্জ এক হলে এর আকার খুব বেশি বাড়বে এমন নয়। তবে এরপরও দুই স্টক এক্সচেঞ্জ একীভূত করে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ইতিবাচক। কারণ বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোও বাজারে ভালো পারফর্ম করছে না। এছাড়াও করপোরেট বিনিয়োগকারীদের অবস্থা ভালো নয়। বিশেষ করে মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর অবস্থা খারাপ। অর্থাৎ বাজারে ইতিবাচক তেমন কোনো সংবাদ নেই। এ অবস্থায় ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠিত হলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশার আলো সঞ্চার হবে। দ্বিতীয়ত, সিডিবিএল শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হলে তা বাজারের জন্য ইতিবাচক। কারণ কোম্পানিটি লাভজনক। তাদের মুনাফা যথেষ্ট ভালো। এই কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি কম। তিনি বলেন, কোম্পানিটি আগেই তালিকাভুক্ত হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু হয়নি। এরপর এখন তালিকাভুক্ত হলে বিনিয়োগকারীরা তা ভালোভাবে নেবেন।

সূত্র জানায়, আজ বেলা ১১টায় অর্থ মন্ত্রণালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে উপস্থিত থাকবেন-বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বা তার প্রতিনিধি, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান, দুই স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান, সিডিবিএল ও সিসিবিএলের চেয়ারম্যান এবং আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায়) ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরীকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এছাড়াও দুই স্টক এক্সচেঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন ব্রোকারেজ হাউজের প্রতিনিধিরা আমন্ত্রণ পাননি। সূত্র জানায়, এখনো বিষয়টি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, দুই স্টক এক্সচেঞ্জ একীভূত হওয়ার দাবি দীর্ঘদিনের। তবে তুলনামূলকভাবে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ অনেক পিছিয়ে। ফলে ডিএসইর স্টেক হোল্ডাররা সিএসইর সঙ্গে একীভূত হতে আগ্রহী নন। এছাড়াও একীভূতকরণ প্রক্রিয়াটি একটু জটিল। কারণ কৌশলগত বিনিয়োগকারী বা স্ট্রাটেজিক পার্টনারদের বিষয় রয়েছে। ডিএসইতে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসাবে রয়েছে চীনের শেনঝেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ। তাদের সম্মতিও গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে বর্তমান সরকারের হাতে খুব বেশি সময় নেই। এ সময়ে এতবড় কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। ফলে প্রাথমিকভাবে উদ্যোগ নেওয়া হলেও পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে রাজনৈতিক সরকারের ওপরে। দ্বিতীয়ত, দেশে অন্যতম লাভজনক কোম্পানি সিডিবিএল। দেশের শেয়ারবাজারের আধুনিকায়নে এই প্রতিষ্ঠানের জন্ম। দুই স্টক এক্সচেঞ্জে প্রতিদিন যত শেয়ার লেনদেন হয়, প্রতিষ্ঠানটি তা সংরক্ষণ করে রাখে। এছাড়াও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের যে কোনো তথ্য সিডিবিএলে সংরক্ষিত। এখান থেকে তথ্য পাচার শেয়ারবাজারের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে প্রতিষ্ঠানটিকে তালিকাভুক্তির ব্যাপারে পক্ষ-বিপক্ষে মত রয়েছে। অন্যদিকে লেনদেন নিষ্পত্তির বিকল্প প্রতিষ্ঠান হিসাবে ২০১৭ সালে আরেকটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করে বিএসইসি। নাম সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল)। সিডিবিএলেরও এখানে শেয়ার রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ অকার্যকর।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম