Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে প্রচারণা

একটি দল স্বৈরাচারের ভাষা ব্যবহার করছে

ময়মনসিংহে জনসভায় তারেক রহমান

Advertisement

Icon

আতাউল করিম খোকন ও অমিত রায়, ময়মনসিংহ

প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

একটি দল স্বৈরাচারের ভাষা ব্যবহার করছে

ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ মাঠে জনসভায় বক্তৃতা করছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান -যুগান্তর

Advertisement

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেই জনগণের শাসন কায়েম করা সম্ভব হবে। জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচনি জনসভার লক্ষ্য হচ্ছে আগামী বাংলাদেশকে জনগণের বাংলাদেশে পরিণত করা। আমরা এই বাংলাদেশকে জনগণের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশে রূপান্তরিত করব। শেষ কথা, ‘করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’ তারেক রহমান আরও বলেন, এই মুহূর্তে একটি রাজনৈতিক দল, পালিয়ে গেছে যে স্বৈরাচার সে স্বৈরাচারের মুখের ভাষা ব্যবহার করছে বিএনপির বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেব। আর ভোট দিলেই কিন্তু দায়িত্ব শেষ হবে না। কেন্দ্র থেকে চলে আসব না। কেন্দ্রে থেকে রেজাল্ট নিয়ে ঘরে ফিরব। মঙ্গলবার বিকালে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ মাঠে বিভাগীয় নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

তারেক রহমান বলেন, এই দেশের মানুষের যে অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছিল, যে অধিকারের জন্য বহু মানুষ ১৬ বছর ধরে গুম, খুন, অত্যাচার, নির্যাতনের শিকার হয়েছিল, যে অধিকার আদায়ের জন্য ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে হাজারো মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। সেই অধিকার আপনারা প্রয়োগ করতে যাচ্ছেন আগামী মাসের ১২ তারিখে ভোটের মাধ্যমে। বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমি জানি, ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা-শেরপুর-জামালপুর-এ অঞ্চলগুলোতে বহু সমস্যা রয়ে গেছে। নদীভাঙনের সমস্যা, কর্মসংস্থানের সমস্যা আছে। জেলা-উপজেলাগুলোতে ব্রিজ, স্কুল-কলেজ নির্মাণ, রাস্তা-ঘাট-কালভার্টের সমস্যা রয়ে গেছে। যদি ভোটের অধিকার থাকত তাহলে জনগণের সমস্যার সমাধান হতো। যেহেতু ভোটের অধিকার ছিল না, যেহেতু দেশে নিশিরাতের নির্বাচন হয়েছিল, আমি-ডামির নির্বাচন হয়েছিল, সেখানে সত্যিকারের জনপ্রতিনিধি ছিল না। তাই দেশের যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থান হয়নি। এলাকার মা-বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক দেওয়া হয়নি। জেলা-উপজেলা হাসপাতালে সঠিকভাবে ওষুধপত্র ও ডাক্তার সরবরাহ করা হয়নি। 

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কী চায়? বাংলাদেশের মানুষ একজন অভিভাবক চায়। তার সন্তান যাতে সুশিক্ষা বা সঠিকভাবে শিক্ষা পায়। তরুণরা, যুবকরা কী চায়? তারা চায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। দেশে মিল ফ্যাক্টরি হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য হবে, যাতে করে তারা সুন্দরভাবে নিরাপদে ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি করতে পারবে। মানুষ চায় সময়মতো চিকিৎসাসেবা। ময়মনসিংহের জায়গাগুলোতে কৃষকদের অনেক সমস্যা রয়ে গেছে। বিশেষ করে যদি ময়মনসিংহে মাছের পোনা চাষ আরও বড় করা যেত। মাছের পোনা দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। আমাদের পরিকল্পনার মাঝে রয়েছে কী করে এই মাছের পোনার বিষয়টিকে শুধু দেশের মাঝে সীমাবদ্ধ না রেখে বিদেশে রপ্তানি করা যায়। তিনি আরও বলেন, আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থাকে ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস টুয়েলভ পর্যন্ত ফ্রি করেছিলেন। সেই মা-বোনরা শিক্ষিত হয়েছেন। বাংলাদেশের সমগ্র জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। আমরা যদি দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই তাহলে অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে কোনোভাবেই এগিয়ে যেতে পারব না। সেজন্যই আমরা নারীদের জন্য, মায়েদের জন্য, গৃহিণীদের জন্য বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ যারা, সেই পরিবারের গৃহিণীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নামে একটি কার্ড দিতে চাই। এ ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা যেন প্রত্যেকটি পরিবারের কাছে পৌঁছতে পারে। যাতে করে তারা প্রতিমাসে কিছুটা হলেও স্বচ্ছন্দে কয়েকটি দিন অতিবাহিত করতে পারে। একটু হলেও তাদের সহযোগিতা হয়। ঠিক একইভাবে ময়মনসিংহে মৎস্য চাষির বাইরেও যারা খেতখামারে কাজ করেন, এরকম কৃষক ভাইদের পাশেও আমরা দাঁড়াতে চাই। কৃষক ভাইদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ দেওয়ার পরিকল্পনা করছি। এ কৃষি কার্ডের মাধ্যমে আমরা কৃষক ভাইদের কাছে সরাসরি, তার প্রয়োজনীয় অন্তত ১টি ফসলের সামগ্রিকভাবে বীজ, কীটনাশক, সার পৌঁছাতে চাই। 

তিনি বলেন, আমরা রাজনীতি করি কাদের জন্য? বাংলাদেশের মানুষের জন্য। আজকে যদি আমি দাঁড়িয়ে আপনাদের সামনে অন্য দল সম্পর্কে অন্যরকম কথা বলি, তাদের গীবত গাই, তাদের সম্পর্কে সমালোচনা করি, তাতে কি জনগণের কোনো লাভ হবে? কোনো লাভ হবে না। কারণ জনগণ তাকেই ভোট দেবে যারা জনগণের জন্য কাজ করবে। জনগণের জন্য যদি কাজ করতে হয়, তাহলে অবশ্যই একটি রাজনৈতিক দলের পরিকল্পনা থাকতে হবে। বিএনপি হচ্ছে সে রকম একটি দল, যাদের পরিকল্পনা রয়েছে আগামী দিনে কীভাবে দেশকে পরিচালনা করবে। এই দলটির অতীত অভিজ্ঞতা রয়েছে। কীভাবে দেশের খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ করতে হয়; কীভাবে জেলায়-জেলায়, উপজেলায়, গ্রাম পর্যায়ে, ইউনিয়নে রাস্তাঘাট নির্মাণ করতে হয়; কীভাবে শিক্ষার আলো এ দেশের সন্তানদের কাছে পৌঁছে দিতে হয়। বিএনপি নামের দলটিরই অভিজ্ঞতা রয়েছে, কীভাবে বাংলাদেশের মানুষকে নিরাপদ রাখতে হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। কীভাবে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হয়। 

তিনি বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই পত্র-পত্রিকায় দেখেছেন, এই মুহূর্তে একটি রাজনৈতিক দল পলাতক স্বৈরাচারের মুখের ভাষা ব্যবহার করছে বিএনপির বিরুদ্ধে। তাদের বক্তব্য-বিএনপি নাকি দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ছিল। আমার প্রশ্ন ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তাদেরও দুজন সদস্য বিএনপি সরকারে ছিল। বিএনপি যদি এতই খারাপ হয় তাহলে ওই দুই ব্যক্তি কেন পদত্যাগ করে চলে আসেননি? এজন্য তারা পদত্যাগ না করে সরকারে ছিলেন, তারা ভালো করেই জানতেন যে, খালেদা জিয়া কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমন করছেন। খালেদা জিয়া দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেন না। 

তিনি বলেন, আমরা চাই ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর, জামালপুরসহ বিভিন্ন স্থানে মাদকের যে সমস্যা আছে তার সমাধান করতে। মাদক সমস্যার সমাধান করতে হলে আমাদের সেই তরুণদের, সেই যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা দেশে ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট বেশি করে তৈরি করব। যারা আইটিতে কাজ করেন, তাদের জন্য বিভিন্ন রকম আইটি ট্রেনিংয়ের পরিকল্পনা করেছি। যাতে তারা ঘরে বসে তাদের আয়-রোজগার বাড়াতে পারেন। আমরা ময়মনসিংহসহ আশপাশের জেলা হাসপাতালগুলোকে আরও বড় করতে চাই। শিশুরা এবং মা-বোনরা চিকিৎসার জন্য অনেক সময় হাসপাতালে যেতে পারেন না। তারা যেন ঘরে বসে চিকিৎসা পেতে পারেন সেজন্য আমরা চিকিৎসাব্যবস্থাকে উন্নত করতে চাই। খাল-বিলগুলো পুনর্খনন করতে চাই। এ খাল খনন করার জন্য যারা কোদাল হাতে নেবেন আমি সেদিন আপনাদের সঙ্গে থাকব। তিনি বলেন, যে কথাগুলো বললাম, এই কাজগুলো যাতে আমরা কমবেশি করতে সক্ষম হই, ইনশাআল্লাহ ১২ তারিখে আপনারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন। 

তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কী কী করবে তা সংক্ষেপে বললাম। বিএনপি আরও অনেক কিছু করবে। তবে এর আগে ১২ তারিখে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে হবে। এ সময় তিনি ২৪ জন প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন, এই ২৪ জনকে দায়িত্ব দিয়ে গেলাম চার জেলার উন্নয়নের জন্য। এদের জিতিয়ে আনতে পারলে দেশের উন্নয়ন করতে পারব। তিনি বলেন, বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসায় ইমাম, মোয়াজ্জিন সাহেবদের আমরা সম্মানীর ব্যবস্থা করব। 

তিনি বলেন, ভোটের দিন আপনারা তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে রহমত চাইবেন। যাতে সারা দেশে ধানের শীষ জয়যুক্ত হতে পারে। অন্যান্য ধর্মের ভাইয়েরা ভোরবেলা তাদের ধর্মীয় আচার পালন করবেন। এরপর মুসলমান ভাইয়েরা ফজরের নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রের সামনে লাইন দিয়ে দাঁড়াবেন। ভোট শুরু হবে, সঙ্গে সঙ্গে ভোট দেওয়া শুরু করবেন। ভোট দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে চলে আসলে চলবে না। কেন্দ্রে থাকতে হবে। কড়ায় গন্ডায় ভোট বুঝে নিতে হবে। 

দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জাকির হোসেন বাবলুর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনের প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ সদর আসনের প্রার্থী শরিফুল আলম, বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের প্রার্থী আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, সহসাংগঠনিক সম্পাদক ওয়ারেছ আলী মামুন, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ আসনের প্রার্থী রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, দুর্গাপুর-কলমাকান্দা আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের প্রার্থী ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন, বিএনপির সাবেক মন্ত্রী সিরাজুল ইসলাম, জামালপুরের সরিষাবাড়ী আসনের প্রার্থী ফরিদুল আলম তালুকদার, শেরপুর-৩ আসনের প্রার্থী ডা. মাহমুদুল হক রুবেল, ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার, জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনের প্রার্থী সুলতান আহমেদ বাবু, ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসাইন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নেত্রকোনার আটপাড়া আসনের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম হেলালী, নেত্রকোনা সদর আসনের প্রার্থী ডা. আনোয়ারুল হক, ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনের প্রার্থী আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের প্রার্থী ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চু, ময়মনসিংহ-৬ (নান্দাইল) ইয়াছের খান, নেত্রকোনা পূর্বধলা আসনের প্রার্থী আবু তাহের তালুকদার, ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনের প্রার্থী আক্তারুল আলম ফারুক, ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের প্রার্থী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু, শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের প্রার্থী ফাহিম চৌধুরী, শেরপুর-১ সদর আসনের প্রার্থী ডা. তানসিলা প্রিয়াঙ্কা, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আফজাল এইচ খান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেত্রী বেগম নিলুফার চৌধুরী মনি, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুজ্জামান মিন্টু, কেন্দ্রীয় নেতা আরিফা আহমেদ পিংকি, চৌধুরী আব্দুল্লাহ হেল বাকী, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এনায়েত উল্লাহ কালাম, শেরপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক একেএম মাহবুবুর রহমান মাহবুব, শামীম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শহিদুল আলম খসরু প্রমুখ।

গাজীপুরে পোশাক শিল্পকে আরও বাড়িয়ে নারীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে : গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জিয়াউর রহমান দেশে পোশাক কারখানা স্থাপন করেছিলেন। এখন গাজীপুর হচ্ছে পোশাক শিল্পের রাজধানী। এ শিল্পকে আরও বাড়িয়ে নারীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া নারী শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার চালু করা হবে। আগামী ১২ তারিখে বিএনপি নির্বাচিত হলে আমরা অনেক পরিকল্পনা নিয়েছি। এর একটি হচ্ছে নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড। যা দিয়ে আমাদের দেশের নারী ও কৃষকরা অনেক উপকৃত হবে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষা একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া ফ্রি করে দিয়েছিলেন। এ দেশের খেটে খাওয়া মানুষের জন্য যদি কোনো দল কাজ করে থাকে তাহলে সেটা বিএনপি একমাত্র করেছে। তিনি মঙ্গলবার রাত ১২টায় গাজীপুর জেলা শহরের ঐতিহাসিক রাজবাড়ি ময়দানে বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। 

তারেক রহমান আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে জনগণ ও দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা তাহাজ্জতের নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন সেখানে জামাতের সঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় করে লাইনে দাঁড়িয়ে যাবেন। আপনাদের আগে অন্য কেউ যেন কেন্দ্রে ঢুকে পড়তে না পারে। ভোট শুরু হলে সবার আগে ভোট দেবেন। সবাইকে নিয়ে ধানের শীষে ভোট দেবেন। এ সময় তিনি গাজীপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনের বিএনপি মনোনীত পাঁচজন প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন। 

গাজীপুরে তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে অতীত স্মৃতি মনে করে তারেক রহমান বলেন, আমি আমার বাবা-মা ও ছোট ভাইয়ের সঙ্গে গাজীপুরে এই ময়দানের পাশে বসবাস করতাম। এ মাঠে অনেক ঘুরে বেড়িয়েছি। খেলাধুলা করেছি। এখানে আমার অনেক স্মৃতি রয়েছে। যেহেতু এখানে শৈশবের অনেক স্মৃতি রয়েছে সেহেতু গাজীপুরের মানুষের প্রতি আমার অধিকার রয়েছে। তিনি সবাইকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। 

এর আগে তারেক রহমান ময়মনসিংহে জনসভা শেষ করে রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে গাজীপুরে ঐতিহাসিক রাজবাড়ি ময়দানে জনসভা মঞ্চে হাজির হন। তাকে বিএনপির গাজীপুর জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দ স্বাগত জানান।


Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম