রংপুর ও বগুড়ায় তারেক রহমান
ধানের শীষের সঙ্গে গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দেবেন
ক্ষমতায় গেলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব
Advertisement
রংপুর ও বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে শুক্রবার রাতে রংপুর বিভাগের বিএনপি প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি সংস্কারের পক্ষে গণভোটে হ্যাঁ-তে রায় দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, আমরা যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি, সেই সনদকে সম্মান করতে হবে। সেজন্যই আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করব, ধানের শীষে যেমন সিলটা দেবেন ১২ তারিখে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় যে ব্যালট পেপারটা দেবে হ্যাঁ এবং না-এর, সেখানে হ্যাঁ-এর পক্ষে আপনারা রায় দেবেন।
শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে রংপুরের ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে বিএনপি আয়োজিত বিভাগীয় নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, অতীতের সরকারের আমলে মেগা প্রকল্পের নামে মেগা লুটপাট হয়েছে। বিএনপি এই নির্বাচনে জনগণের রায়ে ক্ষমতায় এলে সেই লুটের টাকা ফিরিয়ে এনে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো হবে। আগে নিশিরাতে ভোট হয়েছে, সেই ভোটের রাজনীতি আর হতে দেব না। তিনি বলেন, রংপুর অঞ্চলের পানির সংকট দূর করতে আমরা সরকার গঠন করলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব, যা কৃষিতে নতুন বিপ্লব ঘটাবে। কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা কৃষিঋণ মওকুফ করে দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, রেজিস্ট্রার এনজিও থেকে যারা ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে পরিশোধ করতে পারছেন না, তাদের সেই ঋণ বিএনপি সরকার গঠন করলে পরিশোধ করবে।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, রংপুর অঞ্চল ঢেলে সাজাতে হবে। এই অঞ্চলে যেমন খনিজসম্পদ আছে, তেমনি কৃষিতে সমৃদ্ধ। এখানে কৃষিজাত শিল্প-কলকারখানা স্থাপন করা হবে। এজন্য শিল্প উদ্যোক্তাদের আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হবে। বড় বড় আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই অঞ্চলে আইটি শিল্প স্থাপন করে এই এলাকার শিক্ষিত তরুণদের চাকরির সুযোগ করে দেওয়া হবে। তা হলে রংপুরের আবু সাঈদ ও চট্টগ্রামের ওয়াসিমসহ যে ১৪শ জন স্বপ্ন নিয়ে শহীদ হয়েছেন তাদের সেই ঋণ কিছুটা শোধ হবে। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব কোনো রাজনৈতিক দলের ইশারায় হয়নি। জনগণের দীর্ঘদিনের যে নিপীড়ন-নিষ্পেষণ থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা ছিল তা থেকে স্বতঃস্ফূর্ত বিস্ফোরণে তা হয়েছে।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আপনারা ভোরবেলা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ পড়বেন, ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবেন। যাতে আপনার ভোট কেউ ছিনতাই করতে না পারে। তিনি পিছিয়ে পড়া রংপুর অঞ্চলের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, কে বলেছে রংপুর অঞ্চল পিছিয়ে পড়া। রংপুর অঞ্চল সবচেয়ে সমৃদ্ধ অঞ্চল। এখানে পীরগঞ্জে কয়লা-লৌহখনি, দিনাজপুরে কয়লা, পাথরখনি আছে। রংপুর-দিনাজপুর কৃষিসমৃদ্ধ এলাকা।
দলের রংপুর মহানগর কমিটির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামুর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন পার্টির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য এজেডএম ডা. জাহিদ হোসেন, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু, রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের সংসদ-সদস্য প্রার্থীর মধ্যে অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, রংপুর জেলার ৬টি আসনের মধ্যে প্রার্থী মোর্কারম হোসেন সুজন প্রমুখ।
ভোট দিয়ে প্রমাণ করুন বগুড়া বিএনপির ঘাঁটি : তারেক রহমান বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিয়ে প্রমাণ করুন বগুড়ার মাটি বিএনপির ঘাঁটি। শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত নির্বাচনি পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ধানের শীষ যতবারই জনগণের ভোটে সরকার গঠনের সুযোগ পেয়েছে, ততবারই দেশ ও এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছে। প্রিয় মোকামতলাবাসী, আমরা আবারও আপনাদের এলাকার উন্নয়ন করতে চাই। এ সময় আরও বক্তব্য দেন বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মীর শাহে আলম। এদিকে তারেক রহমানকে একনজর দেখার জন্য মহাস্থান থেকে রহবল-দোসীমানা পর্যন্ত হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। জনস্রোতে মুখরিত হয়ে উঠে মোকামতলা এলাকা।
আসুন সবাই মিলে একটি মর্যাদার দেশ গড়ি : এর আগে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে বগুড়া শহরতলির ছিলিমপুরে চার তারকা হোটেল নাজ গার্ডেনে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু-কিশোরদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ করেন তারেক রহমান। এ সময় তিনি বলেন, আসুন সবাই মিলে একটি মর্যাদার বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে কেউ পিছিয়ে থাকবে না। প্রতিবন্ধীরা আমাদেরই ভাই ও বোন। তারা আমাদের সমাজ ও পরিবারের অংশ। তাদের মধ্যে অনেক প্রতিভা আছে, যা আমাদের অনেকের মধ্যে নেই। তাই আমাদের যার যার অবস্থান থেকে প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
এ সময় ওই শিশু-কিশোররা নিজেদের তৈরি হস্তশিল্প পণ্য তাকে উপহার দেয় এবং ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’ গান গেয়ে শোনায়। পরে তারেক রহমান বগুড়া শহরতলির শাকপালা এলাকায় নিজের গড়া পার্ক পরিদর্শন করেন। এরপর শহরের স্টেশন রোডে নিজের প্রতিষ্ঠিত বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদ পরিদর্শন ও সেখানে জুমার নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে দোয়ায় অংশগ্রহণ ও মুসল্লিদের উদ্দেশে কথা বলেন। সেখান থেকে শিবগঞ্জের মহাস্থানগড়ে গিয়ে হজরত শাহ্ সুলতান বলখী মাহীসাওয়ারের (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন।
দেশে গত ১৫ বছর মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে : তারেক রহমান বলেছেন, দেশে গত ১৫ বছর কোনো উন্নয়ন হয়নি; সারা দেশ উন্নয়ন বঞ্চিত ছিল। শুধু তথাকথিত মেগা প্রজেক্টের মেগা দুর্নীতি হয়েছে। এ দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরতে হবে। তিনি বলেন, দুর্নীতি দূর করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। দেশকে গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বৃহস্পতিবার মধ্য রাতে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সহিদ উন নবী সালাম ও কেএম খায়রুল বাশারের সঞ্চালনায় জনসভায় বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুর রহমান চন্দন, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম, জয়নাল আবেদীন চান, আলী আজগর তালুকদার হেনা, মাহবুবর রহমান হারেজ, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন।
আবু সাঈদের ত্যাগ অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে : পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি জানান, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার পতনের অগ্রনায়ক শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেছেন তারেক রহমান। এ সময় তিনি বলেন, শহীদ আবু সাঈদের ত্যাগ গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তিনি দেশবাসীকে শহীদদের আদর্শে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে কাজ করার আহ্বান জানান। শুক্রবার বিকাল ৫টা ৩৭ মিনিটে তিনি পীরগঞ্জের বাবনপুর গ্রামে আবু সাঈদের কবরের পাশে জিয়ারতে দাঁড়ান। এ সময় তার বাম পাশে আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন, সাবেক সংসদ-সদস্য নূর মোহাম্মদ মণ্ডল এবং ডানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য দিনাজপুর-৬ (বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর এবং ঘোড়াঘাট) আসনের সংসদ-সদস্য প্রার্থী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনের সংসদ-সদস্য প্রার্থী সাইফুল ইসলামসহ বিএনপির হাজারো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
পরে তারেক রহমান শহীদ আবু সাঈদের বাড়ির আঙ্গিনায় বসে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের সব রকমের সহায়তার আশ্বাস দেন। এ সময় আবু সাঈদের মা মনেয়ারা বেগম, বোন সুমী বেগম, ভাই আবু হোসেন, রমজান আলীসহ পরিবারের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
