Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

জাতিসংঘের অধীনে হাদি হত্যার তদন্ত দাবি

পুলিশ-ইনকিলাব মঞ্চ সংঘর্ষে শাহবাগ রণক্ষেত্র

জাবের, জুমা, আম্মার ও রনিসহ আহত ৬৫ * আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলি ছোড়েনি -সরকার

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পুলিশ-ইনকিলাব মঞ্চ সংঘর্ষে শাহবাগ রণক্ষেত্র

হাদি হত্যার বিচার দাবিতে যমুনা ঘেরাও করতে গেলে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যদের পুলিশের লাঠিচার্জ -যুগান্তর

Advertisement

ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচি ঘিরে শুক্রবার নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের দুই দফা সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পালটাধাওয়া হয়েছে। বিকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে ও রাতে শাহবাগ মোড়ে এ সংঘর্ষে অন্তত ৬৫ জন আহত হন। এর মধ্যে রয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাউদ্দিন আম্মার ও ঢাকা-১৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন রনি। রাত ১০টা পর্যন্ত শাহবাগে বন্ধ ছিল যান চলাচল। 

জাতিসংঘের অধীনে শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই ইনকিলাব মঞ্চ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিল। শুক্রবার একটি অংশ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিল। আর আরেক অংশ ছিল যমুনার সামনে। বিকাল ৪টার দিকে মঞ্চের নেতাকর্মীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশ নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ নিয়ে সংঘর্ষের পর নেতাকর্মীরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন। সেখানে রাত ৮টার দিকে আরেক দফা সংঘর্ষ বাধে।

বিকালে সংঘর্ষের পর আবদুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরে সরকার বিবৃতি দিয়ে জানায়, যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনা অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। সরকার স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে, এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ছোড়েনি। সরকার হাদি হত্যার বিচারে অঙ্গীকারবদ্ধ।

এ সংঘর্ষ ঘিরে অনুরূপ বিবৃতি দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশও। মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় যে কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও ব্যারিকেড ভেঙে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়। জনশৃঙ্খলা ও প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে নিয়মতান্ত্রিকভাবে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও বিক্ষোভকারী আহত হন। এ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

এদিকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ ছাত্রশিবির। বিক্ষোভ হয়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম, শিক্ষানগরী রাজশাহী, কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, নেত্রকোনা, নোয়াখালী, কুমিল্লার বুড়িচং ও লক্ষ্মীপুরের রায়পুরসহ বেশকটি স্থানে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যমুনার সামনে অবস্থান করছিলেন ওসমান হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পাসহ কয়েকজন আর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে আবদুল্লাহ আল জাবের, সালাউদ্দিন আম্মারসহ কয়েকশ বিক্ষোভকারী। ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ের সামনে ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছিল পুলিশ। বিকাল পৌনে ৪টায় ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে থেকে ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ কয়েকজন যমুনার সামনে যেতে চাইলে তাদের বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ প্রথমে তাদের ওপর জলকামান থেকে পানি ছোড়ে। পরে সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জ করে। এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা পুলিশের দিকে বোতল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে আবদুল্লাহ আল জাবের, ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ অনেকে আহত হন।

কিছুক্ষণের মধ্যে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে ইনকিলাব মঞ্চ। বিকাল ৫টার দিকে মঞ্চের ফেসবুক পেজে জানানো হয়, কর্মীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে সন্ধ্যা ৬টা থেকে বিপ্লব উদ্যানের ২ নম্বর গেটে অবস্থান নেবেন তারা। সেখানে নেতাকর্মীরা জড়ো হলে শাহবাগ মোড়ে এসে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন নেতাকর্মীরা। যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে রাত ৮টার দিকে ফের পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেডও নিক্ষেপ করে পুলিশ। এ সময় মহিউদ্দিন রনিসহ কয়েকজন আহত হন। 

পরে রাত ৯টায় ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে লাইভে এসে আবদুল্লাহ আল জাবের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন। জাবের জানান, জাতিসংঘের অধীনে শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো ছাড়া ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। এর মধ্যে ষড়যন্ত্রকারীরা পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে নিতে এই হামলা চালিয়েছে। তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তিনি। যথাসময়েই নির্বাচন হবে আশা করে জাবের অনুরোধ করেন, সরকার যে চিঠি জাতিসংঘে পাঠাবে তা যেন ইনকিলাব মঞ্চকে দেখিয়ে নেয়। এ সময় আম্মারসহ আহত তিনজন তার পাশে ছিলেন। এর ঘণ্টাখানেক পর মঞ্চের নেতাকর্মীরা শাহবাগ ছাড়েন। 

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানান, ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষুব্ধ লোকজন পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে যমুনা ঘেরাওয়ের চেষ্টা করেন। এ সময় বিক্ষোভকারী ব্যক্তিদের একটি অংশ জলকামানের ওপর উঠে সেটার ক্ষতি করার চেষ্টা করেন। এ অবস্থায় জনস্বার্থে পুলিশ অ্যাকশনে যেতে বাধ্য হয়।

ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমাদের এখানে রাত ১১টা পর্যন্ত ৬৫ জন রোগী পেয়েছি। এর মধ্যে একজন ভর্তি রয়েছেন। কয়েকজন অবজারভেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের অধিকাংশ রোগীর বাইরে থেকে কেটে যাওয়া, ফেটে যাওয়া ও ছিলে যাওয়া জখম ছিল। তিনি বলেন, মহিউদ্দিন রনিকে ভর্তি করা হয়েছে। তার পুরো শরীর স্ক্যান করা হয়েছে, তবে কোনো গুরুতর জখম পাওয়া যায়নি। সে জানিয়েছিল তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল ও শরীরে ব্যথা অনুভব করছে। তাই তাকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ঘটনার পর আহতদের দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। এ সময় তিনি বলেন, একটা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সরকারের উচিত ছিল তাদের দাবি শোনা, বোঝার চেষ্টা করা ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। কারণ অতীতে পুলিশের এই ধরনের হামলা আমরা দেখেছি। ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর এই ধরনের হামলা জাতি প্রত্যাশা করে না। যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলা করেছে, তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। 

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে যে সরকারি পুলিশ সদস্যসহ অন্যান্য বাহিনীর লোকজন রয়েছে। তারা নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য ও বর্তমান পরিবেশকে স্থিতিশীল করার জন্য এ ধরনের হামলা চালিয়েছে। এ হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, সেটি খতিয়ে দেখে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

সন্ধ্যায় ঢামেক হাসপাতালে আহতদের দেখতে আসেন ঢাকা-৮ আসনের সংসদ-সদস্য প্রার্থী ও এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এর আগে সংঘর্ষের পর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে থেকে তিনিসহ ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলটি ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে থেকে শাহবাগ মোড়ের দিকে গিয়ে শেষ হয়। 

ঢামেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, ঢামেক হাসপাতালে অর্ধশতাধিক রোগী এসেছে। তবে এদের মধ্যে কোনো গুলির রোগী পাওয়া যায়নি। যারা আহত হয়ে এসেছেন, তাদের জরুরি বিভাগে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অনেকে চিকিৎসা নিয়ে চলেও গেছেন। আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম রয়েছে। আহতদের মধ্যে বেশির ভাগ রোগীর জখম ফেটে যাওয়া, থ্যাঁতলে যাওয়া। 

সরকারের বিবৃতি : বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করছে যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এবং এ বিষয়ে রোববার জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে। বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা সঠিক নয়। 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় আহত হয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ ২৩ জন চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তবে তাদের কারও শরীরে গুলির আঘাত নেই বলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন। আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে এই সংবেদনশীল রাজনৈতিক সময়ে সরকার সবাইকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছে। 

জামায়াতের নিন্দা : উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের দলের পক্ষে শুক্রবার বিবৃতি দেন। তিনি বলেন, নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশি দমন-পীড়ন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ন্যায়বিচারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। সেই অধিকারকে সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার শেল, বুট ও গুলির মাধ্যমে দমন করার ঘটনা নিন্দনীয়। তিনি আরও বলেন, সব সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান অন্যায়, জুলুম ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে এবং ভবিষ্যতেও ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের পাশে থাকবে। রাষ্ট্রকে অবশ্যই দমননীতি পরিহার করে জনগণের ন্যায্য দাবি শোনার পথ বেছে নিতে হবে।

এনসিপির নিন্দা : এনসিপির বিবৃতিতে বলা হয়, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃত্বে চলমান শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ওপর পুলিশের ন্যক্কারজনক ও বর্বর হামলার ঘটনায় এনসিপি তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানায়। রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে ন্যায্য বিচার দাবির আন্দোলন দমন করার এই দুঃসাহসিক অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এ হামলা শুধু শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকারের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ নয়, এটি একটি ভয়ংকর বার্তা, যেখানে রাষ্ট্র নিজেই ন্যায়বিচারের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা ন্যায্য আন্দোলনকে বলপ্রয়োগ ও সহিংসতার মাধ্যমে দমন করার এই অপচেষ্টা জনগণ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে অবিলম্বে বিচার নিশ্চিত করতে হবে; এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে জাতির সামনে উন্মোচন করতে হবে এবং জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

ছাত্রশিবিরের নিন্দা : বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এক যৌথ বিবৃতিতে এই হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানান। এতে বলা হয়, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ন্যায়বিচারের দাবিতে পরিচালিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের এই আক্রমণাত্মক ভূমিকা শুধু নিন্দনীয়ই নয়, বরং এটি পুরোনো ফ্যাসিবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ। ছাত্র-জনতা যে ফ্যাসিবাদকে রক্ত দিয়ে বিদায় করেছে, পুলিশ আজ সেই একই কায়দায় রাজপথে রক্ত ঝরিয়ে প্রমাণ করেছে যে, তারা এখনো ফ্যাসিবাদের সেবাদাস হিসাবেই কাজ করছে।

বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ : ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর- 

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামেও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। সন্ধ্যায় নগরীর বিপ্লব উদ্যানসংলগ্ন দুই নম্বর গেট মোড় এলাকায় নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। খবর পেয়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা এসে যোগ দেন। রাত ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সড়কে অবস্থান নিয়ে তাদের কর্মসূচি চলছিল। ইনকিলাব মঞ্চের চট্টগ্রামের আহ্বায়ক রাফসান রাকিব বলেন, যতক্ষণ কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত আসবে না ততক্ষণ কর্মসূচি চলবে। ঢাকায় পুলিশি হামলায় জড়িতদের শাস্তি চাই। 

ইবি : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকে শেষ করেন। পরে তারা খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ করেন। সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে সন্ধ্যায় তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। 

জবি : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় মিছিল বের করে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর থেকে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন বিশ্বজিৎ চত্বরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে জিএস আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, বিচার চাইতে গিয়ে গুন্ডা লীগের হাতে আমার ভাইবোনরা আহত হয়েছে। আমরা এই পুলিশের সংস্কার চাই। আমরা দেখেছি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে এই পুলিশ কীভাবে সন্ত্রাসের ভূমিকা পালন করেছিল। আমরা এই পুলিশের সংস্কার চাই এবং অবশ্যই তা করতে হবে।

জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, মহান জুলাই বিপ্লবের পরে আমরা রাষ্ট্রের কাছে আবেদন করেছিলাম যে, যেসব প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং পুলিশ সদস্য সরাসরি হামলার সঙ্গে জড়িত তাদের বরখাস্ত করা হোক। নতুনভাবে সার্কুলার দিয়ে নতুন প্রজন্মের ছাত্রদের থেকে পুলিশ নিয়োগ দেওয়া হোক। কিন্তু বর্তমান সরকার এটা করতে ব্যর্থ হয়েছে। 

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) : লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বেলা ৩টায় রায়পুর-লক্ষ্মীপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ওসমান চত্বর এলাকায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন বিক্ষোভকারীরা। এর কারণে রায়পুর থানার মোড় শহীদ ওসমান চত্বরসহ শহরের আশপাশের এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। এ সময় বক্তব্য দেন রায়হান হোসেন, জোবায়ের আলম ভূঁইয়া, মো. তুহিন, রাকিব হাসান বাবু, ওয়াসিম মোস্তফা মেহরান।

বুড়িচং (কুমিল্লা) : কুমিল্লা মহানগর ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা শুক্রবার কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে গণমিছিল করেছেন।


Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম