Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

তিন দলের ইশতেহারে অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি

কমবে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে কর্মসংস্থান

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কমবে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে কর্মসংস্থান

Advertisement

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ দলের প্রতি ভোটারদের আকর্ষণ করতে তিনটি বড় দল ইতোমধ্যে ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহারে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ক্ষমতায় যেতে পারলে তারা সেক্টরভিত্তিক কী কী করবে-তার বিশদ ফিরিস্তিও রয়েছে। এতে অর্থনৈতিক ইস্যুতে দল তিনটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে মূল্যস্ফীতি বা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির লাগাম টেনে ধরার ওপর। এরপরে রয়েছে কর্মসংস্থান বাড়ানোর রূপরেখা। অঙ্গীকার করা হয়েছে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমিয়ে এনে তারা সুষম সমাজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। এছাড়া আওয়ামী লীগ আমলের দুর্নীতির সঠিক তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করাসহ ভেঙে পড়া আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে বলে জনগণের কাছে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। দল তিনটি হচ্ছে-বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি একই জোটে নির্বাচন করছে।

বিএনপি : ইশতেহারে বলা হয়, দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারের জন্য অর্থনৈতিক গণতন্ত্রণায়ন চালু করা হবে। একই সঙ্গে অলিগার্কদের চক্র ভেঙে ফেলা হবে। ঋণনির্ভর অর্থনীতিকে বিনিয়োগ নির্ভর রূপান্তর করা হবে। বাংলাদেশকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরের মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তুলবে। এতে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে তৈরি করা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শ্বেতপত্রটি অসম্পূর্ণ। ফলে বিএনপি ক্ষমতায় এলে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ করবে। পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুঁজিবাজার উন্নয়নে নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবহিদি বাড়ানোসহ অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তে একটি বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে। এছাড়া পাচার করা অর্থ ফেরত আনতে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরদিকে যথাসময়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পে-স্কেল বাস্তবায়ন এবং বেসরকারি চাকরিজীবীরা যাতে নায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সেজন্য বেসরকারি সার্ভিস রুল প্রণয়ন করা হবে।

সামাজিক সুরক্ষায় সুষম উন্নয়নে ভাতা বৃদ্ধি ও বেসরকারি খাতের ব্যক্তিদের জন্য পেনশন ফান্ড গঠন করবে। নারীদের স্নাতকত্তোর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিনা সুদে ও সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া হবে।

এতে বলা হয়, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণের সুদসহ মূল ঋণ মওকুফ করা হবে। এক বছরের ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি সরকার কর্তৃক পরিশোধ করা হবে। কৃষকদের ঝুঁকি নিরসনে চালু করা হবে কৃষিবিমা। তরুণদের আত্মকর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে স্টার্টআপ প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। শিক্ষিত তরুণদের ৬ মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত বা কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ আর্থিক ভাতা দেওয়া হবে।

মূল্যস্ফীতির চাপ সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত ও বন্ধ শিল্পগুলোকে চালু করা হবে। আগামী ৫ বছরে এক কোটি জনশক্তিকে বিদেশে পাঠানো এবং বিদেশে যেতে স্বল্প সুদে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হবে ঋণ।

বেসরকারি খাতের উন্নয়নে সব দিক থেকে নীতি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে আর্থিক সহায়তা বাড়ানো হবে। প্রণোদনা দেওয়া হবে রপ্তানি ও সৃজনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য।

ব্যাংক খাতের সুশাসন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সুদের হার যৌক্তিকীকরণ এবং আস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কার্যকর নীতি প্রণয়ন করা হবে। জনগণের ঘাড় থেকে বাড়তি ট্যাক্সের বোঝা কমানোসহ অবসায়িত ইসলামী ব্যাংকগুলোর আমানতকারীদের অর্থ দ্রুত ফেরত দেওয়া হবে। ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হবে। এছাড়া খেলাপি ঋণের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপসহ বিমা খাতের জন্য গ্রাহক সুরক্ষার ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

জামায়াতে ইসলামী : দলটির ইশতেহারে বলা হয়-প্রযুক্তি, ম্যানুফ্যাকচারিং, কৃষি ও শিল্পসহ নানা সেক্টরে ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সরকারি চাকরিতে বিনামূল্যে আবেদন, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগসহ সব ধরনের বৈষম্য দূরীকরণে ব্যবস্থা থাকবে। দেশের ব্যাংকসহ সার্বিক আর্থিক খাতে সংস্কারের মাধ্যমে আস্থা ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব টেকসই ও স্বচ্ছ অর্থনীতি বিনির্মাণ করা হবে।

দলটি শ্রমিকদের মজুরি ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি এবং মানসম্মত কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে। বিশেষ করে নারীদের নিরাপদে কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দ্রব্যমূল্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রেখে এর স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা হবে।

এনসিপি : দলটির ইশতেহারে বলা হয়, মন্ত্রী ও এমপিসহ সব পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের বাৎসরিক আয় ও সম্পদের হিসাব, সরকারি ব্যয় ও বরাদ্দের বিস্তারিত দিতে ‘হিসাব দাও’ নামে একটি পোর্টাল খোলা হবে। এতে সুস্পষ্টভাবে ওই সব তথ্য প্রকাশ ও হালনাগাদ করা ছাড়াও সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবহিদিতা নিশ্চিত করা হবে।

বেতন কাঠামো সম্পর্কে দলটির ইশতেহারে বলা হয়, জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ১০০ টাকা, বাধ্যতামূলক কর্মসুরক্ষা বিমা ও পেনশন নিশ্চিত করে শ্রম আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

টিসিবির বিদ্যমান এক কোটি স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থাকে ট্রাকের লাইনে দাঁড়িয়ে নয়, বরং নিবন্ধিত মুদি দোকানে ব্যবহারযোগ্য করা হবে। অর্থাৎ মুদি দোকানের মাধ্যমে কম দামে পণ্য কেনা যাবে। সুনির্দিষ্ট বাড়ি ভাড়া কাঠামো তৈরি ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা ওয়াকফ সুকুক ভিত্তিতে সামাজিক আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলা হবে।

গরিব ও মধ্যবিত্তের ওপর করের বোঝা কমিয়ে, কর ফাঁকি বন্ধ করে কর-জিডিপি ১২ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এভাবে সরকারের আয় বাড়িয়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বেশি বিনিয়োগ করা হবে।

দলটি ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিতে চায়। তারা ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ, কঠোর আইন, সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও রাজনীতি করার অধিকার প্রত্যাহার নিশ্চিত করতে চায়।

দলটি চাঁদাবাজি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। পাশাপাশি এ লক্ষ্যে ৯৯৯-এর মতো আলাদা হটলাইন চালু ও জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিয়েছে।

এছাড়া মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশে নামানোর চেষ্টা করবে। ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর অর্থনৈতিক ডেটা প্রকাশ বন্ধ করা হবে, রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠানের পূর্ণ স্বাধীনতা ও স্কুলভিত্তিক আর্থিক শিক্ষা চালু করে জনগণের সঞ্চয় ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার নীতি গ্রহণ করবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম