Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

ইশতেহারে অবাস্তব প্রতিশ্রুতি

বাস্তবায়নে আর্থিক কাঠামো নেই : সিপিডি

Advertisement

Icon

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ইশতেহারে অবাস্তব প্রতিশ্রুতি

Advertisement

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে রাজনৈতিক দলগুলো অলীক ও অবাস্তব প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছে। এগুলো মূল্যায়নের জন্য তৃতীয় পক্ষের নজরদারি দরকার। এবারের ইশতেহারের সবচেয়ে বড় দুর্বল দিক হলো-এটি বাস্তবায়নে আর্থিক কাঠামো নেই। অন্তর্বর্তী সরকার যে দুর্বল অর্থনীতি রেখে যাচ্ছে, সেই পরিস্থিতিতে কর্মসূচি বাস্তবায়নে নতুন সরকারের জন্য অর্থের সংগ্রহ করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অর্থাৎ অনেক দল বিশাল প্রত্যাশার কথা বলেছে, কিন্তু কোথা থেকে টাকা আসবে সেটি বলছে না। শনিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, এই নির্বাচনকে অন্তর্ভুক্তিমূলক বলা যায় না। এটি দ্বিদলীয় নির্বাচন। এছাড়া গণভোটের বিদ্যমান কাঠামো ও সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশের দুর্বলতার কারণে ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। ব্রিফিংয়ের বিষয় ছিল-‘নির্বাচনি এলাকায় সবুজ সমাজের পরিস্থিতি ও প্রত্যাশা : প্রার্থী ও ভোটার জরিপের ফলাফল।’ সিপিডির মতে, আগের বছরের চেয়ে এবারের ইশতেহার তুলনামূলকভাবে ভালো হয়েছে। আর ইশতেহারে সবুজ সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ব্রিফিংয়ে জরিপের তথ্য উপস্থাপন করেন সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী হেলেন মাশিয়াত এবং অনুষ্ঠান সহযোগী সামি মোহাম্মদ।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নির্বাচনের পর ‘সবুজ সমাজ’ প্রতিষ্ঠা নিয়ে সিপিডির এই জরিপ। এখানে সবুজ সমাজ বলতে তিনটি বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-মানুষের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত সুরক্ষা।

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ মুহূর্তে প্রার্থীরা নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। ইশতেহার ঘোষণা করে ভোটারদের সামনে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন। এক্ষেত্রে একটি কথা বলা জরুরি। তাহলো জাতীয় নির্বাচন যে অর্থে অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়া প্রয়োজন, বাস্তবে সে অর্থে অন্তর্ভুক্তিমূলক বলা যাচ্ছে না। এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দেখা গেছে-পতিত দলটির ভোটই হচ্ছে বিজয়ের জন্য বড় ফ্যাক্টর। এটা দিয়ে বোঝা যায়, একটা বড় অংশের ভোটারকে তার চাহিদামতো ভোট দিতে দেওয়া হচ্ছে না। তাই আমাদের কাছে এই জায়গা থেকে মনে হয়, একটা বড় অংশের ভোটার তাদের ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থী পছন্দের যে সুযোগ, সেটা কিছুটা হলেও ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তার মতে, এটাকে দ্বিদলীয় নির্বাচন বলা যেতে পারে। আর এ ধরনের নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থী অনেক সময় জয়ী হতে পারে না। কারণ ভোটাররা তার ভোটটি নষ্ট করতে চায় না। এক্ষেত্রে যে প্রার্থীর জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, ভোটাররা তাকে ভোট দিয়ে দেয়।

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, গণভোটের বিদ্যমান কাঠামো ও সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশের দুর্বলতার কারণে ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সব মনোযোগ ইশতেহারের দিকে। কিন্তু তারা দেশের মূল সমস্যা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে ইশতেহার দেয়নি। সামষ্টিকভাবে বড় আকারে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। কিন্তু নির্বাচিত হলে তা বাস্তবায়নের সক্ষমতা আছে কিনা, তা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। হয়তো প্রতিশ্রুতি আংশিকভাবে বাস্তবায়ন হবে, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জ। দ্বিতীয়ত, যে জুলাই সনদের ভিত্তিতে কর্মসূচি ঘোষণা করা হচ্ছে, সেটিও জাতীয় ইশতেহার। তবে এতটুকু বলা হয়, আগের বছরের চেয়ে এবার রাজনৈতিক দলগুলো তুলনামূলকভাবে ভালো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কোনো দলই মেগা প্রকল্পের কথা বলেনি।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, দেশের ৭৭ শতাংশ ভোটার মনে করেন, রাস্তা, কালভার্ট নির্মাণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলেই উন্নয়ন নিশ্চিত হয়। অর্থাৎ উন্নয়ন সম্পর্কে ভোটারদের ধারণা এখনো অবকাঠামো নির্মাণকেন্দ্রিক। জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রেও বিষয়টি তাদের প্রভাবিত করছে। শহরাঞ্চলের প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোটার উন্নয়নের সঙ্গে ব্রিজ ও সড়ক নির্মাণের বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করে দেখেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম, উপকূলীয় অঞ্চল, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক অঞ্চলে এ ধারণা প্রবল। ভোটারদের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের মধ্যেও উন্নয়ন নিয়ে প্রায় একই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি। তবে ৯৫ শতাংশ ভোটার মনে করেন, বাংলাদেশে সবুজ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। ৬১ শতাংশ ভোটার মনে করেন পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানো ও প্লাস্টিক ব্যবহার কমানো জরুরি।

মিডিয়া ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সিপিডির এ গবেষণায় সারা দেশের পরিবেশ ও দুর্যোগপ্রবণ ১৫০টি নির্বাচনি এলাকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে ৪৫০ জন এমপি প্রার্থী এবং ১ হাজার ২০০ জন ভোটার অংশ নেন। জরিপে অংশ নেওয়া অধিকাংশ ভোটার মনে করেন, দেশের পরিবেশের অবস্থা ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। ফলে পরিবেশ পুনরুদ্ধার অত্যন্ত জরুরি। তবে সমাধান হিসাবে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো বা কাঠামোগত সংস্কারের মতো দীর্ঘমেয়াদি সমাধানকে তারা তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব দিচ্ছে। এতে সমস্যা ও সমাধানের উদ্যোগের মধ্যে স্পষ্ট একটি পার্থক্য রয়ে গেছে। সিপিডি মনে করে, দেশের মানুষ পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নের গুরুত্ব বোঝে। নীতিগতভাবে তা সমর্থনও করে। তবে বাস্তব চিন্তা ও অগ্রাধিকার এখনো অনেকটাই প্রচলিত উন্নয়ন কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ। ভোটার ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভাবনার মধ্যে যে ফাঁক রয়েছে, তা দূর করতে হলে রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে স্পষ্ট রোডম্যাপ এবং বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। পাশাপাশি শক্তিশালী করতে হবে স্থানীয় সরকারকে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম