ঢাকায় বিএনপি চেয়ারম্যানের ৮ জনসভা
একটি দল গ্রামে গ্রামে গিয়ে মা-বোনদের বিভ্রান্ত করছে
গুপ্ত ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকা-৯ আসনে সোমবার বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমানের নির্বাচনি জনসভায় বক্তৃতা করছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একটি দলের নেতাকর্মীরা নকল ব্যালটের সিলসহ হাতেনাতে ধরা পড়েছে। জনগণকে এসব নকল সিল বানানো লোকদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। একটি দল গ্রামে গ্রামে গিয়ে মা-বোনদের বিভ্রান্ত করছে। তাদের বিকাশ, এনআইডি নম্বর সংগ্রহ করছে। এসব গুপ্ত ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আপনাদের সজাগ থাকতে হবে। না হলে শত শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা যে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি, তা আবার হারিয়ে যাবে। আমরা যদি সতর্ক থাকি তাহলে বাংলাদেশকে কেউ আর আটকে রাখতে পারবে না। দেশের গতি আর কেউ রোধ করতে পারবে না। সোমবার ধানমন্ডির কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে ধানের শীষের প্রার্থী শেখ রবিউল আলমের সমর্থনে নির্বাচনি পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, নির্বাচন নিয়ে একটি মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তাদের লোকজন মানুষের কাছে গিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো আসলে বায়বীয় প্রতিশ্রুতি। আমরা ভোটারদের এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না, যা মানুষের সাধ্যের বাইরে। তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখে আমরা এমন দলকে নির্বাচিত করব, যাদের দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। খেয়াল করে দেখবেন বিএনপি ছাড়া আর কোনো দলের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো কর্মপরিকল্পনা নেই। এই নির্বাচন শুধু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নির্বাচন নয়, এটা দেশ গঠনের নির্বাচন। বিগত ১৬ বছর আমরা দেখেছি, বহু মেগা প্রজেক্ট হয়েছে। তখন মেগা প্রজেক্ট মানেই ছিল মেগা দুর্নীতি। এতে মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
তারেক রহমান বলেন, এই মুহূর্তে বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল যাদের পরিকল্পনা আছে। বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। তাই কৃষিকে সমৃদ্ধ করতে বিএনপির পরিকল্পনা রয়েছে। এই বাংলাদেশ হচ্ছে আমাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। বেগম খালেদা জিয়া শত অত্যাচার, অবিচার, জুলুমের মধ্যেও দেশের মানুষকে রেখে চলে যাননি। সন্তান হিসাবে আমি জানি, তাকে বিভিন্ন সময় প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল তিনি দেশ ছেড়ে গেলে জেল-জুলুমের শিকার হতে হবে না। তিনি বলেছিলেন, এই দেশ আমার প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। এই দেশের জনগণই আমার পরিবার। আমি এই পরিবার ছেড়ে বিদেশ যাব না। তারেক রহমান বলেন, ধানমন্ডির দিকে আমার বিশেষ নজর থাকবে। রবিউল আলম রবির সঙ্গে আমিও ধানমন্ডির উন্নয়নে কাজ করব। কারণ ঢাকা-১০ আসনের সঙ্গে আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। ধানমন্ডি কিন্তু আমার আত্মীয়স্বজনদের এলাকা। এখানে আমিও কাজ করব। রবির দেওয়া প্রতিশ্রুতি আমিও বাস্তবায়নে সহায়তা করব।
বিদেশে যাওয়ার জন্য ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা করব : এর আগে ঢাকা-১৭ আসনের বনানী মাঠে দিনের প্রথম জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘সরকার গঠন করতে পারলে বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যারা যাবেন, তাদের জন্য ক্ষুদ্র ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে কাউকে আর জমি বিক্রি করে বিদেশে যেতে না হয়।’ তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি আমাদের ভাইয়েরা বিদেশে যাওয়ার আগে জমি বিক্রি করে। আমরা চাই তারা জমি ধরে রেখেই বিদেশে যেতে সক্ষম হোক। ভবিষ্যতে তারা দেশে ফিরে নিরাপদ জীবন গড়ে তুলুক।’
স্বাস্থ্য খাতে পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যারা নারী ও শিশুদের ঘরে ঘরে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেবেন। এতে একদিকে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’
ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এই এলাকায়ই বড় হয়েছি। আমার ভাই ও সন্তানরাও এখানে বড় হয়েছে। এই এলাকার সঙ্গে আমার আজীবনের ও আধ্যাত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। বিএনপি বিশ্বাস করে জনগণই সব ক্ষমতার উৎস।’ নারীদের ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। রাজনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী না করতে পারলে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যে বিএনপি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার মাধ্যমে নারীরা ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবেন।’ এছাড়া কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালু করা হবে এবং যুব সমাজকে আইটি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। তারেক রহমান বলেন, ‘ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে দেশের অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব এবং বিএনপি সেই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।’
পুরান ঢাকার গ্যাস সংকট, বুড়িগঙ্গার দূষণ রোধসহ নানা পরিকল্পনা : এরপর ঢাকা-৬ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেনের সমর্থনে ধূপখোলা মাঠে জনসভায় তারেক রহমান বলেন, আসুন ১২ তারিখ সবাই সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সঠিক দলকে ভোট দিই। যদি বিএনপিকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেন, আমরা নির্বাচনের পরদিন থেকেই দেশ গঠনে সবাইকে নিয়ে হাত দেব। এ সময় তিনি পুরান ঢাকার গ্যাস সংকট, বুড়িগঙ্গার দূষণ রোধসহ নানা পরিকল্পনার কথাও জানান। সবশেষে রাতে বিএনপি চেয়ারম্যান জনসভা করেন ঢাকা-৭ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী হামিদুর রহমান হামিদের সমর্থনে লালবাগ বালুর মাঠে। সেখানেও তিনি দেশ গঠনে তার নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন।
