Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

প্রাপ্ত মোট ভোট-না আসন

কোন পদ্ধতিতে হবে সংসদের উচ্চকক্ষ?

Advertisement

মনির হোসেন

মনির হোসেন

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কোন পদ্ধতিতে হবে সংসদের উচ্চকক্ষ?

Advertisement

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় সবচেয়ে আলোচনায় এখন জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ। তবে উচ্চকক্ষ গঠনে নির্বাচিত সবগুলো দল একমত হলেও কোন পদ্ধতিতে আসন বণ্টন হবে, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা আছে। গণভোটের রায় অনুসারে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে সংসদের উচ্চকক্ষের প্রতিনিধির সংখ্যা নির্ধারিত হবে। কিন্তু সরকার গঠন করতে যাওয়া দল-বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখ ছিল সংসদে দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে গঠিত হবে উচ্চকক্ষ। এ ব্যাপারে বিএনপি প্রকাশ্যে এখনো কিছু বলছে না। কিন্তু সূত্র বলছে, তারা ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চায়। বিশ্লেষকদের মতে, এক্ষেত্রে গণভোটের রায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। কারণ জনগণ সুনির্দিষ্টভাবে এই রায় দিয়েছে। প্রাপ্ত ভোট বিবেচনায় আসন বণ্টন হলে এককভাবে বিএনপি পাবে ৪৮টি এবং জামায়াত পাবে ৩৩টি। আবার নিম্নকক্ষের আসনের ভিত্তিতে বিএনপি ৬৯ এবং জামায়াত পাবে ২২টি। বিষয়টি চূড়ান্ত হতে কমপক্ষে ৮ মাস সময় লাগবে। তবে এর চূড়ান্ত রূপরেখা ঠিক করবে জাতীয় সংসদ। অর্থাৎ ত্রয়োদশ সংসদ কার্যকর হওয়ার পর প্রথম ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসাবে সংসদ-সদস্যরা এ সংক্রান্ত বিধিবিধান প্রণয়ন করবেন।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে জাতীয় সংসদে নির্বাচিত সদস্যের সংখ্যা ৩০০। জুলাই সনদ অনুসারে রাষ্ট্রের আইনসভায় ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে দুইকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের প্রস্তাব করা হয়। এর নাম দেওয়া হয় সংসদের নিম্ন ও উচ্চকক্ষ। নির্বাচিত সদস্যদের নিম্নকক্ষ ধরে ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব করা হয়। রাজনৈতিক দলগুলো এ সংক্রান্ত জুলাই সনদে স্বাক্ষর করলে তা গণভোটে দেয় সরকার। আর গণভোটের প্রশ্নপত্রে উল্লেখ ছিল-রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে সংসদের উচ্চকক্ষের প্রতিনিধির সংখ্যা নির্ধারিত হবে। কিন্তু বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে ছিল সংসদে দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে হবে উচ্চকক্ষ। এক্ষেত্রে বিএনপি গণভোটের রায় মানতে বাধ্য কিনা-এ প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (জুলাই সনদসংক্রান্ত) মনির হায়দার বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে অনেক বিষয় থাকে। ফলে সেখানে একক কোনো বিষয় পরোক্ষ হিসাবে বিবেচিত হয়। কিন্তু গণভোটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে সংসদের উচ্চকক্ষ হবে। ফলে এর আইনগত ভিত্তি আছে। তিনি বলেন, দলগুলো যেমন নিজেদের ইশতেহার দিয়েছে, তেমনি দলের শীর্ষ নেতারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষেও সমর্থন দিতে জনগণকে আহ্বান জানিয়েছেন। সুতরাং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়া কেবল সরকারের বিষয় নয়, এটি রাষ্ট্র এবং সব রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা।

এ ব্যাপারে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, গণভোটে যে প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে, তার ভিত্তিতেই জনরায় এসেছে। তিনি বলেন, বিএনপি সব সময় জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। তাই আশা করা যায়, দেশ পরিচালনা ও সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে দলটি জনগণের এই প্রত্যাশা বিবেচনায় নেবে। শনিবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব বলেন।

কোন দল কত আসন পাবে : নির্বাচন কমিশন থেকে এখনো রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা অফিশিয়ালভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্তভোটের তথ্য মিলেছে। ওই তথ্যমতে, গণভোটের রায় অনুসারে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন হলে ১০০টির মধ্যে বিএনপি ৪৮টি আসন পাবে। জামায়াতে ইসলামী পাবে এককভাবে ৩৩ আসন। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ১১ দলীয় জোটের শরিকরা ৯টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর নিম্নকক্ষে প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন হলে চিত্র পালটে যাবে। কারণ এবারের নির্বাচনে তিনশ আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসন পেয়েছে। সে হিসাবে দলটি উচ্চকক্ষে ৬৯টি আসন পাবে। জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। ফলে দলটি ২২টি আসন পাবে। এককভাবে ৬টি আসন পাওয়ায় জাতীয় নাগরিক পাটি উচ্চকক্ষে পাবে মাত্র ২টি আসন। অন্যান্য দল মিলে আরও ৭টি আসন পাবে।

উচ্চকক্ষের সদস্য হওয়ার যোগ্যতা : জুলাই সনদে উচ্চকক্ষের সদস্য হওয়ার জন্য আলাদাভাবে কোনো যোগ্যতার কথা বলা হয়নি। জুলাই সনদের ২০ ধারায় বলা হয়েছে, সংবিধানে নিম্নকক্ষের সদস্যদের যে যোগ্যতা-অযোগ্যতার কথা বলা হয়েছে, উচ্চকক্ষেও সেটি কার্যকর হবে। কেউ বাংলাদেশের নাগরিক, ন্যূনতম ২৫ বছর বয়স, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণখেলাপি না হওয়া এবং ফৌজদারি অপরাধে ২ বছরের বেশি দণ্ডপ্রাপ্ত না হলে তিনি উচ্চকক্ষের সদস্য হতে পারেন। সহজে বললে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলো যাকে মনোনয়ন দেবে, তিনিই উচ্চকক্ষের সদস্য হতে পারবেন। এক্ষেত্রে এবারের নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীরাও উচ্চকক্ষের সদস্য হওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে বিষয়টি যেহেতু নতুন, আগামীতে এ ব্যাপারে আইন ও বিধি প্রণয়ন করবে সরকার।

উচ্চকক্ষের কাজ ও ক্ষমতা : গণভোটের রায় অনুসারে সংবিধান সংশোধন করতে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠের অনুমতি লাগবে। আবার রাষ্ট্রপতির অভিসংশনে উচ্চকক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের অনুমোদন জরুরি। তারা সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারবে। কিন্তু সরকারের ওপর অনাস্থা আনতে পারবে না। তবে এর বাইরে কোনো বিলে ভোট দিতে পারবে না।

উচ্চকক্ষ কখন গঠন হবে : জুলাই আদেশ অনুসারে নতুন এমপিরা শপথ গ্রহণের পর থেকে প্রথম ১৮০ কার্যদিবস সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসাবে কাজ করবে। এ সময়ে তারা জুলাই সনদে বর্ণিত সংস্কার প্রস্তাব সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করবে। এর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। আবার যেদিন নিম্নকক্ষের মেয়াদ শেষ হবে, একই দিনে উচ্চকক্ষের মেয়াদও শেষ হবে। এ হিসাবে ১৬ ফেব্রুয়ারি সংসদ-সদস্যরা শপথ নেবেন। ফলে আগামী ৮ মাসের আগে উচ্চকক্ষ গঠনের কোনো সম্ভাবনা নেই।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম