Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

নতুন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

নতুন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম

Advertisement

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের পদ থেকে মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার স্থলে নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসাবে আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নতুন এই নিয়োগের বিষয়ে সোমবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ।

এদিকে ট্রাইব্যুনালের সদ্য সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, তিনি আনন্দ নিয়েই যাচ্ছেন। নতুন চিফ প্রসিকিউটর তার দায়িত্বে সফল হবেন বলে তিনি আশা করছেন। সোমবার দুপুরে প্রজ্ঞাপন জারির পর ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথা বলেন। অপরদিকে নতুন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম প্রকৃত অপরাধীদের প্রাপ্য সাজা পেতে হবে বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন। সোমবার বিকালে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ বার্তা দেন।

তাজুলের নিয়োগ বাতিল : প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর হিসাবে মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল করা হলো। ট্রাইব্যুনালের মামলা পরিচালনার জন্য আইনজীবী আমিনুল ইসলামকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত চিফ প্রসিকিউটর পদে নিয়োগ দেওয়া হলো। অ্যাটর্নি জেনারেলের সমান পদমর্যাদা, বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন তিনি। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। আমিনুল ইসলাম সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী। তিনি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া তিনি ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ছিলেন।

সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী তাজুল ইসলামকে ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর নিয়োগ দিয়েছিল তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার।

অপরাধীদের প্রাপ্য সাজা পেতেই হবে : সোমবার বিকালে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নতুন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব পেলাম। এই ট্রাইব্যুনালের সব কার্যক্রম দেখব। তবে একটা কথা বলতে চাই যে, যেসব অপরাধী বিচারের সম্মুখীন তাদের জন্য সুস্পষ্ট বার্তা হলো যারা কোনো অন্যায় করেননি, তারা প্রসিকিউশনের মাধ্যমে কোনো হয়রানির শিকার হবেন না। কিন্তু যারা প্রকৃত অপরাধী তাদের বার্তা দিতে চাই যে, তাদের প্রাপ্য সাজা পেতে হবে। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের দায়িত্বভার গ্রহণের পর মনে হয়েছে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্ব। জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের আকাক্সক্ষা অনুযায়ী নিজের কর্তব্য যেন পালন করতে পারি, সে চেষ্টা করব। একই সঙ্গে দক্ষতা, মেধা ও জ্ঞান দিয়ে মামলাগুলো পরিচালনা করার চেষ্টা করব। এজন্য সবার সহযোগিতা চাই। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, কারও প্রতি কোনো বিদ্বেষমূলক মনোভাব পোষণ না করে আইনের প্রত্যাশা অনুযায়ী এই বিচারকার্য পরিচালনা হবে। আমাদের মাধ্যমে কারও প্রতি কোনো বিদ্বেষ থাকবে না। বিচারের গতি আরও প্রত্যাশা রেখে আমিনুল ইসলাম বলেন, চলমান বিচারের গতি কমার সুযোগ নেই। বরং প্রসিকিউশনের মাধ্যমে এ গতি আরও বাড়বে। কারণ দেশের গতি বাড়ানোর জন্যই ক্ষমতায় এসেছে দলীয় সরকার।

আজকে একটা আনন্দ নিয়েই যাচ্ছি : সোমবার দুপুরে প্রজ্ঞাপন জারির পর ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথা বলেন। তাজুল ইসলাম বলেন, আজকে বলছি, আমি প্রত্যেকের ওপরই সন্তুষ্ট। আজকে একটা আনন্দ নিয়েই যাচ্ছি। যতদিন দায়িত্ব পালন করেছি, প্রত্যেকেই আমাকে হেল্প করেছেন। আমি আশা করব, যিনি চিফ প্রসিকিউটর আসছেন, তিনি একই ধরনের সহযোগিতা পাবেন, তিনিও সফল হবেন। বাংলাদেশকে সবাই মিলে আমরা সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব।

তাজুল ইসলাম আরও বলেন, কোনো রাজনৈতিক সরকার, কোনো নির্বাচিত নতুন সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই রাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় তারা পছন্দের লোকজন বসাবে। এটা হচ্ছে স্বাভাবিক নিয়ম। তিনি মনে করেন, এখানে ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে কোনো শঙ্কার কারণ নেই। নতুন যিনি দায়িত্বে আসছেন, তিনি বিচারপ্রার্থী নির্যাতনের শিকার ও বেদনাহত মানুষের কথা মাথায় রাখবেন। তাদের প্রতি সুবিচারের স্বার্থে এই বিচারপ্রক্রিয়া সামনে অগ্রসর হবে।

তাজুল ইসলাম বলেন, একদল যখন ক্ষমতা থেকে চলে যায়, তিনি তখন এখানে নিয়োজিত হয়েছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়। এখন নতুন সরকার এসেছে। তারা তাদের কাজের সুবিধার্থে পছন্দের লোককে এখানে বসিয়েছে। তাদের নিজস্ব পরিকল্পনা আছে। তারা নিশ্চয়ই সে অনুযায়ী এখানে লোক বসিয়েছে। তার পক্ষ থেকে নতুন লোকদের জন্য সর্বাত্মক শুভকামনা, সহযোগিতা থাকবে। পরামর্শ দরকার হলে তিনি দেবেন। তিনি একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে চাইবেন, বিচারপ্রক্রিয়া যেটা চলমান আছে, সেটা যেন অবশ্যই অব্যাহত থাকে। বাংলাদেশে এই অপরাধগুলো পুনরায় আর কখনো সংঘটিত হতে যাতে না পারে।

সদ্য বিদায়ি চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, আমার মূল পরিচয় আমি সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী। সুতরাং আমার জায়গা হচ্ছে আইন পেশা। আমি সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী হিসাবে আমার স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফিরে যাব। আমি তো একদিনের জন্য বেকার থাকছি না। আপাতত আমার পুরোনো পেশায় ফিরে যাচ্ছি।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম