Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

যুগান্তরকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী

বেশির ভাগ চুক্তি হয়েছে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে

আদানির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার, এর আগে একবার তাদের সঙ্গে বসতে চাই

Advertisement

Icon

শাহেদ সিদ্দিকী

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বেশির ভাগ চুক্তি হয়েছে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু

Advertisement

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, আওয়ামী লীগের আমলে বিদ্যুৎ খাতের বেশির ভাগ চুক্তি হয়েছে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে। এখন সেগুলো নিয়ে বিপাকে সরকার। চুক্তিগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে। সোমবার যুগান্তরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আদানির সঙ্গে চুক্তি দুর্নীতির প্রক্রিয়ায় হয়েছে। তাই সরকার এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে আদানির সঙ্গে একবার আলোচনায় বসতে চাই। বসে যদি ট্যারিফ কমাতে পারি, তাহলে দেশের লাভ হবে।’ তিনি বলেন, ‘এক সপ্তাহও হয়নি দায়িত্ব পেয়েছি। এসেই তো চাপে পড়লাম। বিশাল চাপ। শুধু বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ৪৮ হাজার কোটি টাকা। এ টাকা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবির কাছে বিভিন্ন বেসরকারি ও সরকারি কোম্পানির পাওনা। এখন এ টাকা কোথায় পাই। অন্যদিকে গ্যাসের ভয়াবহ সংকট। গ্যাস দিতে না পারলে শিল্পকারখানা থাকবে না। পুরো মন্ত্রণালয় ধ্বংস করে রেখে গেছে আওয়ামী লীগ সরকার। এখন এগুলো মোকাবিলা করতে হবে। এটাই এ মুহূর্তে বড় চ্যালেঞ্জ।’

‘আগামী দুই বছর বিদ্যুতের দাম বাড়াবে না’-এই মন্তব্যের বিষয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘আমি এভাবে বলিনি। বিদ্যুতের দাম বাড়াতে চাই না। নতুন সরকার; অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না। এ মুহূর্তে বিদ্যুতে দাম বাড়ালে তার চাপ জনগণ নিতে পারবে না। তাই আপাতত বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে কী করা যায়; বিদ্যুতের সিস্টেম লস কমানো যায় কি না-সেটা দেখতে বলেছি। সবেমাত্র কয়েকদিন হলো। আরও কিছুদিন যাক, এরপর বলতে পারব ধ্বংসপ্রায় বিদ্যুৎ খাত কীভাবে টেনে তোলা যায়। আমরা কাজ করছি।’

আদানি কয়লার দাম নিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সিঙ্গাপুরের আদালতে নালিশ বা মামলা করেছে। অন্যদিকে, বিদ্যুৎ খাত নিয়ে জাতীয় কমিটির রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে, আদানির চুক্তিতে ব্যাপক দুর্নীতি আছে। ওই দুর্নীতিতে তৎকালীন সচিব থেকে শুরু করে সবাই জড়িত। এমনকি ব্রিটিশ আইনজীবী আদানির চুক্তি বাতিলের পরামর্শ দিয়েছেন-এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চার মন্ত্রী দুই দফা বসেছিলাম। ব্রিটিশ আইনজীবী তার মতো করে মতামত দিয়েছেন। কিন্তু আমাকে বিদ্যুৎ সরবরাহসহ বিভিন্ন বিষয়ে চিন্তা করতে হবে। তবে জনগণকে বলতে পারি, বিএনপি সরকার আদানি নিয়ে একটি সিদ্ধান্ত দেবে। আদানির সঙ্গে চুক্তিতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। এর তথ্যপ্রমাণ আছে। এ ব্যাপারে জাতীয় কমিটি একটি রিপোর্ট দিয়েছে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী অবশ্যই আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে এর আগে একবার আদানির সঙ্গে বসে কথা বলতে চাই। আদানি এখন ১৪ থেকে ১৮ টাকায় বিদ্যুৎ বিক্রি করে। ভারতের অন্যান্য কোম্পানির মতো আদানি ৮/৯ টাকায় বিদ্যুৎ যদি বাংলাদেশকে দেয়, তাহলে সমস্যা কোথায়।’

তিনি বলেন, ‘জাতীয় কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী আদানি ছাড়াও এস আলম গ্রুপের এসএস পাওয়ারের সঙ্গে চুক্তিও খতিয়ে দেখা হবে। এস আলমও বড় দুর্নীতি করেছে বলে অভিযোগ আছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘২০০১ সালের নির্বাচনের পর আমি বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ছিলাম। তখনও দুর্নীতিগ্রস্ত খাত হিসাবে আওয়ামী লীগ সরকার থেকে পেয়েছিলাম। তবে বোঝা কম ছিল। পরে বিএনপি সরকার বিদ্যুৎ খাতে একটি মাস্টার প্ল্যান করে। সেই প্ল্যান অনুসরণ করলে হতো। কিন্তু তারা সেটি করেনি। বিএনপির একটি পলিসি আছে। ৩৫ শতাংশের বেশি বিদ্যুৎ খাত কোনোভাবেই বেসরকারি খাতে দেওয়া হবে না। কিন্তু দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার ৮২ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা দিয়ে দিয়েছে বেসরকারি খাতে। এখন বেসরকারি খাতের কাছে জনগণ জিম্মি। শুধু তাই নয়, বেশির ভাগ বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তিতে সার্বভৌম গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি, বিদ্যুৎ শুধু একটি পণ্য নয়, এটি দেশের স্বাধীনতা। রাষ্ট্রকে বন্ধক দিয়ে চুক্তি করা মানে দেশের স্বাধীনতাকে খর্ব করা। এর আরও একটু ব্যাখ্যা দিই, এখন অনেক চুক্তি বাতিল করতে চেয়েও থমকে যেতে হয়। চিন্তা করতে হয়, বিদ্যুতের জন্য অন্যের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। এটা কি ভালো?’

গ্যাস খাত নিয়ে তিনি বলেন, ‘গ্যাসের ব্যাপক সংকট আছে। চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট হলেও সরবরাহ ২৬০ কোটি ঘনফুট। অনেক শিল্পকারখানা বসে আছে নতুন সরকার শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য কিছু একটা করবে। সিস্টেম লস কমিয়ে আপাতত কিছু করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া বাপেক্সকে শক্তিশালী করা হবে। তাদের জন্য রিগ কেনা হচ্ছে। ভূমি (অনশোর) এবং সমুদ্রে (অফশোর) পিএসসির মাধ্যমে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ব্লক বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল-এফএসআরইউ করা যায় কি না, তা নিয়ে কাজ চলছে। যে কোনোভাবে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে হবে। সব বিষয় নিয়ে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনাসহ শিগ্গির প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আগ্রহী। প্রধানমন্ত্রীকে সবকিছু জানাব। কিছু বিষয়ে তার সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।’

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার দেশের জন্য ভালো কিছু করতে চায়। একটু সময় দেন। অবশ্যই আমরা ভালো কিছু করব।’

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম