যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ল ব্রিটেনও
প্রতিশোধের আঘাত ২৭ মার্কিন ঘাঁটিতে
ভূ-গর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে বি-২ বিমান থেকে বোমা হামলা
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইরানের রাজধানী তেহরান লক্ষ্য করে দ্বিতীয় দিনের মতো হামলা চালিয়েছে ইসরাইল-মার্কিনিরা। রোববার বোমার মুহুর্মুহু বিস্ফোরণে কেঁপে উঠছিল তেহরানের আকাশ-বাতাস। এ হামলায় সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ ও গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া এই হামলায় ইরানে অন্তত ১৩৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এদিকে সর্বোচ্চ নেতা খামেনির মৃত্যুতেও ভেঙে না পড়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইলসহ তাদের মিত্রদের দাঁতভাঙা জবাব দিতে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এসব হামলায় অন্তত ২০০ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, নেতানিয়াহুকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। খবর রয়টার্স, বিবিসি, আলজাজিরার।
বিবিসি জানিয়েছে, তেহরানে ভোরের আলো ফোটার আগে থেকেই মার্কিন-ইসরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণ অব্যাহত ছিল। ইরানের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ছোড়া হয় একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র। যুদ্ধজাহাজ বা লঞ্চার থেকে নিক্ষেপ করা এসব ক্ষেপণাস্ত্র বলতে গেলে কোনোরকম বাধা ছাড়াই আঘাত হানে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন প্রদেশে। রোববার তেহরান ছাড়াও তাবরিজ, কোম, কারাজ, কেরমানশাহসহ ৩৩টি প্রদেশের মধ্যে ২৪টিই যৌথ হামলার শিকার হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় ইরানে ১২০০র বেশি বোমা ফেলার দাবি করেছে ইসরাইল। আইডিএফ বলেছে, ইরানের শাসকগোষ্ঠী, কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় ব্যাপক আঘাত করে উল্লেখযোগ্য সফলতা পেয়েছি। আইডিএফের প্রথম আক্রমণের এক মিনিটের মধ্যে ইরানের শাসকগোষ্ঠীর ৪০ কমান্ডার এবং সিনিয়র সদস্য নিহত হয়েছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা কয়েক ডজন যুদ্ধবিমানের মাধ্যমে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ এবং প্রতিরক্ষাব্যবস্থা লক্ষ্য করে আরও একদফা হামলা শুরু করেছে। আইডিএফ সর্বশেষ আপডেটে জানিয়েছে, ‘ইসরাইলি বিমানবাহিনী ইরানজুড়ে ৩০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, যার মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, সরকারি লক্ষ্যবস্তু এবং সামরিক কমান্ড সেন্টার রয়েছে।’ পালটা হামলায় ভারি হয়ে উঠেছে ইরানের আকাশ। স্থানীয় সময় রোববার রাত ৯টার দিকেও পরপর দুটি বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে তেহরান। বসে নেই যুক্তরাষ্ট্রও। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেছেন , ইরানের ৯টি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ইরানের ভূ-গর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ধ্বংসে বি-২ বোমারু বিমান থেকেও বোমা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রোববার ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের এক বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার দুই হাজার পাউন্ডের বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে জুনের ১২ দিনের যুদ্ধেও ভূ-গর্ভস্থ পারমাণবিক কেন্দ্র ধ্বংসে দানবাকৃতির এ বোমারু বিমান থেকে হামলা চালায় ওয়াশিংটন। যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে ব্রিটেনও। একদিন পরে হলেও ‘বৈশ্বিক মিত্র’ ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াল দেশটির রয়েল এয়ার ফোর্স (আরএএফ)। রোববার কাতারের দিতে এগোতে থাকা ইরানের এক ড্রোন ভূপাতিত করেছে আরএএফ। বিবিসি।
এদিকে শনিবার ইরানের রাজধানীতে প্রাণঘাতী মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের মৃত্যু সত্ত্বেও বোমা হামলা অব্যাহত থাকবে বলে ট্রাম্প সতর্ক করেছেন। রোববার সকালে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, ‘সেন্টকম এখন নির্দেশ অনুযায়ী দ্রুত এবং সিদ্ধান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।’ এদিকে ফক্স নিউজে এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়, অভিযানের প্রথম ১২ ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানজুড়ে প্রায় ৯০০টি হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে ইরান প্রায় ৩০০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক ইরানি মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, শনিবার থেকে শুরু হওয়া যৌথ হামলায় অন্তত ১৩৩ জন ইরানি নিহত এবং ২০০ জন আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ১৮টি প্রদেশজুড়ে অন্তত ৫৮টি হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে তেহরানে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক ঘটনা ঘটেছে। এদিকে তেহরানের হামলায় ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নারনাকে বিমান হামলায় বেশ কয়েকজন দেহরক্ষীসহ আহমাদিনেজাদ নিহত হয়েছেন। তিনি ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এদিকে বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, যৌথ হামলায় ইরানের গোয়েন্দা পুলিশের সংস্থা-ফারাজার প্রধান গোলামরেজা রেজাইয়ান নিহত হয়েছেন। রেজাইয়ান এর আগে ইমিগ্রেশন এবং ফরেন ন্যাশনাল পুলিশ, চিফ অব ইন্টেলিজেন্স এবং পাবলিক সিকিউরিটি পুলিশের প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি ইরানের পুলিশ বাহিনীর ডিরেক্টর অব জেনারেল ইন্সপেক্টরের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।
এদিকে সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পরও ইসরাইল-মার্কিন আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দিয়ে যাচ্ছে তেহরান। ইরানের পক্ষে স্পিকার সতর্ক করে দিয়ে বলেন, খামেনির মৃত্যু পরবর্তী পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে। প্রতিরক্ষা বাহিনী এখন পর্যন্ত তাদের ক্ষমতার একটি অংশ শুধু ব্যবহার করেছে। স্পষ্ট করে বলছি-ট্রাম্প, নেতানিয়াহু এ দুই কুৎসিত অপরাধী তাদের রেডলাইন ছাড়িয়ে গেছে। এর মূল্য তাদের দিতেই হবে।
যৌথ হামলার জবাব দিতে নতুন করে একযোগে মধ্যপ্রাচ্যের ২৭ মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে ইসরাইলের রাজধানী তেলআবিবসহ বিভিন্ন শহরে ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। রোববার এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনীর যৌথ হামলা ও বোমাবর্ষণের পালটা প্রতিশোধ হিসাবে এটি ছিল তেহরানের পক্ষ থেকে ষষ্ঠ দফার হামলা। এই অভিযানে ইসরাইল এবং অঞ্চলের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় মার্কিন ঘাঁটিগুলো ছাড়াও ইসরাইলের তেল নোফ বিমান ঘাঁটি, তেলআবিবে অবস্থিত ইসরাইলি সেনাবাহিনীর প্রধান সদর দপ্তর ‘হাকিরিয়া’ এবং একই শহরের একটি বিশাল প্রতিরক্ষা শিল্প কমপ্লেক্স অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রোববার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলের বেইট শেমেশ শহরে নয়জন নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৩ জন নিহত এবং ৫৮ জন আহত এবং কুয়েতে একজন নিহত ও ৩২ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে হামলার কথা জানিয়েছে আইআরজিসি। সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত হওয়ার পর তারা উপসাগরে বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন বিমানবাহী রণতরি আব্রাহাম লিংকন চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে আঘাত করা হয়েছে। হুঁশিয়ারি দিয়ে এতে বলা হয়, জল-স্থল সর্বত্রই সন্ত্রাসী আগ্রাসনকারীদের কবরস্থানে পরিণত হবে। জানুয়ারির শেষ থেকে আরব সাগরে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন অবস্থান করে আসছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ হামলার ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসরসহ মধ্যপ্রাচ্যের ১২টিরও বেশি দেশে সামরিক ঘাঁটি আছে যুক্তরাষ্ট্রের।
এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে যৌথ হামলায় অন্তত ৪০ জন কর্মকর্তা নিহত হওয়ার খবর এলেও ইরান এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তারা হলেন-সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, খামেনির নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলী শামখানি, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল আবদুর রহিম মুসাভি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, আইআরজিসির সর্বাধিনায়ক মোহাম্মদ পাকপুর। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, সশস্ত্র বাহিনীর আরও কয়েকজন কমান্ডার নিহত হয়েছেন এবং তাদের নাম পরে জানানো হবে। এছাড়া ইসরাইলি হামলায় দুই শতাধিক ব্যক্তি নিহত হওয়ার খবর জানা গেছে; তাদের মধ্যে শতাধিক বেসামরিক নাগরিক বলে জানিয়েছে স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা।
ক্ষতিগ্রস্ত দুবাইয়ের ল্যান্ডমার্ক বুর্জ আল আরব হোটেল : ইরানের পালটা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দুবাইয়ের ল্যান্ডমার্ক বা পরিচিতি চিহ্ন হিসাবে পরিচিত বুর্জ আল আরব হোটেল। এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও স্বার্থের বাইরে গিয়েও আঘাত হেনেছে। রোববার ভোরে আমিরাতের জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, বিমানবন্দরে চারজন আহত হয়েছেন। রয়টার্স জানিয়েছে, দুবাই ইন্টারন্যাশনালের (ডিএক্সবি) একটি কনকোর্সে একটি ঘটনার জেরে সামান্য ক্ষতি হয়েছে, যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। পরে তারা আরও নিশ্চিত করে যে একটি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। আকাশে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ফলে ছিটকে পড়া ধ্বংসাবশেষ বুর্জ আল আরবের বাইরের অংশে ছোট আকারের আগুনের ঘটনা ঘটায়।
ইরানে ‘অবৈধ আগ্রাসন’ চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র : ইরানে ইসরাইলের হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানকে ‘অবৈধ আগ্রাসন’ হিসাবে আখ্যা দিয়ে এর চরম নিন্দা জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এক বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই হামলাকে ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। রোববার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএর এক প্রতিবেদনে ওই তথ্য জানানো হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযান প্রত্যাশিতই ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যবাদী এবং গুন্ডামিসুলভ আচরণে এমন ঘটনা অনিবার্য বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
ব্রিটিশ ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র : ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাস লক্ষ্য করে কমপক্ষে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান, যেখানে যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটিতে হাজার হাজার ব্রিটিশ সৈন্য অবস্থান করছে। রোববার স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হেলি। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি না যে এগুলো সরাসরি সাইপ্রাসের অবস্থিত আমাদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। তবে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ বুঝিয়ে দিচ্ছে, ইরানি শাসনব্যবস্থা অঞ্চলজুড়ে ব্যাপকভাবে আক্রমণাত্মক আচরণ করছে এবং সেখান থেকে একটি বাস্তব ও ক্রমবর্ধমান হুমকি তৈরি হয়েছে-যা আমাদের পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করছে।’
কমপক্ষে ২০০ মার্কিন সেনা নিহত : ইরানের আইআরজিসি দাবি করেছে, তাদের হামলায় অন্তত ২০০ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। তবে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে আইআরজিসি অন্তত ২০০ মার্কিন সেনা হত্যা করার দাবি করেছে। তারা আরও দাবি করেছে, সেন্টকমের একটি যুদ্ধজাহাজও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তেহরান এই সফল হামলাকে তাদের ‘অপারেশন ট্রুথফুল প্রমিজ ৪’-এর বড় বিজয় হিসাবে প্রচার করছে।
