Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

ইরানের হামলায় সৌদির বৃহৎ তেল শোধনাগার বন্ধ

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ইরানের হামলায় সৌদির বৃহৎ তেল শোধনাগার বন্ধ

সৌদি আরবের দাম্মামের রাস তানুরা তেল শোধনাগারে ইরানের হামলার পর কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা যায় -এএফপি

Advertisement

সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি ‘সৌদি আরামকো’ ইরানের ড্রোন হামলার পর দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাস তানুরা তেল শোধনাগারের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। সোমবার হামলার জেরে সেখানে আগুন ধরে গেলে উৎপাদন ও লোডিং কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। আরামকোর অন্যতম প্রধান এ শোধনাগারে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল প্রক্রিয়াজাত করা হয়।

এদিকে ইরানের হামলার মুখে বিশ্বের অন্যতম প্রধান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘কাতার এনার্জি’র উৎপাদন বন্ধের ঘোষণায় ইউরোপে গ্যাসের দাম ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে। খবর এএফপি, রয়টার্সের।

ব্লুমবার্গ ও রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় সৌদি আরবে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি আরামকো। রাস তানুরা উপসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত এবং এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল রপ্তানি টার্মিনাল। এখান থেকে ইউরোপ ও এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বাজারে-বিশেষ করে চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় বিপুল পরিমাণ সৌদি অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করা হয়। এই টার্মিনাল ও শোধনাগার মিলেই সৌদি আরবের মোট তেল রপ্তানির একটি বড় অংশ পরিচালিত হয়। হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত ‘ব্র্যান্ট ক্রুড’ ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।

এদিকে ইরানে হামলার মুখে বিশ্বের অন্যতম প্রধান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘কাতার এনার্জি’র উৎপাদন বন্ধের ঘোষণায় ইউরোপে গ্যাসের দাম ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে। সোমবার গ্যাস উত্তোলন উৎপাদন বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে কাতার এনার্জি। উড ম্যাকেঞ্জির গ্যাস ও এলএনজি গবেষণা বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাসিমো দি ওদোয়ার্দো বলেন, এলএনজি প্রবাহে বিঘ্ন ঘটলে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে অবশিষ্ট কার্গোগুলো গ্যাস পাওয়ার জন্য নতুন করে প্রতিযোগিতা শুরু করবে। আইসিই’র তথ্য অনুযায়ী, ডাচ টিটিএফ হাবের সামনের মাসের চুক্তিমূল্য ১৪ দশমিক ৫৬ ইউরো বেড়ে ৪৬ দশমিক ৫২ ইউরো (প্রতি মেগাওয়াট ঘণ্টা) দাঁড়িয়েছে। আলজাজিরা জানিয়েছে, দিনের শুরুতেই দাম ২৫ শতাংশ বেশি ছিল। কাতার এনার্জির উৎপাদন বন্ধের খবরের পর সেই ঊর্ধ্বগতি আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

বিবিসি, অয়েল প্রাইস ডটকমের খবরে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে সংকটের কারণে সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিছু বিশ্লেষক সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াতে পারে।

এদিকে তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সোমবার ওয়ালস্ট্রিটে সূচক পতনের আভাস পাওয়া গেছে। ওয়ালস্ট্রিটের ফিউচার সূচক কমে গেছে। ইউরোপেও একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ বিশেষ পরিস্থিতির কথা বলে শেয়ারবাজার বন্ধ করে দিয়েছে। সোমবার এশিয়ার বাজারে তেলের দাম ১০ শতাংশের বেশি বেড়ে গিয়েছিল, যদিও পরে তা কিছুটা কমে আসে। সোমবার এক পর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৭৬ দশমিক ৪০ ডলার। অর্থাৎ দাম বেড়েছে ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। একই সময়ে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেড়ে ৬৯ দশমিক ৯৯ ডলারে উঠেছে।

সিএনএন জানায়, পশ্চিমা দেশগুলোতে সপ্তাহের প্রথম দিনে শেয়ারবাজারের ‘ফিউচার’ সূচকগুলোর পতন হয়েছে। ওয়ালস্ট্রিটের এসঅ্যান্ডপি ৫০০, নাসডাক কম্পোজিট, ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ফিউচার-সব কটিই প্রায় ১ শতাংশ করে কমেছে। তবে তেল কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। এক্সন মবিল, শেভরনসহ আরও অনেক জ্বালানি কোম্পানির শেয়ারের আগাম দাম প্রায় ২ শতাংশ করে বেড়েছে। প্রতিরক্ষা খাতের শেয়ারও সামান্য ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

ফিউচার (ভবিষ্যৎ চুক্তি) হলো এমন ধরনের আর্থিক চুক্তি, যার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা আগাম নির্ধারিত দামে ভবিষ্যতের কোনো তারিখে শেয়ার, পণ্য বা সূচক কেনাবেচার অঙ্গীকার করেন। বাজার খোলার আগেই ফিউচার লেনদেন দেখে বিনিয়োগকারীরা দিনটি সম্পর্কে আগাম ধারণা পান।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম