Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব

রিজার্ভ বাড়ানো হচ্ছে, বৃদ্ধি পাচ্ছে ডলারের দাম

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রিজার্ভ বাড়ানো হচ্ছে, বৃদ্ধি পাচ্ছে ডলারের দাম

Advertisement

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপাশি ডলারের দাম কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতে নিট রিজার্ভ পৌনে ৩১ বিলিয়ন (১০০ কোটিতে এক বিলিয়ন) ডলারে ওঠেছিল। রোববার এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) দায় সমন্বয় করার পর তা ২৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। এদিকে ডলারের দাম গত ৩ কার্যদিবসে সর্বোচ্চ ১৫ পয়সা বেড়েছে। এদিকে দাম আরও বাড়ার আগেই জ্বালানি উপকরণসহ অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আমদানির জন্য ব্যাংকগুলোতে এলসি খোলার হারও বেড়েছে। যে কারণে হঠাৎ করে ব্যাংকগুলোতে ডলারের চাহিদা বাড়ায় দামও বাড়তে শুরু করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রোববারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতে দেশের গ্রস রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৩ হাজার ৫৫০ কোটি ডলার। একই দিনে নিট রিজার্ভ বেড়ে হয় ৩ হাজার ৭৭ কোটি ডলার। ফেব্রুয়ারিতে নিট রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ৩৬ কোটি ডলার। রপ্তানি আয় কমার পরও শুধু রেমিট্যান্স বাড়ায় ও আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে থাকায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ বাড়ানোর নীতি গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি রেমিট্যান্স বাড়ানো, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বিলাসী পণ্যের আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে জরুরি পণ্য আমদানির জন্য এলসি খুলতে ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এলসি খোলা, ডলারের সরবরাহ ও চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দামের তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক সার্বক্ষণিকভাবে তদারকি করছে।

রেমিট্যান্স বাড়ানোর জন্য প্রবাসীদের বিদেশে ব্যাংকিং সুবিধা আরও বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে হুন্ডির প্রভাব কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক পদক্ষেপ নিচ্ছে। রেমিট্যান্স খাতে সরকারের দেওয়া প্রণোদনা অব্যাহত রাখা হবে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোও রেমিট্যান্স বাড়াতে কিভাবে প্রবাসীদের প্রণোদনা দিতে পারে সেটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

২০০২ সালে ডলারের তীব্র সংকটের সময় রেমিট্যান্স বাড়ানোর জন্য সরকারের আড়াই শতাংশ প্রণোদনার পাশাপাশি ব্যাংকগুলো নিজস্ব তহবিল থেকে সর্বোচ্চ আড়াই শতাংশ হারে প্রণোদনা দিয়েছিল। সঙ্গে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ আরও কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দ্রুত প্রবাসীদের উপকারভোগীদের কাছে রেমিট্যান্সের অর্থ পৌঁছে দেওয়ার পদক্ষেপগুলোতে তদারকি বাড়ানো হচ্ছে।

এদিকে রোববার আন্তঃব্যাংকে ডলারের দাম আরও একদফা বেড়েছে। এদিন আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে ডলারের দাম বেড়ে সর্বোচ্চ ১২২ টাকা ৪৫ পয়সায় উঠেছে। মঙ্গলবার সর্বোচ্চ দর ছিল ১২২ টাকা ৪০ পয়সা। সর্বোচ্চ দর হিসাবে এর দাম বেড়েছে ১৫ পয়সা।

ডলারের সর্বনিম্ন দর রোববার ছিল ১২২ টাকা ৩৫ পয়সা। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দরের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১০ পয়সা। এদিকে আন্তঃব্যাংকে বাড়ার কারণে ব্যাংকগুলোও আমদানির বিপরীতে ডলার বিক্রির দামও বাড়িয়েছে। গত সপ্তাহে আমদানিতে ডলারের গড় দাম ছিল ১২২ টাকা ৭০ পয়সা। রোববার তা বেড়ে হয়েছে ১২২ টাকা ৭৮ পয়সা। এদিকে রোববার আকুর দায় বাবদ ১৩৭ কোটি ডলার পরিশোধের পর রিজার্ভ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে রিজার্ভ কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৩৮ কোটি ডলার। জানুয়ারিতে আকুর দায় পরিশোধের পর রিজার্ভ আরও কমে গিয়েছিল। ওই সময়ের তুলনায় আকুর দায় পরিশোধের পরও রিজার্ভ এখনো বেশি রয়েছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম