জ্বলছে ইরান, কাঁপছে ইসরাইল
গণহত্যার ছক যুক্তরাষ্ট্রের
ইরান ইস্যুতে পেন্টাগনের তহবিল আটকে দেওয়ার হুমকি * যুদ্ধ শেষের সিদ্ধান্ত হবে নেতানিয়াহুর সঙ্গে : প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প * মিশন সম্পন্ন হলে বিশ্ব আরও নিরাপদ হবে : মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী * ইরানে যুদ্ধ বন্ধে তৎপরতা শুরু করেছে চীন ও রাশিয়া * ইরানে হামলায় অংশ না নেওয়ার ঘোষণা আরব আমিরাতের
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সমর্থনে সোমবার তেহরানে গণমিছিল -এএফপি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল-ইরানের ত্রিমুখী যুদ্ধ এখন রূপ নিয়েছে জ্বালানিযুদ্ধে। শুরুতে লক্ষ্যবস্তু সামরিক স্থাপনা থাকলেও এখন পরস্পরে জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে চলছে পালটাপালটি হামলা। শুধু সামরিক দিক থেকে নয়, অর্থনৈতিকভাবেও একে অপরকে কাবু করার চেষ্টা চালাচ্ছে ওয়াশিংটন-তেল আবিব-তেহরান। সোমবার যুদ্ধের দশম দিন যৌথ বাহিনীর হামলায় ইরানে যেমন আগুন জ্বলেছে, তেমনই পালটা হামলায় কেঁপে উঠেছে ইসরাইল, বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরব এবং আমিরাতও। এ অবস্থায় ইরানকে কাবু করতে বেসামরিক স্থাপনায় হামলার মাধ্যমে গণহত্যার ছক কষছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা সতর্ক করে বলেছে, সামরিক স্থাপনা রয়েছে এমন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ‘আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু’ হতে পারে। খবর বিবিসি, সিএনএন, রয়টার্স, এএফপি, আলজাজিরার।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার নাম ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা জানায়। ইসরাইলকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয় একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র। যুদ্ধ শুরুর পর আইআরজিসির ৩০ দফা এ হামলায় তেল আবিবসহ বন্দরনগরী হাইফা এবং মধ্য ইসরাইলের বিভিন্ন স্থাপনায় সফলভাবে আঘাত করা হয়। ইরানের লক্ষ্য ছিল আইডিএফ-এর কয়েকটি ঘাঁটি। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আবাসিক এলাকায়। সেখানে প্রাণহানির খবরও পাওয়া গেছে। ভূগর্ভস্থ বাংকারও ধ্বংস হয়েছে। ইসরাইলও নতুন করে হামলার ঘোষণা দেয়। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ দেশের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিমান হামলা চালাচ্ছে। সিএনএন জানায়, ইরানের রাজধানী তেহরানে বেশ কয়েকটি বড় আওয়াজ শোনা গেছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হিজবুল্লাহর অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। রয়টার্সের ভিডিওতে দেখা যায়, শহরের দক্ষিণের উপশহরগুলো থেকে ধোঁয়া উড়ছে। পৃথক ভিডিওতে দেখা যায়, বৈরুতের একটি হোটেলে আগুন জ্বলছে। হোটেলের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা বৈরুতে রাতে হামলা চালিয়ে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের কুদস ফোর্সের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডারকে হত্যা করেছে। আবর দেশগুলোর মধ্যে বাহরাইনের প্রধান তেল শোধনাগারে সোমবার হামলা চালানো হয়েছে। ড্রোন হামলায় সেখানে আহত হয়েছেন ৩২ জন। হামলার পর তেল শোধনাগার থেকে ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। হামলার শিকার বাহরাইন পেট্রোলিয়াম কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তাই তারা চুক্তি অনুযায়ী তেল সরবরাহের বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে পারছে না।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে বড় ধরনের একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চারটি ড্রোন একটি বৃহত্তম তেলক্ষেত্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। তখন মরু এলাকায় ড্রোনগুলো প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়। কুয়েতের ন্যাশনাল গার্ড জানিয়েছে, তারা একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষিত রাখতে ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের সশস্ত্র বাহিনী একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্পাই রাডার ধ্বংস করার দাবি করেছে তেহরান। সৌদি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের নিহত হয়েছেন আরও এক সেনা। এ নিয়ে ইরানের হামলায় মার্কিন সেনা নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ জনে। এর আগে ইরানের অর্ধশতাধিক গোলাবারুদ ও জ্বালানি সংরক্ষণাগারে হামলা চালায় ইসরাইল। রাজধানী ছাড়াও তাবরিজ, ইসফাহান, বন্দর আব্বাসে চালানো হয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। বিস্ফোরণে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয় কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনা। এছাড়াও ইরানের রকেট ইঞ্জিন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের কয়েকটি লঞ্চিং সাইটেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিমান হামলা চালাচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়, আইডিএফ ইরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ইরানি শাসকদের অবকাঠামোর ওপর নতুনভাবে হামলা শুরু করেছে।
ইরানের তেল চায় যুক্তরাষ্ট্র : ইরানকে বিভক্ত করে তেলসম্পদ দখল করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের এক সংবাদ সম্মেলনে সোমবার ওয়াশিংটনের এ উদ্দেশ্য পরিষ্কার করেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি বলেন, তাদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট, তাদের উদ্যোগ বেশ স্পষ্ট-আমাদের তেলসম্পদ অবৈধভাবে দখলে আমাদের দেশকে বিভক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। সিএনএনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এদিন ইরানের দীর্ঘ যুদ্ধ কৌশলে নেপথ্য কারণ তুলে ধরেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের বৈদেশিক নীতি উপদেষ্টা কামাল খারাজি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কূটনীতির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলেন, এই যুদ্ধ এখন কেবল ‘অর্থনৈতিক আঘাতের’ মাধ্যমেই শেষ হতে পারে। আমি এখন আর কূটনীতির কোনো জায়গা দেখছি না।’ স্পষ্ট করে বলেন, অর্থনৈতিক চাপ এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে হবে যাতে অন্য দেশগুলো এই সংঘাত থামাতে বাধ্য হয়। তিনি পরামর্শ দেন, উপসাগরীয় আরব দেশ এবং অন্য রাষ্ট্রগুলোর উচিত যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, যাতে তারা এই আগ্রাসন বন্ধ করে। তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধ অন্যদের ওপর প্রচুর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে-তা সে মুদ্রাস্ফীতিই হোক বা জ্বালানির অভাব। যুদ্ধ চলতে থাকলে এই চাপ আরও বাড়বে এবং তখন অন্যদের হস্তক্ষেপ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।’
বেসামরিক স্থপনায় হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র : ইরানের জনবহুল শহরগুলো এবং বেসামরিক স্থাপনায় আবারও হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে ১৫০ ছাত্রীকে হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক সমালোচনার পরও থেমে যায়নি ওয়াশিংটন। রোববার মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) ইরানিদের সতর্ক করে দিয়েছে, সামরিক স্থাপনা থাকা ঘনবসতিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো ‘আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু’ হতে পারে। মার্কিন বাহিনী ইরানের বেসামরিক নাগরিকদের ঘরে থাকার জন্য জোরালোভাবে আহ্বান জানাচ্ছে। ইরানি সরকার জেনেশুনে নিরীহ মানুষের জীবন বিপন্ন করছে। সেন্টকম এক বিবৃতিতে আরও বলেছে, ইরানি বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে এবং নির্বিচারে বেসামরিক বিমানবন্দর, হোটেল এবং আবাসিক এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরীহ মানুষের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করছে। সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, ‘ইরানের সরকার উপসাগরীয় অংশীদারদের ওপর আক্রমণ করে বেসামরিক নাগরিকদের জীবনকে স্পষ্টতই উপেক্ষা করছে এবং তাদের নিজস্ব জনগণের নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করছে।’ ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে ইরান শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং হাজার হাজার একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন উৎক্ষেপণ করেছে।
ইরানে মিশন সম্পন্ন হলে বিশ্ব আরও নিরাপদ হবে : মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানে চলমান মিশন শেষ হলে বিশ্ব আরও নিরাপদ ও সুন্দর হবে। ওয়াশিংটন ডিসিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই মিশনের লক্ষ্য ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় জিম্মিকারী ও সন্ত্রাসবাদের সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক ইরানের শাসনব্যবস্থা।’ তিনি জানান, এই মিশনের মূল উদ্দেশ্য হল ইরানি শাসনব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সক্ষমতা ধ্বংস করা, এসব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো ধ্বংস করা এবং তাদের নৌবাহিনী ধ্বংস করা। আমরা ইতোমধ্যে সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে অনেক দূর এগিয়ে গেছি।’
ইরান ইস্যুতে পেন্টাগনের তহবিল আটকে দেওয়ার হুমকি : ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে পেন্টাগনের জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাবে বাধা দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। ট্রাম্প প্রশাসন এই যুদ্ধের লক্ষ্য বা স্থায়িত্ব সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দিতে ব্যর্থ হয়েছে-এমন অভিযোগ তুলে তারা এই কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। গত বছর দ্বিপক্ষীয় সম্মতির ভিত্তিতে চলতি অর্থবছরের জন্য প্রতিরক্ষা খাতে প্রায় ৯০০ বিলিয়ন ডলারের বাজেট অনুমোদন করেছিল কংগ্রেস। তবে ইরান যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসন আইনপ্রণেতাদের অতিরিক্ত তহবিলের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে। এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে সোমবার প্রতিনিধি পরিষদের নেতা হাকিম জেফরিস বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান স্বঘোষিত যুদ্ধের কারণ বা যৌক্তিকতা প্রমাণের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। প্রশাসন আইনপ্রণেতাদের ব্রিফিং দিলেও পেন্টাগন ঠিক কত টাকা চাইবে বা এই যুদ্ধ কতদিন চলবে, সে বিষয়ে কোনো স্বচ্ছ ধারণা দেয়নি। সিনেটে যে কোনো বিল পাশের জন্য প্রয়োজনীয় ৬০টি ভোট পাওয়ার সম্ভাবনাও এখন ক্ষীণ। কানেকটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি সিএনএন-এর ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ অনুষ্ঠানে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এই তহবিলের তীব্র বিরোধী। মারফি বলেন, ‘আপনি যদি সত্যিই সেনাদের ভালোবাসেন, তবে এই যুদ্ধের তহবিলের বিপক্ষে ভোট দেওয়া উচিত, যাতে আমাদের সেনাদের বিপদ থেকে সরিয়ে আনা যায়।’ গত সপ্তাহে অধিকাংশ রিপাবলিকান সিনেটর ট্রাম্পের যুদ্ধকালীন ক্ষমতা খর্ব করার প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেছিলেন, তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তাদের অবস্থান পরিবর্তন হতে পারে বলে অনেকে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ইরানে হামলায় অংশ না নেওয়ার ঘোষণা আমিরাতের : মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ‘অযাচিতভাবে’ লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। সোমবার জাতিসংঘে নিযুক্ত আমিরাতের রাষ্ট্রদূত এই অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাত অংশ নেবে না বলেও তিনি জানিয়ে দিয়েছেন। জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাষ্ট্রদূত জামাল আল মুশারখ বলেন, বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতির আগে এবং এখনো আমরা অত্যন্ত স্পষ্ট করে বলেছি, আরব আমিরাত তার ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় অংশ নেবে না এবং আমরা এ ধরনের কোনো সংঘাতে জড়াব না।
যুদ্ধ শেষের সিদ্ধান্ত নেতানিয়াহুর সঙ্গে যৌথভাবে হবে : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ কখন শেষ করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে যৌথভাবে নেবেন। রোববার দ্য টাইমস অব ইসরাইলকে ফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ কথা বলেন। ট্রাম্প জানান, এ বিষয়ে তাদের দুজনের মধ্যে কথাবার্তা চলছে। সঠিক সময়ে তিনি একটি সিদ্ধান্ত নেবেন। যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন ইসরাইল একাই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে কি না-এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি সেই সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না, সেটি প্রয়োজন হবে।’
যুদ্ধ বন্ধের মধ্যস্থতায় সৌদি সফরে চীনের বিশেষ দূত : ইরান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার লক্ষ্যে সৌদি আরব সফর করছেন চীনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত ঝাই জুন। চীনের বিশেষ দূত বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি-স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অবিরাম চেষ্টা চালাতে রিয়াদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত বেইজিং। সফরকালে তিনি সৌদির আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এদিকে বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে অনতিবিলম্বে যুদ্ধ বিরতি আহ্বান করতে নিরাপত্তা পরিষদের জন্য একটি প্রস্তাব তৈরি করেছে। ওই খসড়ায় মধ্যপ্রাচ্যসহ এর আশপাশে সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পরা এবং হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে অনতিবিলম্বে সামরিক কার্যক্রম বন্ধে সব পক্ষের প্রতি জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামরিক আক্রমণ অব্যাহত থাকা অবস্থায় যুদ্ধবিরতির আলোচনার কোনো সুযোগ নেই।
ইউক্রেনের সহায়তা চায় ১১ দেশ : ইরান ও রাশিয়ার তৈরি ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেনের সহায়তা চায় যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্তত ১১টি দেশ। সোমবার নিজের এক্স পোস্টে এ কথা জানান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ড্রোন প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও এ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের জন্য ১১ দেশের কাছ থেকে অনুরোধ পেয়েছে কিয়েভ।
